মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক আকাশপথে ভ্রমণে। যুদ্ধের কারণে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া জ্বালানির দাম সামাল দিতে বিশ্বজুড়ে বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো টিকিটের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে অনিশ্চয়তার কারণে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পূর্বাভাসও স্থগিত করেছে কিছু সংস্থা। ফলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জ্বালানির দামে হঠাৎ বিস্ফোরণ
যুদ্ধ শুরুর আগে বিমান জ্বালানির দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সামরিক হামলার পর সেই দাম লাফিয়ে ১৫০ থেকে ২০০ ডলারের মধ্যে পৌঁছে গেছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বিমান শিল্পকে বড় চাপের মুখে ফেলেছে।
বিমান সংস্থাগুলোর জন্য শ্রম ব্যয়ের পরেই জ্বালানি দ্বিতীয় বৃহত্তম খরচ। সাধারণত পরিচালন ব্যয়ের প্রায় এক পঞ্চমাংশ থেকে এক চতুর্থাংশ পর্যন্ত জ্বালানিতে ব্যয় হয়। ফলে জ্বালানির এমন উল্লম্ফন সরাসরি টিকিটের দামে প্রভাব ফেলছে।

টিকিটের দাম বাড়াচ্ছে একাধিক বিমান সংস্থা
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ইতিমধ্যে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। কিছু সংস্থা সাময়িক মূল্য সমন্বয় করেছে, আবার কেউ কেউ নির্দিষ্ট রুটে ভাড়া বাড়িয়েছে।
একটি বড় বিমান সংস্থা তাদের অভ্যন্তরীণ একমুখী যাত্রার অর্থনীতি শ্রেণির ভাড়া বাড়িয়েছে প্রায় ১০ নিউ জিল্যান্ড ডলার। স্বল্প দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটে বাড়ানো হয়েছে প্রায় ২০ ডলার এবং দীর্ঘ দূরত্বের রুটে প্রায় ৯০ ডলার পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানির দাম আরও বাড়লে ভবিষ্যতে সময়সূচি ও ভাড়ায় নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে একটি হংকংভিত্তিক বিমান সংস্থা ঘোষণা করেছে, তাদের জ্বালানি অতিরিক্ত চার্জ সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে। মালদ্বীপ, বাংলাদেশ ও নেপালগামী ফ্লাইটে এই বৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে।

আকাশপথে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় তৈরি হয়েছে বিশৃঙ্খলা। সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় কিছু ফ্লাইটকে সাময়িকভাবে আকাশে অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেগুলো অবতরণ করে।
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকির কারণে অনেক বিমান সংস্থা এখন বিকল্প রুট ব্যবহার করছে। এতে ফ্লাইটের দূরত্ব বাড়ছে এবং আসনসংখ্যা সীমিত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী রুটগুলোতে টিকিটের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে।
জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু দামই নয়, জ্বালানির প্রাপ্যতাও সংকটে পড়তে পারে। ইউরোপে বিমান জ্বালানির বড় সরবরাহকারী কয়েকটি দেশের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে বিমান শিল্প আরও বড় চাপে পড়তে পারে।

শেয়ারবাজারে কিছুটা স্থিতি
যুদ্ধের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রথমদিকে বিমান সংস্থাগুলোর শেয়ার বড় ধাক্কা খায়। তবে পরে কিছুটা স্থিতি ফিরে আসে। ইউরোপে বাজার খোলার পর বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থার শেয়ার চার থেকে সাত শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। এশিয়াতেও কিছু বড় সংস্থার শেয়ারে পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা গেছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বৈশ্বিক ভ্রমণ শিল্পে বড় মন্দা দেখা দিতে পারে এবং অনেক বিমান সাময়িকভাবে মাটিতে বসে থাকার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
![]()
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















