বাংলা উপশিরোনাম ১ — সাফল্যের ধারাবাহিকতা ও নতুন মুক্তি
জেমস ক্যামেরনের সায়েন্স‑ফিকশন মহাকাব্য “অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ” মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র দিবসের দীর্ঘ ছুটিতে আবারও উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে শীর্ষে ছিল। তিন দিনে প্রায় ১৩.৩ মিলিয়ন ডলার এবং চার দিনের ছুটিতে ১৭.২ মিলিয়ন ডলার আয় করে, ছবিটি পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার ঘরোয়া ও ১.৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈশ্বিক আয় করেছে। দর্শকরা সিনেমার ৩ডি ভিজ্যুয়াল ও কথিত ইতিবাচক প্রচারের জন্য আবারও প্রেক্ষাগৃহে ফিরে আসছেন। প্রথম “অ্যাভাটার” যেমন ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, তেমনি এর সিকুয়েলও দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পাচ্ছে, যা ডিজনিকে আশাবাদী করেছে কারণ কোম্পানি আরও কয়েকটি সিকুয়েল নির্মাণে বিনিয়োগ করেছে। বাজারে সম্পর্কিত পণ্যের বিক্রি শক্তিশালী, যা প্রমাণ করে যে নাভিদের গল্প ১৭ বছর পরও মানুষের কল্পনায় জায়গা করে নিয়েছে।
এদিকে, সনি পিকচার্সের হরর সিকুয়েল “২৮ ইয়ারস লেটার: দ্য বোন টেম্পল” মাত্র ১৩ মিলিয়ন ডলার উইকএন্ড ও প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার ছুটির আয় নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে, যদিও ২০০২ সালের “২৮ ডেস লেটার”‑এর কুখ্যাতির ওপর প্রচারণা চালানো হয়েছিল। ১২০ মিলিয়ন ডলার বাজেটের এ ছবির লাভ করতে হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো করতে হবে। সমালোচকরা মনে করছেন, পোস্ট‑অ্যাপোক্যালিপটিক গল্পে ক্লান্তি এবং একই সময়ে মুক্তি পাওয়া অন্য হরর ছবির কারণে এই ফল হয়েছে। তবে হরর ছবি প্রায়শই এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় ভালো ব্যবসা করে, তাই স্টুডিও এখনও আশাবাদী। ডিজনির অ্যানিমেটেড সাফল্য “জুটোপিয়া ২” ৯ মিলিয়ন ডলার যোগ করে, মোট ঘরোয়া আয় প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। রোমান্টিক থ্রিলার “দ্য হাউসমেইড” ৮.৫ মিলিয়ন ডলার এবং জর্ডান পিলের স্যাটায়ার “মার্টি সুপ্রিম” ৫.৪ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা বক্স অফিসের তালিকায় বৈচিত্র্য এনেছে।
![]()
বাংলা উপশিরোনাম ২ — অন্যান্য ছবির পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যতের দৃষ্টি
হলিউডের ছোট বাজেটের চলচ্চিত্রও স্থান করে নিয়েছে। আদালত‑ভিত্তিক ড্রামা “নো আদার চয়েস” সমাজ সচেতন দর্শকদের আকর্ষণ করছে, আর সাহিত্য‑অনুপ্রাণিত “হ্যামনেট” আর্ট‑হাউস প্রেক্ষাগৃহে দর্শক পাচ্ছে। “দ্য লর্ড অব দ্য রিংস: দ্য ফেলোশিপ অব দ্য রিং” পুনরায় মুক্তি পেয়ে ৩.২ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যার ফলে নস্টালজিক ভক্তরা আবারও বড় পর্দায় মধ্য‑পৃথিবী দেখার সুযোগ পেয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, সামগ্রিকভাবে এগুলো প্রমাণ করে যে পরিচিত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এখনও বাজারে আধিপত্য করছে এবং মৌলিক গল্পের ছবি দর্শক টানতে সংগ্রাম করছে। স্টুডিওগুলো আশা করছে, মাসের শেষে মুক্তি পাওয়া মর্যাদাসম্পন্ন ড্রামাগুলো—যেমন “দ্য সাইলেন্ট স্প্রিং” ও “দ্য পেইন্টার’স ওয়াইফ”—বয়স্ক দর্শকদের ফের প্রেক্ষাগৃহে আনবে।
আগামী মাসগুলোতে “অ্যাভাটার” কীভাবে ধরে রাখতে পারে তা নিয়ে আলোচনা চলছে; ফেব্রুয়ারিতে “গ্যালাকটিক গার্ডিয়ানস ৩” এবং রোমান্টিক কমেডি “লাভ ইন দ্য টাইম অব রোবটস” মুক্তি পেলে প্রতিযোগিতা বাড়বে। যদি ক্যামেরনের ছবি বর্তমান গতি ধরে রাখতে পারে, তবে এটি মহামারি পরবর্তী সর্বোচ্চ আয়কারী ছবি হয়ে উঠতে পারে। Sony তাদের “২৮ ইয়ারস লেটার” সিরিজ চালিয়ে যাবে কি না তা আন্তর্জাতিক আয়ের উপর নির্ভর করবে। লাঘব বাজেটের ছবির ফলাফল চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, কারণ ব্লকবাস্টার সিরিজ ও স্ট্রিমিং পরিষেবাগুলো এখন বাজারে প্রভাব বিস্তার করছে। বর্তমানে ২০২৬ সালের প্রথম বড় ছুটির বক্স অফিসে দেখা যাচ্ছে, দর্শকরা এখনও বড় পর্দার অভিজ্ঞতা পছন্দ করছেন, তবে তারা কোথায় অর্থ ব্যয় করবেন সে বিষয়ে অনেক সচেতন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















