০১:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির নতুন প্রতিযোগিতা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী কে? বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন শিথিলতা: বাণিজ্য অর্থায়নে বাড়ল ঋণসীমা কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভি ডি সতীশন, ১৮ মে শপথের সম্ভাবনা পাকিস্তানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’ সফল পরীক্ষা, পাল্লা ও নিখুঁত আঘাতের সক্ষমতার দাবি বেইজিং বৈঠকে ইরান ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ব্রিকসের জোরালো অবস্থান চাইল তেহরান মিয়ানমার নিয়ে বর্ণনার লড়াই: রাষ্ট্র, বৈধতা ও সংবাদমাধ্যমের দায় এল নিনোর শঙ্কায় ফের গম কেনায় ঝুঁকছে এশিয়া, বাড়ছে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা চীনের সস্তা চিপের চাপে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর স্বপ্ন, টাটার নতুন ফ্যাবের সামনে কঠিন লড়াই অভিনেত্রী নীনা ওয়াদিয়া: ‘আমাদের বাড়ির সব দেয়াল ছিল হলুদ, যেন একটা লেবু’

এ আর রহমানের বার্তা: ভারতই আমার প্রেরণা, শিক্ষক ও ঘর

সাম্প্রতিক বলিউড মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানালেন সংগীতশিল্পী এ আর রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি সরাসরি বিতর্কের প্রসঙ্গ না তুললেও ভারত, তার সংস্কৃতি এবং সংগীতের সঙ্গে নিজের আত্মিক সম্পর্কের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট

কয়েক দিন আগে বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ আর রহমান বলেছিলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিন্দি চলচ্চিত্রে তাঁর কাজ কিছুটা কমে এসেছে। তিনি এর পেছনে গত আট বছরে চলচ্চিত্র শিল্পের ভেতরের পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। এই মন্তব্য প্রকাশের পর থেকেই বলিউডে আলোচনা ও মতবিরোধ শুরু হয়।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন অস্কারজয়ী এই সুরকার। সেখানে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি বা কোনো অভিযোগের জবাব দেননি। বরং তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ভারতকে ঘিরে তাঁর আবেগ, বিশ্বাস এবং সৃষ্টিশীল দায়বদ্ধতার কথা।

ভিডিওতে এ আর রহমান বলেন, সংগীতই তাঁর মানুষের সঙ্গে, সংস্কৃতির সঙ্গে এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রধান মাধ্যম। তিনি স্বীকার করেন, অনেক সময় ভালো উদ্দেশ্যও ভুলভাবে বোঝা হতে পারে। তবে তাঁর কাজ সব সময়ই এসেছে সেবার মনোভাব থেকে।

তিনি বলেন, সংগীত আমার কাছে সব সময় সংযোগের ভাষা, উদযাপনের পথ এবং একটি সংস্কৃতিকে সম্মান জানানোর উপায়। ভারতই আমার প্রেরণা, আমার শিক্ষক এবং আমার ঘর।

কেন এ আর রহমান এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী? | চ্যানেল আই অনলাইন

এ আর রহমান আরও জানান, তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল সংগীতের মাধ্যমে মানুষকে সম্মান দেওয়া এবং তাদের অনুপ্রাণিত করা। তিনি কখনোই কাউকে আঘাত দিতে চাননি বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর আশা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আন্তরিকতা মানুষ বুঝতে পারবে।

ভারতকে তিনি মুক্ত চিন্তা ও মতপ্রকাশের এক উন্মুক্ত পরিসর হিসেবে বর্ণনা করেন। নিজেকে একজন ভারতীয় হিসেবে পরিচয় দিতে পেরে এবং বহুসাংস্কৃতিক সৃষ্টিশীল পরিবেশের অংশ হতে পেরে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করেন।

নিজের বক্তব্যে এ আর রহমান ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ওয়েভ সম্মেলনে পরিবেশিত জালা প্রকল্প, নাগা তরুণ সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে একটি স্ট্রিং অর্কেস্ট্রা গঠন, এবং সানশাইন অর্কেস্ট্রার পরামর্শদাতা হিসেবে যুক্ত থাকা—সবই সেই দায়বদ্ধতার অংশ।

এ ছাড়া তিনি ভারতের প্রথম বহুসাংস্কৃতিক ভার্চুয়াল ব্যান্ড সিক্রেট মাউন্টেন তৈরির কথা উল্লেখ করেন। সামনে আন্তর্জাতিক সংগীত পরিচালক হ্যান্স জিমারের সঙ্গে রামায়ণ প্রকল্পে কাজ করার কথাও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, প্রতিটি যাত্রাই তাঁর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে আরও দৃঢ় করেছে।

ভিডিওর শেষে তিনি জয় হিন্দ এবং জয় ভারত বলে নিজের বার্তা শেষ করেন।

উল্লেখ্য, বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিন্দি চলচ্চিত্রে কাজ কমে যাওয়ার মন্তব্য থেকেই এই বিতর্কের সূচনা হয়। শিল্পের ভেতরের পরিবর্তন নিয়ে তাঁর সেই বক্তব্যে সমর্থন ও সমালোচনা—দুটোই দেখা গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং

এ আর রহমানের বার্তা: ভারতই আমার প্রেরণা, শিক্ষক ও ঘর

১০:০০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

সাম্প্রতিক বলিউড মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানালেন সংগীতশিল্পী এ আর রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি সরাসরি বিতর্কের প্রসঙ্গ না তুললেও ভারত, তার সংস্কৃতি এবং সংগীতের সঙ্গে নিজের আত্মিক সম্পর্কের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট

কয়েক দিন আগে বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ আর রহমান বলেছিলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিন্দি চলচ্চিত্রে তাঁর কাজ কিছুটা কমে এসেছে। তিনি এর পেছনে গত আট বছরে চলচ্চিত্র শিল্পের ভেতরের পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। এই মন্তব্য প্রকাশের পর থেকেই বলিউডে আলোচনা ও মতবিরোধ শুরু হয়।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন অস্কারজয়ী এই সুরকার। সেখানে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি বা কোনো অভিযোগের জবাব দেননি। বরং তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ভারতকে ঘিরে তাঁর আবেগ, বিশ্বাস এবং সৃষ্টিশীল দায়বদ্ধতার কথা।

ভিডিওতে এ আর রহমান বলেন, সংগীতই তাঁর মানুষের সঙ্গে, সংস্কৃতির সঙ্গে এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রধান মাধ্যম। তিনি স্বীকার করেন, অনেক সময় ভালো উদ্দেশ্যও ভুলভাবে বোঝা হতে পারে। তবে তাঁর কাজ সব সময়ই এসেছে সেবার মনোভাব থেকে।

তিনি বলেন, সংগীত আমার কাছে সব সময় সংযোগের ভাষা, উদযাপনের পথ এবং একটি সংস্কৃতিকে সম্মান জানানোর উপায়। ভারতই আমার প্রেরণা, আমার শিক্ষক এবং আমার ঘর।

কেন এ আর রহমান এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী? | চ্যানেল আই অনলাইন

এ আর রহমান আরও জানান, তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল সংগীতের মাধ্যমে মানুষকে সম্মান দেওয়া এবং তাদের অনুপ্রাণিত করা। তিনি কখনোই কাউকে আঘাত দিতে চাননি বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর আশা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আন্তরিকতা মানুষ বুঝতে পারবে।

ভারতকে তিনি মুক্ত চিন্তা ও মতপ্রকাশের এক উন্মুক্ত পরিসর হিসেবে বর্ণনা করেন। নিজেকে একজন ভারতীয় হিসেবে পরিচয় দিতে পেরে এবং বহুসাংস্কৃতিক সৃষ্টিশীল পরিবেশের অংশ হতে পেরে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করেন।

নিজের বক্তব্যে এ আর রহমান ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ওয়েভ সম্মেলনে পরিবেশিত জালা প্রকল্প, নাগা তরুণ সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে একটি স্ট্রিং অর্কেস্ট্রা গঠন, এবং সানশাইন অর্কেস্ট্রার পরামর্শদাতা হিসেবে যুক্ত থাকা—সবই সেই দায়বদ্ধতার অংশ।

এ ছাড়া তিনি ভারতের প্রথম বহুসাংস্কৃতিক ভার্চুয়াল ব্যান্ড সিক্রেট মাউন্টেন তৈরির কথা উল্লেখ করেন। সামনে আন্তর্জাতিক সংগীত পরিচালক হ্যান্স জিমারের সঙ্গে রামায়ণ প্রকল্পে কাজ করার কথাও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, প্রতিটি যাত্রাই তাঁর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে আরও দৃঢ় করেছে।

ভিডিওর শেষে তিনি জয় হিন্দ এবং জয় ভারত বলে নিজের বার্তা শেষ করেন।

উল্লেখ্য, বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিন্দি চলচ্চিত্রে কাজ কমে যাওয়ার মন্তব্য থেকেই এই বিতর্কের সূচনা হয়। শিল্পের ভেতরের পরিবর্তন নিয়ে তাঁর সেই বক্তব্যে সমর্থন ও সমালোচনা—দুটোই দেখা গেছে।