ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সম্মানে হৃদয়ছোঁয়া এক উপহার পর্ব অনুষ্ঠিত হলো। সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজ বাসভবনে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে তুলে দেন ভারতের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে ভরপুর কিছু বিশেষ উপহার। এই আয়োজনটি এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন আমিরাত ২০২৬ সালকে পরিবার বর্ষ হিসেবে ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা উপহারগুলোর ভাবনার সঙ্গে গভীরভাবে মিলেছে।
লোক কল্যাণ মার্গে উষ্ণ অভ্যর্থনা
ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা দূরদর্শন প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী মোদি লোক কল্যাণ মার্গে নিজের বাসভবনে শেখ মোহাম্মদকে স্বাগত জানাচ্ছেন। গাঁদা ফুলের রঙিন সাজে মোড়া প্রাঙ্গণে মোদি তাঁকে নিয়ে যান একটি সূক্ষ্ম নকশার কাঠের দোলনার সামনে। উপহারের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করার পর তিনি অতিথির কাঁধে পরিয়ে দেন এক বিলাসবহুল শাল। এরপর দু’জনের উষ্ণ আলিঙ্গন ও দোলনায় বসে ঘনিষ্ঠ আলাপচারিতা নজর কাড়ে।
একতাবদ্ধতার প্রতীক কাঠের দোলনা
এই উপহারগুলোর মূল আকর্ষণ ছিল গুজরাটের ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় কাঠের দোলনা। হাতে খোদাই করা এই দোলনায় ফুটে উঠেছে ফুলের নকশা ও প্রচলিত অলংকরণ, যা ভারতীয় কারিগরদের নিখুঁত শিল্পকুশলতার পরিচয় দেয়। গুজরাটি সংস্কৃতিতে দোলনা শুধু আসবাব নয়, বরং পরিবারে একসঙ্গে বসে কথা বলা, প্রজন্মের মধ্যে বন্ধন গড়ে তোলার প্রতীক। তাই এই উপহারটি আমিরাতের পরিবার বর্ষ ঘোষণার ভাবনার সঙ্গেও বিশেষভাবে সঙ্গতিপূর্ণ।
কাশ্মীরের অনন্য ঐতিহ্য
প্রধানমন্ত্রী মোদি শেখ মোহাম্মদের হাতে তুলে দেন কাশ্মীরের বিখ্যাত পশমিনা শাল, যা রাখা ছিল তেলেঙ্গানায় তৈরি কারুকাজ করা একটি রূপোর বাক্সে। কাশ্মীর থেকে সংগৃহীত উৎকৃষ্ট পশমে বোনা এই শাল তার কোমলতা, হালকা ভাব ও উষ্ণতার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। শাল ও রূপোর বাক্স মিলিয়ে ভারতের তাঁত ও হস্তশিল্পের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যই তুলে ধরা হয়েছে।

আমিরাতের ‘মাদার অব দ্য নেশন’-এর জন্য বিশেষ উপহার
একই ধরনের পশমিনা শাল উপহার দেওয়া হয় আমিরাতের ‘মাদার অব দ্য নেশন’ শেখা ফাতিমা বিন্ত মুবারক আল কেতবিকে। পাশাপাশি তাঁকে দেওয়া হয় কাশ্মীরের খাঁটি জাফরান, যা রাখা ছিল সুদৃশ্য রূপোর বাক্সে। কাশ্মীর উপত্যকায় উৎপন্ন এই জাফরান তার গাঢ় লাল রং ও তীব্র সুগন্ধের জন্য বিশেষভাবে মূল্যবান।
ঐতিহাসিক সফর ও কূটনৈতিক উষ্ণতা
সোমবার দুপুরে ভারত সফরে পৌঁছান শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ। এর আগে দিল্লির পালাম বিমানঘাঁটিতে প্রোটোকল ভেঙে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। দু’নেতার আলিঙ্গন ও দৃঢ় করমর্দন তাদের গভীর বন্ধুত্বেরই প্রতিফলন। এই সফরে শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে রয়েছেন দুবাইয়ের যুবরাজ শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমসহ একাধিক শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যা ভারত-আমিরাত সম্পর্কের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















