০৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
গাজা শান্তি বোর্ডে তাড়াহুড়ো নয় কেন, ট্রাম্পের প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে ভারত ঝালকাঠিতে নিখোঁজের আট ঘণ্টা পর নারীর মরদেহ উদ্ধার ইভ্যালির এমডি রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন আবার গ্রেপ্তার নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করতে সমন্বিত চক্রান্ত চলছে: মির্জা আব্বাস ভোটে ভূমিধস জয়ের অপেক্ষায় বিএনপি, নির্বাচন চায় না কিছু দল: মির্জা ফখরুল ভারতের চাপ মানা হবে না, আইসিসির অযৌক্তিক শর্ত প্রত্যাখ্যান করবে বাংলাদেশ মাগুরা-১ আসনে গণফোরাম প্রার্থীর বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ পাকিস্তান–সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্প্রসারণ হবে যৌথ সিদ্ধান্তে, জানালেন খাজা আসিফ ব্যবসা মন্দা, আয় সংকোচন ও বিনিয়োগ স্থবিরতায় রাজস্ব ঘাটতি ৪৬ হাজার কোটি টাকা চাপের মুখেই কি দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ থাকা প্রার্থীদের বৈধ করলো ইসি

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ইউএপির দুই শিক্ষক বহিষ্কার, অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ

ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের দুই শিক্ষককে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। এর একদিনের মধ্যেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা নিয়ে ক্যাম্পাসে ও শিক্ষক সমাজে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত
সোমবার ১৯ জানুয়ারি বিকেল তিনটার দিকে জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ই-মেইলের মাধ্যমেও বিষয়টি জানানো হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ধর্ম অবমাননার' অভিযোগে ইউএপির দুই শিক্ষক বহিষ্কার, অনির্দিষ্টকালে

কাদের বহিষ্কার করা হয়েছে
এর আগে রোববার ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন ব্যাসিক সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীর এবং একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ এস এম মহসিন।

কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয় এবং বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছিল, কিন্তু পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা বিবেচনায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিতর্কের সূচনা যেভাবে
এই ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১০ ডিসেম্বর সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীরের একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে। ওই পোস্টে তিনি মুখ ঢেকে পর্দা করার সংস্কৃতির সমালোচনা করেন। বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে একাংশ শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এটিকে ধর্ম অবমাননা হিসেবে আখ্যা দেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন। লায়েকা বশীরের দাবি, ওই পোস্টের পর তিনি হুমকি ও গালাগালের শিকার হন।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে বহিষ্কার, কী ঘটেছিল?

ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও উত্তেজনা
নতুন সেমিস্টারের প্রথম দিন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সে দিন একদল বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ, সংবাদ সম্মেলন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এই চাপের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

বিভক্ত শিক্ষার্থী সমাজ
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগও রয়েছে। তবে অন্য একটি অংশের শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এটি পরিকল্পিতভাবে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ট্যাগিং তৈরি এবং দলবদ্ধ চাপ প্রয়োগের ফল, যা একাডেমিক স্বাধীনতার জন্য হুমকি।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে বহিষ্কার, কী ঘটেছিল?

শিক্ষকদের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
বহিষ্কৃত দুই শিক্ষক জানিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নিপীড়নমূলক আচরণ করা হয়েছে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁদের মতে, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষক সমাজের উদ্বেগ
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক দুই শিক্ষকের বহিষ্কার এবং প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছাচারী এবং ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভয়ংকর নজির তৈরি করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা শান্তি বোর্ডে তাড়াহুড়ো নয় কেন, ট্রাম্পের প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে ভারত

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ইউএপির দুই শিক্ষক বহিষ্কার, অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ

০৩:৪০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের দুই শিক্ষককে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। এর একদিনের মধ্যেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা নিয়ে ক্যাম্পাসে ও শিক্ষক সমাজে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত
সোমবার ১৯ জানুয়ারি বিকেল তিনটার দিকে জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ই-মেইলের মাধ্যমেও বিষয়টি জানানো হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ধর্ম অবমাননার' অভিযোগে ইউএপির দুই শিক্ষক বহিষ্কার, অনির্দিষ্টকালে

কাদের বহিষ্কার করা হয়েছে
এর আগে রোববার ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন ব্যাসিক সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীর এবং একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ এস এম মহসিন।

কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয় এবং বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছিল, কিন্তু পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা বিবেচনায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিতর্কের সূচনা যেভাবে
এই ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১০ ডিসেম্বর সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীরের একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে। ওই পোস্টে তিনি মুখ ঢেকে পর্দা করার সংস্কৃতির সমালোচনা করেন। বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে একাংশ শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এটিকে ধর্ম অবমাননা হিসেবে আখ্যা দেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন। লায়েকা বশীরের দাবি, ওই পোস্টের পর তিনি হুমকি ও গালাগালের শিকার হন।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে বহিষ্কার, কী ঘটেছিল?

ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও উত্তেজনা
নতুন সেমিস্টারের প্রথম দিন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সে দিন একদল বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ, সংবাদ সম্মেলন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এই চাপের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

বিভক্ত শিক্ষার্থী সমাজ
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগও রয়েছে। তবে অন্য একটি অংশের শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এটি পরিকল্পিতভাবে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ট্যাগিং তৈরি এবং দলবদ্ধ চাপ প্রয়োগের ফল, যা একাডেমিক স্বাধীনতার জন্য হুমকি।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে বহিষ্কার, কী ঘটেছিল?

শিক্ষকদের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
বহিষ্কৃত দুই শিক্ষক জানিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নিপীড়নমূলক আচরণ করা হয়েছে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁদের মতে, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষক সমাজের উদ্বেগ
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক দুই শিক্ষকের বহিষ্কার এবং প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছাচারী এবং ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভয়ংকর নজির তৈরি করতে পারে।