আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ের পথে রয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর মতে, এই সম্ভাবনাই কিছু দলকে আতঙ্কিত করে তুলেছে, যার ফলে তারা নির্বাচন ঠেকাতে নানা ধরনের বক্তব্য ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি ও সন্দেহ
ঢাকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নব্বইতম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। অথচ এই সময়েও কিছু দল বারবার বলছে নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে তারা নিশ্চিত নয়। কেউ কেউ আবার প্রকাশ্যে বলছে, নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়, ভোট হলে এসব দলের প্রাপ্ত ভোটসংখ্যা নিয়ে তাদেরই সন্দেহ থাকবে।

বিএনপির বিজয় নিয়ে আশাবাদ
মির্জা ফখরুল জানান, দেশের মানুষ বিএনপিকে আবার ক্ষমতায় দেখতে চায়। তাদের প্রত্যাশা, তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে উঠবে। জনগণ তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও রাষ্ট্রগঠনের ভাবনার বাস্তবায়ন দেখতে আগ্রহী।
ধর্মের নামে রাজনীতি নিয়ে সমালোচনা
একটি দলের ধর্মকে সামনে রেখে ভোট চাওয়ার প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ইমান ও আমল ছাড়াই নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিলে জান্নাত নিশ্চিত—এ ধরনের বক্তব্য চরম ভণ্ডামি ছাড়া কিছু নয়। তাঁর দাবি, বিএনপি যেখানে দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, সেখানে অন্য একটি দল প্রতিশোধ ও সহিংসতার রাজনীতিতে জড়িত।
জামায়াত প্রসঙ্গে বক্তব্য
মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াত কখনোই সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করেনি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দলটির নেতৃত্ব পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিল এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও তারা বাঙালি জাতির স্বপ্নের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। এখনো তারা নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংস্কার ও অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে অভিযোগ
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব। তাঁর দাবি, যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল সেগুলো গণভোটে নেওয়ার কথা থাকলেও, বিএনপির অসম্মত বিষয়গুলো আলোচনা ছাড়াই যুক্ত করা হয়েছে। তবুও দেশের স্বার্থে দলটি তা মেনে নিয়েছে। এরপরও বিএনপির সংস্কার চাওয়ার মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ২০২২ সাল থেকেই যে সংস্কারের কথা বিএনপি বলছে, সরকার এখন সেই কথাই বলছে, আর প্রয়োজনে এই সংস্কারের জন্য জীবন দিতেও তারা প্রস্তুত।
জিয়াউর রহমানের উত্তরাধিকার ও তারেক রহমানের ভূমিকা
মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান এ দেশের মানুষকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছেন—‘বাংলাদেশি’। তাঁর হাতে যে গণতন্ত্রের পতাকা তুলে ধরা হয়েছিল, তা পরে বেগম খালেদা জিয়া বহন করেছেন এবং এখন সেই দায়িত্ব তারেক রহমানের হাতে। তাঁর মতে, দেশে ফিরেই তারেক রহমান জনগণকে জানিয়েছেন, তাঁর কাছে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, যার লক্ষ্য জিয়াউর রহমানের আদর্শে একটি নতুন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর আদর্শে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















