০৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
উত্তর চীনের বিরল ধাতু ইস্পাত কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ৯ শেয়ারবাজারে গতি ফিরল, ডিএসইতে লেনদেন ৬৬৯ কোটি টাকা ছুঁয়েছে আগামীকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংখ্যালঘু সনাতন হিন্দুদের নিরাপত্তা ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন আসিফ মাহমুদের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেমের থাইল্যান্ডে চিকিৎসার আবেদন নাকচ মাদুরোর পতনের পর ভেনেজুয়েলার গোপন বিটকয়েন ভাণ্ডার নিয়ে নতুন প্রশ্ন সিডনিতে ফের হাঙরের হামলা, দুই দিনে তৃতীয় ঘটনা, উত্তরের সব সৈকত বন্ধ গাজা শান্তি বোর্ডে আসন পেতে একশো কোটি ডলার, নতুন প্রস্তাব ঘিরে বিশ্ব কূটনীতিতে চাঞ্চল্য এনবিআরের দুই বিভাগ গঠন ও স্বাস্থ্য খাত সংস্কারসহ একাধিক প্রস্তাবে নিকার অনুমোদন কুমিল্লায় র‌্যাব কর্মকর্তার নিহতের খবরে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া আসিয়ান মিয়ানমারের নির্বাচন অনুমোদন করবে না, জানাল মালয়েশিয়া

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দখলে দৈনন্দিন প্রযুক্তি, বদলে যাচ্ছে ফোন, ইন্টারনেট ও চলাচলের অভ্যাস

বছরের শুরুতে ভোক্তা প্রযুক্তির দিকে তাকালেই বোঝা যায়, কোন নতুন উদ্ভাবন সত্যিই মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলবে আর কোনগুলো সাময়িক আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকবে। ২০২৬ সালের শুরুতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর শুধু ভবিষ্যতের বিষয় নয়, এটি ইতিমধ্যেই মানুষের ডিভাইস ব্যবহার, ইন্টারনেট ব্রাউজিং এবং চলাফেরার অভ্যাস আমূল বদলে দিচ্ছে।

গত এক দশকে স্মার্ট ঘর, ফিটনেস প্রযুক্তি কিংবা বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো ধারণাগুলো বারবার আলোচনায় এসেছে। কিছু সফল হয়েছে, কিছু এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কিন্তু বর্তমান সময়ে যে পরিবর্তন সবচেয়ে দ্রুত এবং গভীরভাবে ঘটছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি।

কম্পিউটারের সঙ্গে কথোপকথনের নতুন যুগ

দীর্ঘ সময় ধরে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের সঙ্গে যন্ত্রের কথোপকথন স্বাভাবিক করে তোলার চেষ্টা করেছে। কণ্ঠভিত্তিক সহকারী থাকলেও মানুষ সেগুলো মূলত আবহাওয়া জানা, গান চালানো কিংবা অ্যালার্ম দেওয়ার মতো সীমিত কাজে ব্যবহার করেছে। জনসমক্ষে যন্ত্রের সঙ্গে কথা বলা ছিল বিরল।

কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের জনপ্রিয়তা সেই অভ্যাস বদলে দিচ্ছে। মানুষ এখন লেখার মাধ্যমে যন্ত্রের সঙ্গে আলাপ করছে এবং কণ্ঠ আরও মানবিক হলে এই প্রবণতা প্রকাশ্য জায়গাতেও ছড়িয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কানে হেডফোন লাগিয়ে যন্ত্রের সঙ্গে কথা বলা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক দৃশ্য হয়ে উঠতে পারে।

তবে এই উন্নতির পাশাপাশি উদ্বেগও রয়েছে। যন্ত্রের কণ্ঠ যত বেশি মানবিক হবে, মানসিকভাবে দুর্বল মানুষের ওপর তার প্রভাব তত গভীর হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।

স্মার্টফোনের পরের ডিভাইসের খোঁজ

প্রতি বছর নতুন ফোন কেনা এখন অনেকের জন্য রুটিন ব্যাপার। ফোন হারিয়ে যাচ্ছে না, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতিতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প ব্যক্তিগত ডিভাইসের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে স্মার্ট চশমাকে ভবিষ্যতের বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চশমার মাধ্যমে ছবি তোলা, গান শোনা ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়েছে। এখন চোখের কোণায় তথ্য দেখানোর মতো প্রযুক্তি যোগ করে নতুন প্রজন্মের ডিভাইস বাজারে আনা হচ্ছে। একসময় ব্যর্থ হওয়া ধারণাগুলো এবার আরও আকর্ষণীয়ভাবে ফিরছে, কারণ এতে যুক্ত হচ্ছে কথোপকথনভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

The Rise of Smart Homes: How Technology is Changing the Way We Live - Topic Dock

এদিকে ভাঁজ করা পর্দার ফোন নিয়েও কাজ চলছে। বড় পর্দা, ছোট আকারের সমন্বয়ে ফোন আর ট্যাবলেটের মাঝামাঝি অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যদিও উচ্চ দাম ও টেকসই হওয়া নিয়ে প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে।

ইন্টারনেট ব্যবহারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সর্বব্যাপী উপস্থিতি

ইন্টারনেটে কিছু খুঁজলেই এখন প্রথমে চোখে পড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করা উত্তর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বার্তা আদানপ্রদান অ্যাপ কিংবা অপারেটিং সিস্টেমে এই প্রযুক্তি ঢুকে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এটি বন্ধ করার সুযোগ নেই।

কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যবহারকারীর পছন্দের স্বাধীনতা রাখার চেষ্টা করলেও সামগ্রিকভাবে ইন্টারনেট দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর হয়ে উঠছে। ইমেইল সারসংক্ষেপ, স্বয়ংক্রিয় উত্তর লেখা, কেনাকাটা বা রেস্তোরাঁ বুকিংয়ের মতো কাজেও এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Self-driving cars will transform urban economies

স্বচালিত ট্যাক্সির বিস্তার

শহরের রাস্তায় স্বচালিত ট্যাক্সি এখন আর পরীক্ষামূলক ধারণা নয়। কিছু সমস্যার মুখোমুখি হলেও এই যানবাহনগুলো বড় শহরে দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে এগুলো মানুষের চেয়ে নিরাপদ।

মহাসড়ক ও বিমানবন্দর পর্যন্ত স্বচালিত ট্যাক্সির চলাচল শুরু হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নতুন সেবা বাজারে আসায় ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালেই অনেক মানুষের প্রথম স্বচালিত গাড়িতে চড়ার অভিজ্ঞতা হতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তর চীনের বিরল ধাতু ইস্পাত কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ৯

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দখলে দৈনন্দিন প্রযুক্তি, বদলে যাচ্ছে ফোন, ইন্টারনেট ও চলাচলের অভ্যাস

০৬:২৪:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

বছরের শুরুতে ভোক্তা প্রযুক্তির দিকে তাকালেই বোঝা যায়, কোন নতুন উদ্ভাবন সত্যিই মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলবে আর কোনগুলো সাময়িক আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকবে। ২০২৬ সালের শুরুতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর শুধু ভবিষ্যতের বিষয় নয়, এটি ইতিমধ্যেই মানুষের ডিভাইস ব্যবহার, ইন্টারনেট ব্রাউজিং এবং চলাফেরার অভ্যাস আমূল বদলে দিচ্ছে।

গত এক দশকে স্মার্ট ঘর, ফিটনেস প্রযুক্তি কিংবা বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো ধারণাগুলো বারবার আলোচনায় এসেছে। কিছু সফল হয়েছে, কিছু এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কিন্তু বর্তমান সময়ে যে পরিবর্তন সবচেয়ে দ্রুত এবং গভীরভাবে ঘটছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি।

কম্পিউটারের সঙ্গে কথোপকথনের নতুন যুগ

দীর্ঘ সময় ধরে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের সঙ্গে যন্ত্রের কথোপকথন স্বাভাবিক করে তোলার চেষ্টা করেছে। কণ্ঠভিত্তিক সহকারী থাকলেও মানুষ সেগুলো মূলত আবহাওয়া জানা, গান চালানো কিংবা অ্যালার্ম দেওয়ার মতো সীমিত কাজে ব্যবহার করেছে। জনসমক্ষে যন্ত্রের সঙ্গে কথা বলা ছিল বিরল।

কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের জনপ্রিয়তা সেই অভ্যাস বদলে দিচ্ছে। মানুষ এখন লেখার মাধ্যমে যন্ত্রের সঙ্গে আলাপ করছে এবং কণ্ঠ আরও মানবিক হলে এই প্রবণতা প্রকাশ্য জায়গাতেও ছড়িয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কানে হেডফোন লাগিয়ে যন্ত্রের সঙ্গে কথা বলা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক দৃশ্য হয়ে উঠতে পারে।

তবে এই উন্নতির পাশাপাশি উদ্বেগও রয়েছে। যন্ত্রের কণ্ঠ যত বেশি মানবিক হবে, মানসিকভাবে দুর্বল মানুষের ওপর তার প্রভাব তত গভীর হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।

স্মার্টফোনের পরের ডিভাইসের খোঁজ

প্রতি বছর নতুন ফোন কেনা এখন অনেকের জন্য রুটিন ব্যাপার। ফোন হারিয়ে যাচ্ছে না, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতিতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প ব্যক্তিগত ডিভাইসের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে স্মার্ট চশমাকে ভবিষ্যতের বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চশমার মাধ্যমে ছবি তোলা, গান শোনা ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়েছে। এখন চোখের কোণায় তথ্য দেখানোর মতো প্রযুক্তি যোগ করে নতুন প্রজন্মের ডিভাইস বাজারে আনা হচ্ছে। একসময় ব্যর্থ হওয়া ধারণাগুলো এবার আরও আকর্ষণীয়ভাবে ফিরছে, কারণ এতে যুক্ত হচ্ছে কথোপকথনভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

The Rise of Smart Homes: How Technology is Changing the Way We Live - Topic Dock

এদিকে ভাঁজ করা পর্দার ফোন নিয়েও কাজ চলছে। বড় পর্দা, ছোট আকারের সমন্বয়ে ফোন আর ট্যাবলেটের মাঝামাঝি অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যদিও উচ্চ দাম ও টেকসই হওয়া নিয়ে প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে।

ইন্টারনেট ব্যবহারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সর্বব্যাপী উপস্থিতি

ইন্টারনেটে কিছু খুঁজলেই এখন প্রথমে চোখে পড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করা উত্তর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বার্তা আদানপ্রদান অ্যাপ কিংবা অপারেটিং সিস্টেমে এই প্রযুক্তি ঢুকে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এটি বন্ধ করার সুযোগ নেই।

কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যবহারকারীর পছন্দের স্বাধীনতা রাখার চেষ্টা করলেও সামগ্রিকভাবে ইন্টারনেট দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর হয়ে উঠছে। ইমেইল সারসংক্ষেপ, স্বয়ংক্রিয় উত্তর লেখা, কেনাকাটা বা রেস্তোরাঁ বুকিংয়ের মতো কাজেও এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Self-driving cars will transform urban economies

স্বচালিত ট্যাক্সির বিস্তার

শহরের রাস্তায় স্বচালিত ট্যাক্সি এখন আর পরীক্ষামূলক ধারণা নয়। কিছু সমস্যার মুখোমুখি হলেও এই যানবাহনগুলো বড় শহরে দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে এগুলো মানুষের চেয়ে নিরাপদ।

মহাসড়ক ও বিমানবন্দর পর্যন্ত স্বচালিত ট্যাক্সির চলাচল শুরু হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নতুন সেবা বাজারে আসায় ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালেই অনেক মানুষের প্রথম স্বচালিত গাড়িতে চড়ার অভিজ্ঞতা হতে পারে।