১০:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি তাইওয়ানের বৃহৎ যুদ্ধমহড়া শুরু, যুদ্ধক্ষেত্রের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় নতুন কৌশলের পরীক্ষা বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ইউরোপযাত্রা: স্থিতিশীলতার পরীক্ষায় দেশীয় নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রশ্ন জ্বালানি নিরাপত্তায় ৪২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গড়ছে ভারত, গ্যাস ব্যবহারকারীদের ওপর নতুন শুল্কের পরিকল্পনা ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ, প্রায় ৫৮ হাজার শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষা দিতে বলল মেক্সিকোর শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি সাইবার প্রতারণা দমনে কঠোর আইন, মৃত্যুদণ্ডের বিধান অনুমোদন করল মিয়ানমারের জান্তা যুক্তরাষ্ট্রের ছাতার নিচে কতটা নিরাপদ জাপানের ইয়েন? রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত অন্তত ১৭ মিয়ানমারের পাহাড়ে শুরু হয়েছে ২১ শতকের নতুন ‘গ্রেট গেম’  ও বাংলাদেশ   

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদ্যুৎ সংকটে ভরসা ভাড়ার ব্যাটারি, বদলে যাচ্ছে জীবিকা ও দৈনন্দিন জীবন

দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর জোহানেসবার্গের টেম্বিসা এলাকার একটি টিনের ঘরে বসানো ছোট্ট সেলুনে হঠাৎ করেই ভিড় জমে যায়। তবে সেই ভিড় চুল কাটাতে আসা মানুষের নয়। মানুষ আসছে মোবাইল ফোন চার্জ দিতে। সেলুন মালিক আনসেলমো মুনগাবের টেবিলের ওপর রাখা একটি ভারী ব্যাটারি থেকেই চলছে সব। একটি ব্যাটারিতে সংযোগ দেওয়া হয়েছে একাধিক মাল্টিপ্লাগ, আর সেখানেই ঝুলছে মোবাইল ফোন ও চার্জারের তার।

প্রতিটি ফোন চার্জ দিতে গুনতে হচ্ছে সামান্য অর্থ। এই ব্যাটারিই এখন আনসেলমোর আয়ের নতুন উৎস। বিদ্যুৎহীন এলাকায় এই ছোট উদ্যোগই হয়ে উঠেছে বাঁচার অবলম্বন।

দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অন্ধকারে জনপদ

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রায় সব নাগরিক জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের আওতায় থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। ঘনবসতিপূর্ণ ও দরিদ্র এলাকাগুলোতে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট লেগেই থাকে। অতিরিক্ত চাপের কারণে ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়ে, দিনের পর দিন অন্ধকারে থাকতে হয় বাসিন্দাদের।

টেম্বিসার আনসেলমোর এলাকায় গত বছরের এপ্রিল থেকে বিদ্যুৎ নেই। সেই কারণে এক মাস সেলুন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। চুল কাটার যন্ত্র চালানোর মতো বিদ্যুৎও ছিল না। ঠিক তখনই একজন ক্রেতার কাছ থেকে ভাড়ার ব্যাটারির খবর পান তিনি।

ভাড়ার ব্যাটারিতে ব্যবসা ও সেবা একসঙ্গে

এই ভাড়ার ব্যাটারি প্রকল্প চালু করেছে একটি আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি। প্রতিদিনের ভিত্তিতে ভাড়া দেওয়া হয় বিভিন্ন ক্ষমতার ব্যাটারি, যা কয়েক ঘণ্টা আলো, টেলিভিশন, ল্যাপটপসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্র চালাতে পারে। ব্যবহার শেষে পরদিন আবার ফেরত দিয়ে নতুন করে চার্জ করা ব্যাটারি নিতে হয়।

ব্যাটারিগুলো চার্জ করা হয় সৌরবিদ্যুৎ সুবিধাসহ স্থাপনায়। ফলে জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমে আসে। আনসেলমো প্রতিদিন নির্দিষ্ট ভাড়ায় একটি ব্যাটারি নেন। মোবাইল চার্জের অর্থেই সেই ভাড়া উঠে আসে, বরং কিছু বাড়তি আয়ও হয়।

ব্যাটারি কাঁধে করে জীবন চালানোর সংগ্রাম

টেম্বিসায় প্রতিদিন মানুষ ব্যাটারি বহন করছে হাতে, ঠেলাগাড়িতে কিংবা ডাস্টবিনে করে। বাড়ি থেকে গ্যাস স্টেশন পর্যন্ত এই যাতায়াত এখন নিত্যদিনের দৃশ্য। যদিও ব্যাটারির ক্ষমতা সীমিত এবং বড় যন্ত্র চালানো যায় না, তবুও এটি অন্ধকারে থাকা মানুষের জন্য বড় স্বস্তি।

আফ্রিকায় বিদ্যুৎহীন মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফ্রিকার ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে এই ধরনের ভাড়াভিত্তিক সমাধান বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সরাসরি সৌর প্যানেল ও ব্যাটারি কেনার সামর্থ্য অনেকের নেই। সেখানে অল্প খরচে ব্যাটারি ভাড়া নেওয়া অনেক বেশি সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।

আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এরই মধ্যে লক্ষাধিক ব্যাটারি ব্যবহৃত হচ্ছে। নতুন প্রকল্পগুলো ধীরে ধীরে গ্রাম ও শহরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলেও জীবনের চাকা থেমে থাকছে না, এই বার্তাই দিচ্ছে ভাড়ার ব্যাটারি।

 

 

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদ্যুৎ সংকটে ভরসা ভাড়ার ব্যাটারি, বদলে যাচ্ছে জীবিকা ও দৈনন্দিন জীবন

০৫:৫৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর জোহানেসবার্গের টেম্বিসা এলাকার একটি টিনের ঘরে বসানো ছোট্ট সেলুনে হঠাৎ করেই ভিড় জমে যায়। তবে সেই ভিড় চুল কাটাতে আসা মানুষের নয়। মানুষ আসছে মোবাইল ফোন চার্জ দিতে। সেলুন মালিক আনসেলমো মুনগাবের টেবিলের ওপর রাখা একটি ভারী ব্যাটারি থেকেই চলছে সব। একটি ব্যাটারিতে সংযোগ দেওয়া হয়েছে একাধিক মাল্টিপ্লাগ, আর সেখানেই ঝুলছে মোবাইল ফোন ও চার্জারের তার।

প্রতিটি ফোন চার্জ দিতে গুনতে হচ্ছে সামান্য অর্থ। এই ব্যাটারিই এখন আনসেলমোর আয়ের নতুন উৎস। বিদ্যুৎহীন এলাকায় এই ছোট উদ্যোগই হয়ে উঠেছে বাঁচার অবলম্বন।

দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অন্ধকারে জনপদ

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রায় সব নাগরিক জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের আওতায় থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। ঘনবসতিপূর্ণ ও দরিদ্র এলাকাগুলোতে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট লেগেই থাকে। অতিরিক্ত চাপের কারণে ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়ে, দিনের পর দিন অন্ধকারে থাকতে হয় বাসিন্দাদের।

টেম্বিসার আনসেলমোর এলাকায় গত বছরের এপ্রিল থেকে বিদ্যুৎ নেই। সেই কারণে এক মাস সেলুন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। চুল কাটার যন্ত্র চালানোর মতো বিদ্যুৎও ছিল না। ঠিক তখনই একজন ক্রেতার কাছ থেকে ভাড়ার ব্যাটারির খবর পান তিনি।

ভাড়ার ব্যাটারিতে ব্যবসা ও সেবা একসঙ্গে

এই ভাড়ার ব্যাটারি প্রকল্প চালু করেছে একটি আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি। প্রতিদিনের ভিত্তিতে ভাড়া দেওয়া হয় বিভিন্ন ক্ষমতার ব্যাটারি, যা কয়েক ঘণ্টা আলো, টেলিভিশন, ল্যাপটপসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্র চালাতে পারে। ব্যবহার শেষে পরদিন আবার ফেরত দিয়ে নতুন করে চার্জ করা ব্যাটারি নিতে হয়।

ব্যাটারিগুলো চার্জ করা হয় সৌরবিদ্যুৎ সুবিধাসহ স্থাপনায়। ফলে জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমে আসে। আনসেলমো প্রতিদিন নির্দিষ্ট ভাড়ায় একটি ব্যাটারি নেন। মোবাইল চার্জের অর্থেই সেই ভাড়া উঠে আসে, বরং কিছু বাড়তি আয়ও হয়।

ব্যাটারি কাঁধে করে জীবন চালানোর সংগ্রাম

টেম্বিসায় প্রতিদিন মানুষ ব্যাটারি বহন করছে হাতে, ঠেলাগাড়িতে কিংবা ডাস্টবিনে করে। বাড়ি থেকে গ্যাস স্টেশন পর্যন্ত এই যাতায়াত এখন নিত্যদিনের দৃশ্য। যদিও ব্যাটারির ক্ষমতা সীমিত এবং বড় যন্ত্র চালানো যায় না, তবুও এটি অন্ধকারে থাকা মানুষের জন্য বড় স্বস্তি।

আফ্রিকায় বিদ্যুৎহীন মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফ্রিকার ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে এই ধরনের ভাড়াভিত্তিক সমাধান বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সরাসরি সৌর প্যানেল ও ব্যাটারি কেনার সামর্থ্য অনেকের নেই। সেখানে অল্প খরচে ব্যাটারি ভাড়া নেওয়া অনেক বেশি সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।

আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এরই মধ্যে লক্ষাধিক ব্যাটারি ব্যবহৃত হচ্ছে। নতুন প্রকল্পগুলো ধীরে ধীরে গ্রাম ও শহরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলেও জীবনের চাকা থেমে থাকছে না, এই বার্তাই দিচ্ছে ভাড়ার ব্যাটারি।