কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার আলিপুর গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোক। র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন নিহত হওয়ার খবরে পরিবার, স্বজন ও গ্রামবাসীদের মধ্যে নেমে এসেছে স্তব্ধতা ও বেদনা। প্রিয় মানুষকে হারানোর কষ্টে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁর স্বজনেরা।
চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে নিহত
র্যাব-৭–এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন সোমবার চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ওই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হন। সশস্ত্র অপরাধীদের হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি।
পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন
মোতালেব হোসেন ছিলেন আলিপুর গ্রামের আবদুল খালেক ভূঁইয়ার ১১ সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। পরিবার নিয়ে তিনি ঢাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁর পরিবারে রয়েছেন দুই কন্যা ও এক পুত্র। গ্রামের মানুষ তাঁকে চিনতেন একজন সহজ-সরল ও আন্তরিক মানুষ হিসেবে। এলাকাবাসীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ।
শেষ ছুটি ও ফেরার স্মৃতি
পরিবারের সদস্যরা জানান, মাত্র দুই দিন আগেই ছুটি কাটিয়ে তিনি কর্মস্থলে ফিরেছিলেন। সেই বিদায় যে শেষ বিদায় হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
দাফনের প্রস্তুতি
চট্টগ্রামে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বিকেলে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনার কথা রয়েছে। বাড়ির সামনে মসজিদের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।
গ্রামবাসীর দাবি
স্থানীয়রা মোতালেব হোসেনকে ভদ্র, শান্ত ও সুশৃঙ্খল মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধির শোক
কালিরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মোতালেব হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
ঘটনাস্থল সম্পর্কে পুলিশি তথ্য
পুলিশ জানায়, জঙ্গল সলিমপুর একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। গত চার দশকে সেখানে সরকারি ও খাস জমিতে হাজার হাজার অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় দখলদার, সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুদের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















