০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল, অর্ধেকের বেশি অর্থায়ন আগেই নিশ্চিত মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে ক্লোসের রেকর্ড স্পর্শ, আর্জেন্টিনার স্মরণীয় জয় নতুন বাস্তবতা: তেলের যুগ কি চাহিদার সীমায় পৌঁছে গেছে? ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জাবিতে মাদককাণ্ড: দুই ছাত্রীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার, একজনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ চীনের ইভি যুদ্ধে নতুন অস্ত্র: নিজস্ব স্মার্ট-ড্রাইভিং চিপে ঝুঁকছে গাড়ি নির্মাতারা নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৬ মাস পর মুখোমুখি, জি৭ সম্মেলনে পাশাপাশি আসন জি৭ সম্মেলনে রাশিয়ার ওপর আরও চাপের সিদ্ধান্ত, ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকে ইউক্রেন ইস্যুতে নতুন বার্তা উপজেলায় এমপিদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’, প্রতিটি উপজেলায় বরাদ্দ ৬ লাখ টাকা চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক

মাদুরোর পতনের পর ভেনেজুয়েলার গোপন বিটকয়েন ভাণ্ডার নিয়ে নতুন প্রশ্ন

নিকোলাস মাদুরোর সরকারের পতনের পর ভেনেজুয়েলা আবারও বৈশ্বিক নজরে। তেলের বিশাল মজুত নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে নীরবে আরও একটি সম্পদ সামনে আসছে—বিটকয়েন।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে পড়ে ভেনেজুয়েলা বিকল্প আর্থিক পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছিল। সেই পথেই জমা হতে পারে বড় অঙ্কের ক্রিপ্টো সম্পদ। কতটা বড়, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে এই সম্পদ বিক্রি, বাজেয়াপ্ত বা স্থানান্তরিত হলে এর প্রভাব বৈশ্বিক ক্রিপ্টো বাজারে পড়তে পারে।

নিষেধাজ্ঞা ও বিকল্প অর্থনীতির খোঁজ

বছরের পর বছর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ভেনেজুয়েলার ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে কার্যত অচল করে দেয়। আন্তর্জাতিক লেনদেন কঠিন হয়ে পড়ে। তখন রাষ্ট্রের ভরসা হয়ে ওঠে বিকল্প সম্পদ—স্বর্ণ, নগদ ডলার এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি।

বিটকয়েন এখানে আলাদা গুরুত্ব পায়। এটি কোনো রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নয়। সীমান্ত পেরোনো সহজ। ডলারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা সরকারের জন্য এটি কার্যকর আশ্রয় হতে পারে।

তবে সমস্যাটি স্বচ্ছতার। ব্লকচেইনে লেনদেন দেখা যায়, কিন্তু মালিক চিহ্নিত করা যায় না। ধারণা করা হয়, ভেনেজুয়েলার বিটকয়েন বিভিন্ন ওয়ালেটে ছড়িয়ে রয়েছে। নিয়ন্ত্রণ ছিল সামরিক ও রাজনৈতিক অভিজাতদের হাতে।

What will happen to Venezuela's bitcoin stash after Maduro's capture?

কিছু প্রতিবেদনে ছোট অঙ্কের কথা বলা হচ্ছে। আবার কোথাও বিপুল মজুতের ইঙ্গিত মিলছে। বড় অঙ্কের দাবিগুলো এখনো প্রমাণিত নয়।

ক্রিপ্টো নিয়ে ভেনেজুয়েলার পুরোনো গল্প

ভেনেজুয়েলার ক্রিপ্টো ইতিহাস দীর্ঘ। ২০১৮ সালে সরকার ‘পেট্রো’ নামে একটি ডিজিটাল টোকেন চালু করে। লক্ষ্য ছিল নিষেধাজ্ঞা এড়ানো। প্রকল্পটি ব্যর্থ হয়। কয়েক বছর পর বন্ধ হয়ে যায়।

দেশজুড়ে একসময় বিটকয়েন মাইনিং ছড়িয়ে পড়ে। কম বিদ্যুৎ খরচ ও মুদ্রাস্ফীতিই ছিল মূল কারণ। সরকার কখনো নিয়ন্ত্রণ করেছে, কখনো দমন করেছে। শেষ পর্যন্ত মাইনিং নিষিদ্ধ করা হয়। তবু আন্ডারগ্রাউন্ড কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

এখন কী হতে পারে

সরকার পতনের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই বিটকয়েন যাবে কোথায়।

একটি সম্ভাবনা হলো বিক্রি। ক্ষমতা হারানো গোষ্ঠী ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য সম্পদ সরাতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদে বিটকয়েনের দামে চাপ পড়তে পারে।

আরেকটি পথ হলো বাজেয়াপ্তকরণ। যুক্তরাষ্ট্র অতীতে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ করেছে। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও তা হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে আবার আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত কৌশলগত বিটকয়েন রিজার্ভ। আইনি কাঠামো এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সরকার যদি বড় অঙ্কের বিটকয়েন পায়, তা বাজারে ছাড়া হবে না।

ভেনেজুয়েলার অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দেয়—ডিজিটাল সম্পদ এখন কেবল প্রযুক্তি নয়, ভূরাজনীতির অংশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল, অর্ধেকের বেশি অর্থায়ন আগেই নিশ্চিত

মাদুরোর পতনের পর ভেনেজুয়েলার গোপন বিটকয়েন ভাণ্ডার নিয়ে নতুন প্রশ্ন

০৭:২৯:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

নিকোলাস মাদুরোর সরকারের পতনের পর ভেনেজুয়েলা আবারও বৈশ্বিক নজরে। তেলের বিশাল মজুত নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে নীরবে আরও একটি সম্পদ সামনে আসছে—বিটকয়েন।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে পড়ে ভেনেজুয়েলা বিকল্প আর্থিক পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছিল। সেই পথেই জমা হতে পারে বড় অঙ্কের ক্রিপ্টো সম্পদ। কতটা বড়, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে এই সম্পদ বিক্রি, বাজেয়াপ্ত বা স্থানান্তরিত হলে এর প্রভাব বৈশ্বিক ক্রিপ্টো বাজারে পড়তে পারে।

নিষেধাজ্ঞা ও বিকল্প অর্থনীতির খোঁজ

বছরের পর বছর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ভেনেজুয়েলার ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে কার্যত অচল করে দেয়। আন্তর্জাতিক লেনদেন কঠিন হয়ে পড়ে। তখন রাষ্ট্রের ভরসা হয়ে ওঠে বিকল্প সম্পদ—স্বর্ণ, নগদ ডলার এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি।

বিটকয়েন এখানে আলাদা গুরুত্ব পায়। এটি কোনো রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নয়। সীমান্ত পেরোনো সহজ। ডলারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা সরকারের জন্য এটি কার্যকর আশ্রয় হতে পারে।

তবে সমস্যাটি স্বচ্ছতার। ব্লকচেইনে লেনদেন দেখা যায়, কিন্তু মালিক চিহ্নিত করা যায় না। ধারণা করা হয়, ভেনেজুয়েলার বিটকয়েন বিভিন্ন ওয়ালেটে ছড়িয়ে রয়েছে। নিয়ন্ত্রণ ছিল সামরিক ও রাজনৈতিক অভিজাতদের হাতে।

What will happen to Venezuela's bitcoin stash after Maduro's capture?

কিছু প্রতিবেদনে ছোট অঙ্কের কথা বলা হচ্ছে। আবার কোথাও বিপুল মজুতের ইঙ্গিত মিলছে। বড় অঙ্কের দাবিগুলো এখনো প্রমাণিত নয়।

ক্রিপ্টো নিয়ে ভেনেজুয়েলার পুরোনো গল্প

ভেনেজুয়েলার ক্রিপ্টো ইতিহাস দীর্ঘ। ২০১৮ সালে সরকার ‘পেট্রো’ নামে একটি ডিজিটাল টোকেন চালু করে। লক্ষ্য ছিল নিষেধাজ্ঞা এড়ানো। প্রকল্পটি ব্যর্থ হয়। কয়েক বছর পর বন্ধ হয়ে যায়।

দেশজুড়ে একসময় বিটকয়েন মাইনিং ছড়িয়ে পড়ে। কম বিদ্যুৎ খরচ ও মুদ্রাস্ফীতিই ছিল মূল কারণ। সরকার কখনো নিয়ন্ত্রণ করেছে, কখনো দমন করেছে। শেষ পর্যন্ত মাইনিং নিষিদ্ধ করা হয়। তবু আন্ডারগ্রাউন্ড কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

এখন কী হতে পারে

সরকার পতনের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই বিটকয়েন যাবে কোথায়।

একটি সম্ভাবনা হলো বিক্রি। ক্ষমতা হারানো গোষ্ঠী ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য সম্পদ সরাতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদে বিটকয়েনের দামে চাপ পড়তে পারে।

আরেকটি পথ হলো বাজেয়াপ্তকরণ। যুক্তরাষ্ট্র অতীতে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ করেছে। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও তা হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে আবার আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত কৌশলগত বিটকয়েন রিজার্ভ। আইনি কাঠামো এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সরকার যদি বড় অঙ্কের বিটকয়েন পায়, তা বাজারে ছাড়া হবে না।

ভেনেজুয়েলার অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দেয়—ডিজিটাল সম্পদ এখন কেবল প্রযুক্তি নয়, ভূরাজনীতির অংশ।