উত্তর চীনের ইনার মঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে একটি বিরল ধাতু সংযোজিত ইস্পাত কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৮৪ জন এবং এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
বিস্ফোরণের ঘটনা ও বর্তমান পরিস্থিতি
স্থানীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল ৩টার দিকে বাওতো শহরে অবস্থিত বাওতো স্টিল গ্রুপের বিরল ধাতু ইস্পাত কারখানায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত নিহত ৯ জন, আহত ৮৪ জন এবং একজনের খোঁজ মেলেনি।
উদ্ধার তৎপরতা ও কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ
দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় উপমন্ত্রী সঙ ইউয়ানমিংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পাঠায়। তাদের কাজ ছিল উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করা। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিষদের কর্মস্থল নিরাপত্তা কমিটি ঘোষণা করেছে, এই দুর্ঘটনার তদন্ত সরাসরি কেন্দ্রীয়ভাবে তদারক করা হবে। ইনার মঙ্গোলিয়া আঞ্চলিক সরকারকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা ও ফল প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা
ইনার মঙ্গোলিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা ওয়াং ওয়েইঝং রোববার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দপ্তরের প্রধান ও দেশের শীর্ষ নেতাদের একজন চাই ছি এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। সাধারণত নিরাপত্তা দুর্ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ না করলেও এ ঘটনায় তার নির্দেশনা বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
বিস্ফোরণের প্রভাব ও স্থানীয় ক্ষয়ক্ষতি
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পাঁচ কিলোমিটার দূরের একটি রেললাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারখানার ভালভ ছিটকে রেললাইনে পড়ায় ট্রেন চলাচলে বিলম্ব ও বিঘ্ন ঘটে। পাশের একটি গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবারের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে গেছে।
কারখানার কার্যক্রম ও উৎপাদন
বাওতো স্টিল গ্রুপ একটি বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্পাত প্রতিষ্ঠান। যে কারখানায় দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে ল্যান্থানাম ও সেরিয়ামের মতো বিরল ধাতু সংযোজিত যৌগিক ইস্পাত উৎপাদন করা হয়। এই ইস্পাত দ্রুতগতির রেলপথ, সামুদ্রিক প্রকৌশল এবং সামরিক সরঞ্জামে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
নিরাপত্তা নিয়ে আগের অভিযোগ ও শাস্তি
কারখানাটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অতীতেও বারবার প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবসায়িক তথ্যভান্ডারের তথ্য অনুযায়ী, বাওতো স্টিলের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর করতে ব্যর্থ হওয়ায় জরিমানা করা হয়।
দীর্ঘদিনের দুর্ঘটনার ইতিহাস
জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাওতো স্টিলে মোট ২০টি নিরাপত্তা দুর্ঘটনা ঘটে, যাতে প্রাণ হারান ২৮ জন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঝুঁকি প্রতিরোধে কার্যকর ও স্থায়ী নিয়মনীতি প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই গৃহীত পদক্ষেপ ছিল সাময়িক এবং প্রয়োগ ছিল দুর্বল।
সাম্প্রতিক বছরের চিত্র
২০২২ সালের প্রথম নয় মাসেই বাওতো স্টিলে পাঁচটি নিরাপত্তা দুর্ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। সর্বশেষ বিস্ফোরণ আবারও এই বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















