মিনেসোটার উত্তরের ছোট শহর নিসওয়ার এক সাধারণ পানশালায় সকাল শুরু হয় প্রতিদিনের মতোই। টেলিভিশনের পর্দায় বিনোদনের অনুষ্ঠান, কাঠের দেয়ালে ঝোলানো আলো, পরিচিত মুখের আড্ডা। অথচ একই দিনে দেড়শ মাইল দক্ষিণে মিনিয়াপলিসের রাস্তায় উত্তাল বিক্ষোভ, ক্ষোভ আর শোক। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন দপ্তরের অভিযানে রেনি গুড নামে এক নারীর গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা যেন এক রাজ্যের ভেতরেই দুই বিপরীত বাস্তবতাকে নগ্নভাবে সামনে এনে দিয়েছে।
শহর ও গ্রামের দৃষ্টিভঙ্গির ফারাক
নিসওয়ার মতো গ্রামীণ এলাকায় অনেকের চোখে এই মৃত্যু দুঃখজনক হলেও আইন অমান্যের ফল। তাদের বিশ্বাস, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশ মানলেই এমন পরিণতি এড়ানো যেত। অন্যদিকে মিনিয়াপলিসে প্রতিবাদকারীদের কাছে এটি এক নিরপরাধ নারীর মৃত্যু, রাষ্ট্রীয় শক্তির অতিরিক্ত প্রয়োগের প্রতীক। একই ঘটনা, কিন্তু ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

পুরোনো আড্ডায় নতুন রাজনীতি
নিসওয়ার পানশালাটিতে মানুষ জড়ো হয় কয়েক দশক ধরে। আগে আলোচনার বিষয় ছিল মাছ ধরা, রাতের খাবার বা স্থানীয় উৎসব। এখন সেই আড্ডায় ঢুকে পড়েছে শহরের সহিংসতা, বিক্ষোভ আর অভিবাসন নীতি। অনেকেই বলেন, তারা আর শহরে যেতে চান না। তাদের চোখে শহর মানেই অস্থিরতা, বিপদ আর ভয়।
রাজনৈতিক ঝোঁকের বদল
এক সময় মিনেসোটার গ্রামীণ অঞ্চল ছিল মধ্যপন্থী রাজনীতির ঘাঁটি। ধীরে ধীরে সেই চিত্র বদলেছে। শহরকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ক্ষমতা আর গণমাধ্যমের বর্ণনা গ্রামীণ মানুষের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি বাড়িয়েছে। নিজেদের কম গুরুত্ব পাওয়া, কম শোনা এবং কম সম্মানিত মনে করার বোধ তাদের আরও রক্ষণশীল করে তুলেছে।
অস্বস্তির মাঝেও দ্বিধা

তবে সব গ্রামীণ কণ্ঠ এক নয়। পাইনের মতো শহরে কিছু মানুষ আছেন, যারা অভিবাসন দপ্তরের ভূমিকা সমর্থন করলেও গুলির ঘটনায় প্রশ্ন তুলছেন। তাদের মতে, আইন প্রয়োগ প্রয়োজন, কিন্তু পদ্ধতিটি হওয়া উচিত মানবিক ও জবাবদিহিমূলক। এই দ্বিধা দেখায়, বিভাজনের মাঝেও সংশয় ও বিবেক কাজ করছে।
শহরের ক্ষত, গ্রামের নীরবতা
মিনিয়াপলিসে রেনি গুডের শেষ কথা অনেককে তাড়া করে ফেরে। কিছু প্রবীণ নাগরিক বলেন, এই শব্দগুলো তাদের ঘুম কেড়ে নেয়। তারা মনে করেন, রাজ্যটি আক্রমণের মুখে, আর প্রতিরোধের একমাত্র পথ হলো নিজেদের বিশ্বাসে অটল থাকা। আবার ছোট শহরে একই মানুষদের সঙ্গে প্রতিদিন দেখা হয়, বন্ধুত্ব টিকে থাকে, শুধু রাজনীতি এড়িয়ে চলতে হয়।
সম্মানের সূক্ষ্ম সেতু

নিসওয়ার পানশালার বারটেন্ডার লানি থমসেন চার দশক ধরে এই ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছেন। তিনি আজীবন ডেমোক্র্যাট, তার বেশিরভাগ ক্রেতা রিপাবলিকান। তবু তারা একে অন্যকে পরিবার মনে করেন। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও পারস্পরিক সম্মানই এখানে সহাবস্থানের মূল চাবিকাঠি।
একই সময়ে দুই মিনেসোটা
যখন নিসওয়ায় টেলিভিশনের পর্দায় খেলাধুলার উত্তেজনা, ঠিক তখনই দক্ষিণে মিনিয়াপলিসের রাস্তায় অভিবাসন দপ্তরের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ। এই সমান্তরাল দৃশ্যই বলে দেয়, মিনেসোটা আসলে এক নয়, একাধিক বাস্তবতার সমষ্টি। রেনি গুডের মৃত্যু সেই ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে।




সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















