গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘শান্তি বোর্ডে’ যোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না ভারত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাঠানো প্রস্তাবটি সরকার খুঁটিয়ে পরীক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্র।
রোববার ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে এই উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সব দিক বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে। ভারতের অবস্থান এখনও স্পষ্টভাবে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে এবং পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সব উদ্যোগকে সমর্থন করার নীতিতেই রয়েছে।

ট্রাম্পের প্রস্তাব কী নিয়ে
ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের নেতাদের পাঠানো চিঠিতে বলেছেন, এই শান্তি বোর্ড গাজায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে এবং বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে এক নতুন ও সাহসী পথের সূচনা করবে। ভবিষ্যতে এটি একটি বৈশ্বিক পরিষদে রূপ নিতে পারে, যার নেতৃত্বে থাকবেন ট্রাম্প নিজেই।
ভারতের আপত্তি ও কৌশলগত উদ্বেগ
সূত্রের মতে, এই বোর্ডের কাজের পরিধি যদি গাজার বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক সংঘাতে হস্তক্ষেপে বিস্তৃত হয়, তবে সেখানে ভারতের একাধিক কৌশলগত উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যুতে ভবিষ্যতে এই ধরনের মঞ্চের ভূমিকা নিয়ে নয়াদিল্লি সতর্ক।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের আগের কিছু মন্তব্যও আলোচনায় এসেছে। গত বছর মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষের পর তিনি মধ্যস্থতার দাবি করেছিলেন, যা ভারত স্পষ্টভাবে নাকচ করে জানায় যে সামরিক পর্যায়ের আলোচনাতেই উত্তেজনা থেমেছিল।

ফ্রান্সের অবস্থানও অনিশ্চিত
শুধু ভারত নয়, ফ্রান্সও এই শান্তি বোর্ডে এখনই যোগ দিতে আগ্রহী নয়। ফরাসি প্রেসিডেন্সির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত কাঠামোটি জাতিসংঘের নীতি ও কাঠামোর সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের মতে, জাতিসংঘের মূল কাঠামোকে প্রশ্নের মুখে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে ফ্রান্স গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলিদের জন্য বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠনের পক্ষে আগের মতোই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বোর্ডের গঠন
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, বেলারুশ ও থাইল্যান্ড ইতিমধ্যেই আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী নীতিগতভাবে প্রস্তাব গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। এই বোর্ড গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের সঙ্গে যুক্ত এবং ভবিষ্যতে পুনর্গঠন ও অর্থায়নের সমন্বয়ের দায়িত্ব নিতে পারে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি নির্বাহী কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে পররাষ্ট্র সচিব, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূতসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















