আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েকটি আসনে ফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে সমন্বিত চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, একটি বড় দল ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ছোট দল মিলেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নব্বইতম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সেখানে তিনি সতর্ক করে জানান, বিষয়টি হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই, কারণ এরই মধ্যে কয়েকটি আসনে ‘নির্বাচন প্রকৌশল’ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনে ফল ঘোরাতে গোপন প্রস্তুতির অভিযোগ
মির্জা আব্বাস বলেন, যে সব আসনে ছোট দলটি নির্বাচন করার পরিকল্পনা করেছে, সেখানে তাদের জয় নিশ্চিত করতে আগেভাগেই নানা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে কীভাবে প্রতিটি আসনে ওই দলের জয় নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়েই পরিকল্পনা চলছে। মূল লক্ষ্য একটাই—বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে না দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, এসব কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে না এলেও এর প্রস্তুতি অনেক দূর এগিয়েছে। তাই জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর এ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে ক্ষমতার লোভের সমালোচনা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা আব্বাস বলেন, এখন কেউ কেউ নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ বলে পরিচয় দিয়ে মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তাঁর ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধ করেছি, এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছি—তবু কখনো ক্ষমতা বা মন্ত্রিত্বের লোভ করিনি। অথচ যাঁদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই, তাঁরাই আজ ক্ষমতা দখলের জন্য অস্থির হয়ে উঠছেন।

বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, দলের নাম ব্যবহার করে যারা চাঁদাবাজি করছে, তাদের আগেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রকৃত চাঁদাবাজরা কারা, তা বিএনপি জানে এবং প্রয়োজনে নাম ধরে বলা যাবে। অথচ ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরাই এসব অপকর্মে জড়িত থেকেও দায় চাপানো হচ্ছে বিএনপির ওপর।
বিএনপির নির্বাচনী কৌশল
নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপি জনগণের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে ভোট চাইবে। যতটুকু সাংগঠনিক শক্তি আছে, তা নিয়েই মানুষের কাছে পৌঁছানো হবে। তাঁর মতে, মিছিল-মিটিং করা সহজ, কিন্তু নির্বাচন জেতা কঠিন—এটাই বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রচারণার সময় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটছে, যা নজরে রাখতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান
বিএনপির এই নেতা বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শক্তিগুলো আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তাই সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির অন্যান্য স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও বক্তব্য রাখেন। তাঁরা জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















