০৪:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’: জাতিসংঘের বিকল্প নাকি নতুন চাপের মঞ্চ আমাজনে দ্বিতীয় দফায় বড় ছাঁটাই: ৩০ হাজার কর্পোরেট কর্মী ঝুঁকিতে চীনের ভোক্তা ব্যয় বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ চীনে এনভিডিয়া সিইওর সফর: আটকে গেল নতুন এআই চিপ সরবরাহ শান্তি আলোচনার মাঝেই ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বৃষ্টি বাধায় নেটফ্লিক্সের ‘স্কাইস্ক্রেপার লাইভ যুক্তরাষ্ট্রে বিশাল শীতকালীন ঝড়ে বরফ, তুষার ও তীব্র শীত এআই ঝাঁঝালে রেজুমে: টপরেজুমে দিচ্ছে চাকরি আবেদনকে মেশিনে পার হওয়ার কৌশল সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতি মেয়াদ শেষের মুখে বাহিনী ও কুর্দিরা মুখোমুখি দিল্লিতে আবারও প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতারা, বাজানো হলো শেখ হাসিনার অডিও বার্তা

ইরান ঘেঁষা প্রভাব ঠেকাতে ইরাককে তেলের ডলার বন্ধের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে ইরাকের ওপর নজিরবিহীন চাপ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন সরকারে ইরানঘেঁষা সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব থাকলে ইরাকের তেল আয়ের ডলার প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে। এই হুমকি বাস্তবায়িত হলে ইরাকের রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

Iraq sets significant employment target - Iraqi News

যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বার্তা

গত দুই মাসে বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ কূটনীতিক ইরাকি রাজনীতিক ও প্রভাবশালী শিয়া নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে এই সতর্কবার্তা দেন। সূত্রগুলো বলছে, ইরানপন্থী কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতাদের কাছেও মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আলোচনাগুলো গোপন হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি।

ওয়াশিংটনের মূল বক্তব্য ছিল, নতুন সরকারে ইরানঘেঁষা গোষ্ঠীর কোনো প্রতিনিধি থাকলে সেই সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক স্থগিত করবে। এমনকি ইরাকের তেল বিক্রির অর্থ থেকে আসা ডলার পাঠানোও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

🇺🇸 BREAKING: The U.S. is threatening to freeze Iraq's oil dollar revenue  unless Baghdad pushes back against Iran-backed militias entering its  government. Washington has de facto control over how Iraq's oil dollars

তেল ডলারের নিয়ন্ত্রণই মূল অস্ত্র

ইরাকের তেল রপ্তানি থেকে পাওয়া অর্থ নিউইয়র্কের একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। এই ব্যবস্থার কারণে বাস্তবে সেই অর্থপ্রবাহের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে এই কাঠামো টিকে আছে, যা ইরাককে অর্থনৈতিকভাবে ওয়াশিংটনের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল করে রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকের অর্থনীতি তেল আয়ের ডলারের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই প্রবাহ বন্ধের হুমকি দেশটির জন্য অত্যন্ত গুরুতর বার্তা। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই কারণেই ইরানঘেঁষা গোষ্ঠীগুলো বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

নতুন সরকার গঠনে জটিল সমীকরণ

সাম্প্রতিক নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল সুদানির জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাবও বেড়েছে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে সময় লাগছে এবং এই প্রক্রিয়াকে ঘিরেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপ শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছেন সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচিত এক প্রভাবশালী ইরানঘেঁষা নেতা। ওয়াশিংটনের আপত্তির পর সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতৃত্ব তাকে পদ থেকে সরানোর ইঙ্গিত দিলেও এখনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি।

Iranian Interests, Iraqi Oil, And The U.S. Response | Council on Foreign  Relations

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েনের মাঝে ইরাক

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই ইরাককে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে দেখে আসছে। নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরান তার অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে ইরাকের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর ধরে এই ডলার প্রবাহ সীমিত করার চেষ্টা করছে।

এই পরিস্থিতিতে ইরাক আবারও দুই শক্তির টানাপোড়েনের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনে কোন পক্ষের প্রভাব বেশি থাকবে, তার ওপর নির্ভর করবে ইরাকের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’: জাতিসংঘের বিকল্প নাকি নতুন চাপের মঞ্চ

ইরান ঘেঁষা প্রভাব ঠেকাতে ইরাককে তেলের ডলার বন্ধের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

০২:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে ইরাকের ওপর নজিরবিহীন চাপ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন সরকারে ইরানঘেঁষা সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব থাকলে ইরাকের তেল আয়ের ডলার প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে। এই হুমকি বাস্তবায়িত হলে ইরাকের রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

Iraq sets significant employment target - Iraqi News

যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বার্তা

গত দুই মাসে বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ কূটনীতিক ইরাকি রাজনীতিক ও প্রভাবশালী শিয়া নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে এই সতর্কবার্তা দেন। সূত্রগুলো বলছে, ইরানপন্থী কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতাদের কাছেও মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আলোচনাগুলো গোপন হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি।

ওয়াশিংটনের মূল বক্তব্য ছিল, নতুন সরকারে ইরানঘেঁষা গোষ্ঠীর কোনো প্রতিনিধি থাকলে সেই সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক স্থগিত করবে। এমনকি ইরাকের তেল বিক্রির অর্থ থেকে আসা ডলার পাঠানোও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

🇺🇸 BREAKING: The U.S. is threatening to freeze Iraq's oil dollar revenue  unless Baghdad pushes back against Iran-backed militias entering its  government. Washington has de facto control over how Iraq's oil dollars

তেল ডলারের নিয়ন্ত্রণই মূল অস্ত্র

ইরাকের তেল রপ্তানি থেকে পাওয়া অর্থ নিউইয়র্কের একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। এই ব্যবস্থার কারণে বাস্তবে সেই অর্থপ্রবাহের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে এই কাঠামো টিকে আছে, যা ইরাককে অর্থনৈতিকভাবে ওয়াশিংটনের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল করে রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকের অর্থনীতি তেল আয়ের ডলারের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই প্রবাহ বন্ধের হুমকি দেশটির জন্য অত্যন্ত গুরুতর বার্তা। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই কারণেই ইরানঘেঁষা গোষ্ঠীগুলো বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

নতুন সরকার গঠনে জটিল সমীকরণ

সাম্প্রতিক নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল সুদানির জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাবও বেড়েছে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে সময় লাগছে এবং এই প্রক্রিয়াকে ঘিরেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপ শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছেন সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচিত এক প্রভাবশালী ইরানঘেঁষা নেতা। ওয়াশিংটনের আপত্তির পর সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতৃত্ব তাকে পদ থেকে সরানোর ইঙ্গিত দিলেও এখনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি।

Iranian Interests, Iraqi Oil, And The U.S. Response | Council on Foreign  Relations

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েনের মাঝে ইরাক

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই ইরাককে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে দেখে আসছে। নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরান তার অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে ইরাকের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর ধরে এই ডলার প্রবাহ সীমিত করার চেষ্টা করছে।

এই পরিস্থিতিতে ইরাক আবারও দুই শক্তির টানাপোড়েনের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনে কোন পক্ষের প্রভাব বেশি থাকবে, তার ওপর নির্ভর করবে ইরাকের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।