ইরানের প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে ইরাকের ওপর নজিরবিহীন চাপ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন সরকারে ইরানঘেঁষা সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব থাকলে ইরাকের তেল আয়ের ডলার প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে। এই হুমকি বাস্তবায়িত হলে ইরাকের রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বার্তা
গত দুই মাসে বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ কূটনীতিক ইরাকি রাজনীতিক ও প্রভাবশালী শিয়া নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে এই সতর্কবার্তা দেন। সূত্রগুলো বলছে, ইরানপন্থী কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতাদের কাছেও মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আলোচনাগুলো গোপন হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি।
ওয়াশিংটনের মূল বক্তব্য ছিল, নতুন সরকারে ইরানঘেঁষা গোষ্ঠীর কোনো প্রতিনিধি থাকলে সেই সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক স্থগিত করবে। এমনকি ইরাকের তেল বিক্রির অর্থ থেকে আসা ডলার পাঠানোও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
তেল ডলারের নিয়ন্ত্রণই মূল অস্ত্র
ইরাকের তেল রপ্তানি থেকে পাওয়া অর্থ নিউইয়র্কের একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। এই ব্যবস্থার কারণে বাস্তবে সেই অর্থপ্রবাহের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে এই কাঠামো টিকে আছে, যা ইরাককে অর্থনৈতিকভাবে ওয়াশিংটনের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল করে রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকের অর্থনীতি তেল আয়ের ডলারের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই প্রবাহ বন্ধের হুমকি দেশটির জন্য অত্যন্ত গুরুতর বার্তা। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই কারণেই ইরানঘেঁষা গোষ্ঠীগুলো বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
নতুন সরকার গঠনে জটিল সমীকরণ
সাম্প্রতিক নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল সুদানির জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাবও বেড়েছে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে সময় লাগছে এবং এই প্রক্রিয়াকে ঘিরেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপ শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছেন সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচিত এক প্রভাবশালী ইরানঘেঁষা নেতা। ওয়াশিংটনের আপত্তির পর সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতৃত্ব তাকে পদ থেকে সরানোর ইঙ্গিত দিলেও এখনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েনের মাঝে ইরাক
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই ইরাককে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে দেখে আসছে। নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরান তার অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে ইরাকের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর ধরে এই ডলার প্রবাহ সীমিত করার চেষ্টা করছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরাক আবারও দুই শক্তির টানাপোড়েনের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনে কোন পক্ষের প্রভাব বেশি থাকবে, তার ওপর নির্ভর করবে ইরাকের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















