হিমশীতল শীত আর অব্যাহত হামলার মধ্যে কিয়েভ শহর যখন বিদ্যুৎ ও তাপের সংকটে কাঁপছে, তখন ইউক্রেনের রাজধানীর চিড়িয়াখানায় চলছে আরেক যুদ্ধ। এই যুদ্ধ প্রাণ বাঁচানোর, উষ্ণতা ধরে রাখার, আর নির্ঘুম রাত পেরোনোর। রুশ হামলায় দেশের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শহর জুড়ে অন্ধকার ও ঠান্ডা নেমে এলেও চিড়িয়াখানার বাসিন্দাদের জন্য পালানোর কোনো সুযোগ নেই।
শীতের মধ্যে চিড়িয়াখানার প্রাণীদের লড়াই
কিয়েভের মেয়র নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে আহ্বান জানালেও চিড়িয়াখানার প্রাণীদের ক্ষেত্রে সেই পরামর্শ কার্যকর নয়। পঞ্চাশোর্ধ্ব গরিলা টনি কিংবা হাতি, ঘোড়া, বাইসনদের জন্য গ্রাম বা অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাণীগুলোকে সুরক্ষিত রাখাই এখন তাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
গরিলা টনির জন্য আলাদা সংগ্রাম
চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ গরিলা টনিকে উষ্ণ রাখতে দিনে পাঁচবার করে জ্বালানি কাঠ সরবরাহ করা হচ্ছে। তার খাঁচার ভেতরে তাপমাত্রা প্রায় বিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস ধরে রাখতে সারাক্ষণ জ্বলছে চুলা। চিড়িয়াখানার প্রধান কিরিলো ত্রান্তিন বলেন, মানুষকে গ্রামে যেতে বলা যায়, কিন্তু টনিকে সে কথা বলা অসম্ভব। তার থাকার মতো কোনো বিকল্প জায়গা নেই।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট আর পানির সংকট
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বারবার হামলার কারণে কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। তাপমাত্রা নেমে যাচ্ছে মাইনাস আঠারো ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। এতে শুধু বিদ্যুৎ নয়, পানির সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। চিড়িয়াখানায় তাই সারাক্ষণ জেনারেটর চালু রেখে প্রাণীদের উষ্ণতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

হাতির পানির চাহিদা মেটাতে প্রস্তুতি
চিড়িয়াখানার কর্মী ভিক্টোরিয়া স্লুঝেঙ্কো জানান, একটি হাতির দৈনিক প্রয়োজন প্রায় দেড়শ লিটার পানি। সেই চাহিদা মেটাতে আগেভাগেই পানি মজুত রাখা হচ্ছে। অন্তত তিন দিন স্বনির্ভর ভাবে টিকে থাকার মতো প্রস্তুতি রাখা হয়েছে, যাতে জরুরি অবস্থায় প্রাণীদের জীবন রক্ষা করা যায়।
কর্মীদের ওপর মানসিক চাপ
প্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখার এই দায়িত্ব কর্মীদের ওপরও গভীর মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। নিজেদের পরিবার ও নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যেই তাদের প্রতিদিন লড়তে হচ্ছে তাপ আর বিদ্যুৎ ধরে রাখার জন্য। যুদ্ধ প্রায় চার বছরে গড়ালেও সংকটের শেষ দেখা যাচ্ছে না। চিড়িয়াখানার প্রধানের ভাষায়, প্রতিটি দিনই এখন উষ্ণতা আর শক্তির জন্য নতুন এক যুদ্ধ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















