০৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
আমাকে ক্ষেপালে আপনার হাফপ্যান্ট খুলে যাবে, কারণ আমরা শেখ হাসিনার হাফপ্যান্ট খুলে দিয়েছিলাম: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আইসিসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ বাদ এলসি খোলা বাড়লেও নিষ্পত্তিতে বাধা শেখ হাসিনার সঙ্গে তিশার ছবি জাদুঘরে রাখার প্রস্তাব, শাওনের কটাক্ষে তোলপাড় শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি বাড়ল, সূচকের উত্থানে ফিরল বিনিয়োগকারীদের আস্থা আইসিসির প্রত্যাখ্যান, বিশ্বকাপ থেকে বাদ বাংলাদেশ ১,৩০০ কোটি টাকার জিকে সেচ পুনর্বাসন প্রকল্পে নতুন প্রাণ পাচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমের কৃষি আফ্রিকার খাদ্যবাজারের অদৃশ্য শক্তি: মহাদেশের ভেতরের বাণিজ্য যতটা ভাবা হয় তার চেয়ে অনেক বড় গাজায় শান্তিতে বিরক্ত ট্রাম্প, বোর্ডের রাজনীতি আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ইরানের রক্তাক্ত দমন-পীড়নের পর ক্ষমতার ভেতরে ফাটল, বাড়ছে শাসনব্যবস্থার অস্থিরতা

ইরানের রক্তাক্ত দমন-পীড়নের পর ক্ষমতার ভেতরে ফাটল, বাড়ছে শাসনব্যবস্থার অস্থিরতা

উপরে উপরে আবার শান্ত। রাজপথে আন্দোলন নেই, শহর জুড়ে কড়া নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু এই নীরবতার নিচে জমে উঠছে ভয়, ক্ষোভ আর অনিশ্চয়তা। সাম্প্রতিক গণহত্যার পর ইরানের শাসনব্যবস্থার ভেতরেই বাড়ছে টানাপোড়েন, আর সেই চাপে কেঁপে উঠছে পুরো ব্যবস্থা।

ভয় ফিরেছে, কিন্তু ক্ষত গভীর

তেহরানে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত কার্যত কারফিউ। মুখোশধারীরা রাস্তায় টহল দিচ্ছে, ছাদে ছাদে খোঁজা হচ্ছে স্যাটেলাইট সংযোগ। যেসব প্রতিষ্ঠান আন্দোলনে সহায়তার সন্দেহে পড়েছে, সেখানে হানা দিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। যে শহরগুলো থেকে প্রথম প্রতিবাদ ছড়িয়েছিল, সেগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। অনেক পরিবার গুলিবিদ্ধ সন্তানের মরদেহ পেতে বিপুল অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছে। এই নিষ্ঠুর বাস্তবতায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের হিসাবে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও গ্রেপ্তার হয়েছে, আর তেহরানের ভেতরেই শোনা যাচ্ছে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

ক্ষমতার শীর্ষে অনড় অবস্থান

রাষ্ট্রক্ষমতার কাঠামো আপাতত বদলায়নি। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট প্রথমে প্রতিবাদকে বৈধ বললেও দ্রুতই ধর্মীয় শাসনের কঠোরতা সবকিছু ঢেকে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলে হত্যাকে正当তা দিয়েছেন। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি পিছু হটার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছেন না।

ভেতরে ভেতরে কাঁপছে ব্যবস্থা

তবু আড়ালে কথাবার্তা থামেনি। ক্ষমতাকেন্দ্রের আশপাশে থাকা মানুষজন বলছেন, একটি সীমা পার হয়ে গেছে। এই অবস্থায় স্থিতাবস্থা টেকসই নয়। রাজপথে শোক ধীরে ধীরে রাগে রূপ নিচ্ছে। জানাজা আর রাতের নীরবতায় আবারও শোনা যাচ্ছে সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে স্লোগান। দেশ-বিদেশে ইরানিরা ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের সম্ভাব্য পথ আঁকছেন।

উত্তরসূরি ভাবনা ও অভ্যন্তরীণ হিসাব

শাসকগোষ্ঠীর ভেতরে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে। বয়স, অজনপ্রিয়তা আর আন্তর্জাতিক চাপে অনেকেই মনে করছেন নেতৃত্ব বদল অবশ্যম্ভাবী। কেউ কেউ মনে করেন বিদেশনীতি ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কঠোর অবস্থানের কারণেই সুযোগ নষ্ট হয়েছে। শক্ত কোনো অভ্যন্তরীণ অভ্যুত্থানই বাস্তবসম্মত পথ বলে অনেকে ভাবছেন, যদিও নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থন ছাড়া কেউ এগোতে সাহস পাচ্ছেন না।

নিরাপত্তা বাহিনী কি এক থাকবে

বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী এখনো বড় শক্তি, তবে তারা একক সত্তা নয়। সাম্প্রতিক সংঘাতে নেতৃত্ব কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেতরে ভেতরে প্রশ্ন উঠছে, আনুগত্য থাকবে ব্যক্তির প্রতি, না দেশের প্রতি। আত্মরক্ষার তাগিদে কেউ কেউ ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

বিরোধী শিবিরের প্রস্তুতি

সরকারবিরোধীরাও পরবর্তী দিনের কথা ভাবছে। সাবেক রাজবংশের উত্তরসূরি এখন সবচেয়ে পরিচিত মুখ হলেও তার বাইরে প্রগতিশীল শক্তিগুলোর বিস্তৃত জোট রয়েছে। শিক্ষক, শ্রমিক, ছাত্র, নারী অধিকারকর্মী এবং রাজনৈতিক বন্দিদের সমর্থনে এই ধারাটি ধীরে ধীরে সংগঠিত হচ্ছে। তাদের দাবি, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা হতে হবে গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক।

পরিবর্তনের নকশা ও বিভক্ত মত

বিভিন্ন গোষ্ঠী ইতিমধ্যে রূপান্তরের রূপরেখা প্রকাশের পথে। কেউ আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে অন্তর্বর্তীকাল, কেউ সাংবিধানিক পরিষদের কথা বলছেন। আবার মতভেদও স্পষ্ট। কেউ ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র চান, কেউ রাজতন্ত্রের সঙ্গে গণতন্ত্রের মিশ্রণ, কেউ ধর্মীয় কাঠামোর ভেতরেই সংস্কার চান। এই বিভাজনই বিরোধীদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।

বাইরের ছায়া ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

সবকিছুর ওপর ভর করছে বাইরের চাপ। উপকূলে বড় সামরিক উপস্থিতির খবর উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অনেকের মতে, ভেতর থেকে পরিবর্তনই কম ক্ষতিকর পথ। নইলে বাইরের হস্তক্ষেপ দেশকে আরও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। আপাতত ক্ষমতা কেন্দ্রে রয়েছে পুরোনো হাতেই, কিন্তু ভিতরে জমে থাকা অস্থিরতা যে কোনো সময় বড় মোড় নিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আমাকে ক্ষেপালে আপনার হাফপ্যান্ট খুলে যাবে, কারণ আমরা শেখ হাসিনার হাফপ্যান্ট খুলে দিয়েছিলাম: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ইরানের রক্তাক্ত দমন-পীড়নের পর ক্ষমতার ভেতরে ফাটল, বাড়ছে শাসনব্যবস্থার অস্থিরতা

০৬:৫৮:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

উপরে উপরে আবার শান্ত। রাজপথে আন্দোলন নেই, শহর জুড়ে কড়া নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু এই নীরবতার নিচে জমে উঠছে ভয়, ক্ষোভ আর অনিশ্চয়তা। সাম্প্রতিক গণহত্যার পর ইরানের শাসনব্যবস্থার ভেতরেই বাড়ছে টানাপোড়েন, আর সেই চাপে কেঁপে উঠছে পুরো ব্যবস্থা।

ভয় ফিরেছে, কিন্তু ক্ষত গভীর

তেহরানে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত কার্যত কারফিউ। মুখোশধারীরা রাস্তায় টহল দিচ্ছে, ছাদে ছাদে খোঁজা হচ্ছে স্যাটেলাইট সংযোগ। যেসব প্রতিষ্ঠান আন্দোলনে সহায়তার সন্দেহে পড়েছে, সেখানে হানা দিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। যে শহরগুলো থেকে প্রথম প্রতিবাদ ছড়িয়েছিল, সেগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। অনেক পরিবার গুলিবিদ্ধ সন্তানের মরদেহ পেতে বিপুল অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছে। এই নিষ্ঠুর বাস্তবতায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের হিসাবে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও গ্রেপ্তার হয়েছে, আর তেহরানের ভেতরেই শোনা যাচ্ছে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

ক্ষমতার শীর্ষে অনড় অবস্থান

রাষ্ট্রক্ষমতার কাঠামো আপাতত বদলায়নি। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট প্রথমে প্রতিবাদকে বৈধ বললেও দ্রুতই ধর্মীয় শাসনের কঠোরতা সবকিছু ঢেকে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলে হত্যাকে正当তা দিয়েছেন। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি পিছু হটার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছেন না।

ভেতরে ভেতরে কাঁপছে ব্যবস্থা

তবু আড়ালে কথাবার্তা থামেনি। ক্ষমতাকেন্দ্রের আশপাশে থাকা মানুষজন বলছেন, একটি সীমা পার হয়ে গেছে। এই অবস্থায় স্থিতাবস্থা টেকসই নয়। রাজপথে শোক ধীরে ধীরে রাগে রূপ নিচ্ছে। জানাজা আর রাতের নীরবতায় আবারও শোনা যাচ্ছে সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে স্লোগান। দেশ-বিদেশে ইরানিরা ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের সম্ভাব্য পথ আঁকছেন।

উত্তরসূরি ভাবনা ও অভ্যন্তরীণ হিসাব

শাসকগোষ্ঠীর ভেতরে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে। বয়স, অজনপ্রিয়তা আর আন্তর্জাতিক চাপে অনেকেই মনে করছেন নেতৃত্ব বদল অবশ্যম্ভাবী। কেউ কেউ মনে করেন বিদেশনীতি ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কঠোর অবস্থানের কারণেই সুযোগ নষ্ট হয়েছে। শক্ত কোনো অভ্যন্তরীণ অভ্যুত্থানই বাস্তবসম্মত পথ বলে অনেকে ভাবছেন, যদিও নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থন ছাড়া কেউ এগোতে সাহস পাচ্ছেন না।

নিরাপত্তা বাহিনী কি এক থাকবে

বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী এখনো বড় শক্তি, তবে তারা একক সত্তা নয়। সাম্প্রতিক সংঘাতে নেতৃত্ব কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেতরে ভেতরে প্রশ্ন উঠছে, আনুগত্য থাকবে ব্যক্তির প্রতি, না দেশের প্রতি। আত্মরক্ষার তাগিদে কেউ কেউ ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

বিরোধী শিবিরের প্রস্তুতি

সরকারবিরোধীরাও পরবর্তী দিনের কথা ভাবছে। সাবেক রাজবংশের উত্তরসূরি এখন সবচেয়ে পরিচিত মুখ হলেও তার বাইরে প্রগতিশীল শক্তিগুলোর বিস্তৃত জোট রয়েছে। শিক্ষক, শ্রমিক, ছাত্র, নারী অধিকারকর্মী এবং রাজনৈতিক বন্দিদের সমর্থনে এই ধারাটি ধীরে ধীরে সংগঠিত হচ্ছে। তাদের দাবি, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা হতে হবে গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক।

পরিবর্তনের নকশা ও বিভক্ত মত

বিভিন্ন গোষ্ঠী ইতিমধ্যে রূপান্তরের রূপরেখা প্রকাশের পথে। কেউ আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে অন্তর্বর্তীকাল, কেউ সাংবিধানিক পরিষদের কথা বলছেন। আবার মতভেদও স্পষ্ট। কেউ ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র চান, কেউ রাজতন্ত্রের সঙ্গে গণতন্ত্রের মিশ্রণ, কেউ ধর্মীয় কাঠামোর ভেতরেই সংস্কার চান। এই বিভাজনই বিরোধীদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।

বাইরের ছায়া ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

সবকিছুর ওপর ভর করছে বাইরের চাপ। উপকূলে বড় সামরিক উপস্থিতির খবর উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অনেকের মতে, ভেতর থেকে পরিবর্তনই কম ক্ষতিকর পথ। নইলে বাইরের হস্তক্ষেপ দেশকে আরও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। আপাতত ক্ষমতা কেন্দ্রে রয়েছে পুরোনো হাতেই, কিন্তু ভিতরে জমে থাকা অস্থিরতা যে কোনো সময় বড় মোড় নিতে পারে।