সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ সিকসু নির্বাচনের দাবিতে আবারও আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছেন, সিকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।
রোববার থেকে শাটডাউন কার্যকর
আন্দোলনকারীরা জানান, রোববার থেকে এই পূর্ণ শাটডাউন কার্যকর হবে এবং নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তা চলবে। দুপুরে এই ঘোষণা দেন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত দুর্বার শাবিপ্রবি ঐক্য প্যানেলের সহসভাপতি প্রার্থী দিলওয়ার হাসান শিশির।
তিনি বলেন, সিকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগেই সম্পন্ন করতে হবে। শুক্রবার সব বিভাগের শ্রেণি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল
শনিবার বিকেলে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বিকেল পাঁচটার দিকে গোল চত্বর থেকে শুরু হওয়া মিছিল শাহপরান হল এলাকা ঘুরে সাঈদ মুজতবা আলী হলে সংক্ষিপ্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। পরে মিছিলটি চেতনা একাত্তর হয়ে ছাত্রী হলগুলো অতিক্রম করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
স্লোগানে মুখর আন্দোলন
মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সিকসু নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁদের কণ্ঠে শোনা যায়, সিকসু বন্ধ করা যাবে না, ঢাকা থেকে সিকসু বন্ধের সিদ্ধান্ত মানা হবে না এবং সিকসু নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা।

বিক্ষোভে নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ
এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন সহসভাপতি প্রার্থী দিলওয়ার হাসান শিশির। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী পলাশ বখতিয়ারসহ জুনায়েদ আহমেদ, ফয়সাল এবং বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সালেহ মো. নাসিমসহ আরও অনেকে।
নির্বাচন স্থগিতের পটভূমি
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৮ বছর পর গত ২০ জানুয়ারি সিকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে দুই প্রার্থী ও এক শিক্ষার্থীর দায়ের করা রিটের পর নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। গত ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট সিকসু নির্বাচনের প্রক্রিয়ার ওপর চার সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















