কারাগারের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে শেষবারের মতো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সাদ্দাম। চোখের সামনে শুয়ে ছিল তার নয় মাসের শিশুসন্তান, নিথর, নিশ্চুপ। ফটকের এই পাশেই শেষ হয়ে গেল একজন বাবার সব স্বপ্ন। কারাগারের গেটের সামনে মৃত শিশুকে ছুঁয়ে দেখার সেই মুহূর্তে শুধু একজন বন্দি নয়, ভেঙে পড়েছিল একটি দেশ।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামকে তার স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। শনিবার সন্ধ্যায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মরদেহ দুটি কারাগারে আনা হয়।
কারাগারের ভেতরের শেষ মুহূর্ত
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, একাধিক মামলায় আটক থাকা সাদ্দাম বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। মরদেহ আনার পর অল্প সময়ের জন্য তাকে কারাগারের ভেতরে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি স্ত্রীর নিথর দেহ স্পর্শ করেন এবং কোলে নেন নয় মাসের শিশুটিকে।
শিশুটির জন্ম হয়েছিল বাবার কারাবন্দি অবস্থায়। ফলে এই কোলে নেওয়াই ছিল সন্তানের সঙ্গে তার প্রথম এবং শেষ সাক্ষাৎ। কারা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় সাদ্দাম ছিলেন নির্বাক ও ভেঙে পড়া এক মানুষ।

বাগেরহাটের সেই মর্মান্তিক দিন
এর আগে শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালি এবং তাদের নয় মাসের শিশুসন্তানকে নিজ বাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বর্ণালি দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর কারাবাস নিয়ে চরম মানসিক চাপে ভুগছিলেন। স্বামীর মুক্তির আশায় তিনি নানা জায়গায় চেষ্টা করলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা ও গভীর বিষণ্নতায় ডুবে যান।
চরম হতাশা থেকে মৃত্যুর পথ
স্বজনদের দাবি, চরম হতাশার মুহূর্তে স্বর্ণালি প্রথমে তার শিশুসন্তানকে হত্যা করেন এবং পরে নিজেও আত্মহত্যা করেন। ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং বন্দি স্বামীকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দিতে মরদেহগুলো যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

কারাবাস, চিরকুট আর অপূর্ণ আশ্বাস
পরিবারের সদস্যরা জানান, কারাগারে থাকা অবস্থায় সাদ্দাম মাঝে মাঝে স্ত্রীর কাছে চিরকুট পাঠাতেন। সেখানে তিনি শিগগির মুক্তি পাওয়ার আশ্বাস দিতেন। কিন্তু সেই আশ্বাসই শেষ পর্যন্ত স্বর্ণালির মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে তোলে বলে দাবি পরিবারের।
কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট আবিদ আহমেদ জানান, গত ১৫ ডিসেম্বর সাদ্দামকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। মরদেহ দেখার পর তাকে পুনরায় নিজ ওয়ার্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















