লাতিন আমেরিকায় ইরানের প্রভাব কমাতে কূটনৈতিক চাপ জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বলিভিয়াকে সন্দেহভাজন ইরানি গোয়েন্দাদের দেশছাড়া করা এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল
ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজের সঙ্গে নীরব কূটনৈতিক আলোচনায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী, লেবাননভিত্তিক হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই সংগঠনগুলো তেহরানের প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে এবং লাতিন আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
![]()
বলিভিয়ার অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া
বলিভিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে দেশটির ভেতরে অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি উৎপাদন হ্রাস এবং রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্যেই এই কূটনৈতিক চাপ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি নিয়ে বলিভিয়ার সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
লাতিন আমেরিকায় ইরানের নেটওয়ার্ক
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের দাবি, ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরে লাতিন আমেরিকায় ইরানের কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা তৎপরতার প্রধান কেন্দ্র ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বলিভিয়া ও নিকারাগুয়া দ্বিতীয় পর্যায়ের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বলিভিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান, সীমিত নজরদারি ও রাজনৈতিক পরিবেশ ইরানের জন্য সুবিধাজনক বলে মনে করা হয়।
রাজনৈতিক পরিবর্তনে সুযোগ দেখছে যুক্তরাষ্ট্র
দীর্ঘ সময় বামপন্থী শাসনের পর বলিভিয়ায় মধ্যপন্থী নতুন সরকারের ক্ষমতায় আসাকে ওয়াশিংটন একটি কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে। নতুন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহ দেখাচ্ছে। এরই মধ্যে উন্নয়ন সহায়তার একটি পথও খুলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আঞ্চলিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই উদ্যোগ শুধু বলিভিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্র চিলি, পেরু ও পানামার মতো দেশগুলোর সঙ্গেও একই ধরনের আলোচনা এগিয়ে নিতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এর আগে ইকুয়েডর ও আর্জেন্টিনা ইরানঘনিষ্ঠ বাহিনীকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করেছে, যা এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানকে আরও জোরালো করেছে।

নিরাপত্তা ও বিতর্ক
লাতিন আমেরিকায় হিজবুল্লাহর উপস্থিতি নিয়ে গোয়েন্দা মহলে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, সংগঠনটি এখানে অর্থ সংগ্রহ ও অবৈধ বাণিজ্যের মাধ্যমে তৎপরতা চালায়। অন্যদের মতে, অনেক অর্থপ্রবাহ অভিবাসী সম্প্রদায়ের দান ও রেমিট্যান্সের ফল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট, ইরান ও তার মিত্রদের প্রভাব কমাতে এখন আগের চেয়ে আরও আক্রমণাত্মক কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















