দুবাইকে বৈশ্বিক খাদ্য বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার লক্ষ্যে ডিপি ওয়ার্ল্ড উন্মোচন করল দুবাই ফুড ডিস্ট্রিক্ট। আল আউর কেন্দ্রীয় ফল ও সবজি বাজারের বিস্তৃতি ও নতুন রূপে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও আধুনিক খাদ্য বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নতুন পরিচয়ে আল আউইর বাজার
দুবাই ফুড ডিস্ট্রিক্টের আওতায় ফল ও সবজির পাশাপাশি দুগ্ধজাত পণ্য, খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য এবং বিশেষ পণ্যের বাণিজ্য এক ছাতার নিচে আসবে। এর মাধ্যমে দুবাইকে বৈশ্বিক খাদ্য বাণিজ্যের সমন্বিত প্রবেশদ্বার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে এবং প্রথম ধাপ শুরু হওয়ার কথা দুই হাজার সাতাশ সালে।

বিস্তৃত অবকাঠামো ও আধুনিক সুবিধা
নতুন জেলা গড়ে উঠলে বিদ্যমান বাজারের আকারের দ্বিগুণেরও বেশি বিস্তৃতি ঘটবে। প্রায় দুই কোটি নব্বই লক্ষ বর্গফুট জায়গা জুড়ে তৈরি হবে বহু শ্রেণির খাদ্য বাণিজ্য কেন্দ্র। এখানে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিতরণ ও বাণিজ্য কার্যক্রম একীভূত থাকবে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত গুদাম, আধুনিক কোল্ড স্টোর, প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রক্রিয়াকরণ সুবিধা, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, পাইকারি বিক্রয় ব্যবস্থা এবং খাদ্য হল গড়ে তোলা হবে।
আঞ্চলিক খাদ্য নিরাপত্তায় ভূমিকা
আল আউয়ার বাজার দুই হাজার চার সালে যাত্রা শুরু করে এবং বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ পুরো অঞ্চলে তাজা খাদ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নতুন সম্প্রসারণে এই বাজারের ঐতিহ্য বজায় রেখেই গতি, দক্ষতা ও বৈচিত্র্য বাড়ানো হবে। এতে খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি কমবে এবং ব্যবসায়ীদের জন্য বাজারে পৌঁছানোর সময় আরও দ্রুত হবে।

নেতৃত্বের বক্তব্য
ডিপি ওয়ার্ল্ডের গ্রুপ চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম জানান, এই প্রকল্প বিশ্বমানের অবকাঠামো ও উন্নত লজিস্টিক এর সমন্বয়ে দুবাইয়ের খাদ্য বাণিজ্যে নেতৃত্ব আরও সুদৃঢ় করবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে কৃষক, উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত, দক্ষ ও টেকসই উপায়ে নতুন বাজারে পৌঁছাতে পারবেন।
ডিপি ওয়ার্ল্ড জিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ বিন দামিথান বলেন, বৈশ্বিক খাদ্য চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দুবাই ফুড ডিস্ট্রিক্ট একটি কৌশলগত বিনিয়োগ, যা খাদ্য খাতে উদ্ভাবন ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি করবে।
বৈশ্বিক সংযোগ ও বিনিয়োগ আকর্ষণ

এই খাদ্য জেলা বহুমুখী যোগাযোগ সুবিধার মাধ্যমে বিশ্বের বিশটিরও বেশি বাজারের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর ফলে ছোট বড় সব ব্যবসা নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে। গালফুড দুই হাজার ছাব্বিশ প্রদর্শনীতে ডিপি ওয়ার্ল্ড এই প্রকল্প তুলে ধরবে।
খাদ্য নিরাপত্তা কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী ডক্টর আমনা বিনত আবদুল্লাহ আল দাহাক আল শামস জানান, বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্য লজিস্টিক কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার মতে, খাদ্য আমদানির উৎস বৈচিত্র্য ও বাণিজ্য সহজীকরণ এই কৌশলের মূল অগ্রাধিকার। এই প্রকল্প সরাসরি বিনিয়োগ বাড়াবে, স্থানীয় উৎপাদন জোরদার করবে এবং টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থায় রূপান্তর ত্বরান্বিত করবে।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ দেশটির খাদ্য বাণিজ্যের আকার দ্বিগুণ করতে সহায়তা করবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। একই সঙ্গে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছাতে ভূমিকা রাখবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















