০১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগে নতুন চাপের শঙ্কা, উদ্বেগে সাধারণ গ্রাহক সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্ক টিকার তীব্র সংকট, চড়া দামে কিনতে বাধ্য রোগীরা হাওরের ভেজা ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক, সরকারি গুদামে বিক্রিও বন্ধ সোনার দামে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন মোড়, ভরিতে আবারও বাড়ল ২ হাজার ১৫৮ টাকা ভারতের প্রাচীনতম প্রাসাদ পদ্মনাভপুরম, আজও টিকে আছে ১৬ শতকের রাজকীয় ঐতিহ্য শুভেন্দু কি পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? শুক্রবার বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার এলে ৪৫ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের জমি বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি ফার্মগেটে চলন্ত প্রাইভেটকারে আগুন, আতঙ্কের পর স্বাভাবিক যান চলাচল রাজশাহীতে পুলিশের সামনেই টেন্ডার বাক্স ছিনতাই, অভিযোগ যুব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে হাম পরীক্ষার কিট শেষের পথে, ১১ মের পর বন্ধ হতে পারে নমুনা পরীক্ষা

পাকিস্তানে চাকরিনির্ভর সমাজের উত্থান, কর্মজীবীদের ছয় ভাগের পাঁচ ভাগ এখন বেতনভুক্ত

পাকিস্তানের শ্রমবাজারে বড় ধরনের রূপান্তর ঘটছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের মোট কর্মশক্তির প্রায় ছয় ভাগের পাঁচ ভাগ মানুষ এখন বেতনভুক্ত কর্মচারী। দীর্ঘদিনের স্বনিযুক্ত ও পারিবারিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল কাঠামো থেকে সরে এসে পাকিস্তান দ্রুত একটি চাকরি নির্ভর সমাজে পরিণত হচ্ছে।

জরিপে উঠে এসেছে পরিবর্তনের চিত্র

গ্যালাপ পাকিস্তানের বিস্তৃত জরিপের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে দুই হাজার থেকে দুই হাজার পঁচিশ সাল পর্যন্ত গৃহস্থালি আয় ও ব্যয় জরিপ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে যেখানে বেতনভুক্ত কর্মীর হার ছিল সাতচল্লিশ শতাংশ, সেখানে এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ষাট শতাংশে। এই পরিবর্তন নগরায়ণ এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর রূপান্তরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

Protection for Pakistan's domestic workers will take more than laws -  CSMonitor.com

 

স্বনিযুক্ত ও পারিবারিক কাজ কমছে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বনিযুক্ত মানুষের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এক সময় যেখানে এই হার ছিল আটাশ দশমিক পাঁচ শতাংশ, সেখানে এখন তা নেমে এসেছে একুশ দশমিক আট শতাংশে। একই সঙ্গে পারিবারিক কাজে যুক্ত কর্মীর হারও কমে এসেছে বিশ দশমিক আট শতাংশ থেকে তেরো দশমিক পাঁচ শতাংশে। এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যে স্বাধীন পেশা ও পারিবারিক উদ্যোগের জায়গা দখল করে নিচ্ছে নিয়মিত বেতন ভিত্তিক চাকরি।

উদ্যোক্তা শ্রেণির স্থবিরতা উদ্বেগ বাড়ছে

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো নিয়োগদাতা বা উদ্যোক্তা শ্রেণির অবস্থান। প্রায় তিন দশক ধরে এই শ্রেণির অংশ শ্রমবাজারে প্রায় এক শতাংশেই স্থির রয়েছে। অর্থাৎ নতুন ব্যবসা শুরু করে অন্যদের কাজের সুযোগ করে দেওয়ার হার বাড়ছে না। ফলে কর্মসংস্থান বাড়লেও প্রকৃত কর্মসৃষ্টিকারীর সংখ্যা একই জায়গায় আটকে আছে।

মধ্যবিত্তের ঝুঁকি বাড়ছে

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্ত শ্রেণি সংখ্যায় বাড়লেও তারা অর্থনৈতিক ঝাঁকুনির প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ছে। মূল্যস্ফীতি, সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং উৎপাদনশীলতার স্থবিরতা তাদের আয়ের নিরাপত্তাকে দুর্বল করে তুলছে। উদ্যোক্তা বাড়ানো ছাড়া এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয় বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

নীতিগত পরিবর্তনের তাগিদ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগকে সহায়তা করার জন্য দ্রুত নীতিগত হস্তক্ষেপ জরুরি। কেবল চাকরি দেওয়ার দিকে নজর না দিয়ে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে আরো বেশি পাকিস্তানি কর্মচারী থেকে কর্মসৃষ্টিকারীতে রূপান্তরিত হতে পারেন। তবেই অর্থনীতি হবে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও সহনশীল।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগে নতুন চাপের শঙ্কা, উদ্বেগে সাধারণ গ্রাহক

পাকিস্তানে চাকরিনির্ভর সমাজের উত্থান, কর্মজীবীদের ছয় ভাগের পাঁচ ভাগ এখন বেতনভুক্ত

০৫:৪৪:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তানের শ্রমবাজারে বড় ধরনের রূপান্তর ঘটছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের মোট কর্মশক্তির প্রায় ছয় ভাগের পাঁচ ভাগ মানুষ এখন বেতনভুক্ত কর্মচারী। দীর্ঘদিনের স্বনিযুক্ত ও পারিবারিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল কাঠামো থেকে সরে এসে পাকিস্তান দ্রুত একটি চাকরি নির্ভর সমাজে পরিণত হচ্ছে।

জরিপে উঠে এসেছে পরিবর্তনের চিত্র

গ্যালাপ পাকিস্তানের বিস্তৃত জরিপের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে দুই হাজার থেকে দুই হাজার পঁচিশ সাল পর্যন্ত গৃহস্থালি আয় ও ব্যয় জরিপ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে যেখানে বেতনভুক্ত কর্মীর হার ছিল সাতচল্লিশ শতাংশ, সেখানে এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ষাট শতাংশে। এই পরিবর্তন নগরায়ণ এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর রূপান্তরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

Protection for Pakistan's domestic workers will take more than laws -  CSMonitor.com

 

স্বনিযুক্ত ও পারিবারিক কাজ কমছে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বনিযুক্ত মানুষের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এক সময় যেখানে এই হার ছিল আটাশ দশমিক পাঁচ শতাংশ, সেখানে এখন তা নেমে এসেছে একুশ দশমিক আট শতাংশে। একই সঙ্গে পারিবারিক কাজে যুক্ত কর্মীর হারও কমে এসেছে বিশ দশমিক আট শতাংশ থেকে তেরো দশমিক পাঁচ শতাংশে। এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যে স্বাধীন পেশা ও পারিবারিক উদ্যোগের জায়গা দখল করে নিচ্ছে নিয়মিত বেতন ভিত্তিক চাকরি।

উদ্যোক্তা শ্রেণির স্থবিরতা উদ্বেগ বাড়ছে

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো নিয়োগদাতা বা উদ্যোক্তা শ্রেণির অবস্থান। প্রায় তিন দশক ধরে এই শ্রেণির অংশ শ্রমবাজারে প্রায় এক শতাংশেই স্থির রয়েছে। অর্থাৎ নতুন ব্যবসা শুরু করে অন্যদের কাজের সুযোগ করে দেওয়ার হার বাড়ছে না। ফলে কর্মসংস্থান বাড়লেও প্রকৃত কর্মসৃষ্টিকারীর সংখ্যা একই জায়গায় আটকে আছে।

মধ্যবিত্তের ঝুঁকি বাড়ছে

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্ত শ্রেণি সংখ্যায় বাড়লেও তারা অর্থনৈতিক ঝাঁকুনির প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ছে। মূল্যস্ফীতি, সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং উৎপাদনশীলতার স্থবিরতা তাদের আয়ের নিরাপত্তাকে দুর্বল করে তুলছে। উদ্যোক্তা বাড়ানো ছাড়া এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয় বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

নীতিগত পরিবর্তনের তাগিদ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগকে সহায়তা করার জন্য দ্রুত নীতিগত হস্তক্ষেপ জরুরি। কেবল চাকরি দেওয়ার দিকে নজর না দিয়ে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে আরো বেশি পাকিস্তানি কর্মচারী থেকে কর্মসৃষ্টিকারীতে রূপান্তরিত হতে পারেন। তবেই অর্থনীতি হবে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও সহনশীল।