বছরের শুরুতে অনেকেই ফিটনেসের অঙ্গীকার করলেও কিছুদিন পর তা ঝিমিয়ে পড়ে। কিন্তু জনপ্রিয় ফিটনেস অ্যাপ স্ট্রাভার ক্ষেত্রে নতুন বছর শুরু হয়েছে পুরোদমে দৌড়ে। চলতি মাসে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি গোপনে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আবেদন করেছে এবং পুরো প্রক্রিয়া সামলাতে বিনিয়োগ পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছে।
স্ট্রাভার উত্থান ও বাজারমূল্য
মহামারির সময় ঘরবন্দি মানুষের বিরক্তি কাটাতে দৌড়ানো ও ব্যায়াম হয়ে উঠেছিল জনপ্রিয় বিকল্প। সেই সময় থেকেই দ্রুত এগিয়েছে স্ট্রাভা। গত বছর প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় দুইশ বিশ কোটি ডলার। দুই হাজার নয় সালে যাত্রা শুরু করা এই অ্যাপটি প্রথমে সাইক্লিংকেন্দ্রিক ছিল। বর্তমানে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা একশ আশি মিলিয়নের বেশি, যা এক বছর আগেও ছিল একশ পঁয়ত্রিশ মিলিয়ন এবং দুই হাজার উনিশ সালে মাত্র আটচল্লিশ মিলিয়ন। আর্থিক তথ্য খুব একটা প্রকাশ না করলেও প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান নির্বাহী জানিয়েছিলেন, তারা লাভজনক অবস্থায় পৌঁছেছে।

কঠিন প্রতিযোগিতায় আলাদা পরিচয়
স্ট্রাভাকে লড়তে হচ্ছে বড় প্রযুক্তি ও ক্রীড়া ব্র্যান্ডের অ্যাপের সঙ্গে। তবু একক ব্যায়ামকে সামাজিক অভিজ্ঞতায় রূপ দিয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যবহারকারীরা একে অন্যকে অনুসরণ করতে পারেন, কৃতিত্ব জানাতে পারেন এবং পরিচিত বা তারকা ক্রীড়াবিদের ব্যায়ামের তথ্য দেখতে পারেন। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট এলাকার জনপ্রিয় দৌড় বা সাইক্লিং রুট খুঁজে পাওয়ার সুবিধাও রয়েছে। যদিও এক সময় এই সুবিধা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তবু তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণই স্ট্রাভার মূল শক্তি। স্মার্টফোন ও স্মার্টঘড়ির মাধ্যমে হৃদস্পন্দনসহ নানা তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবহারকারীর পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করা হয়।
পেইড গ্রাহক বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ
স্ট্রাভার সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিনামূল্যের ব্যবহারকারীদের অর্থপ্রদানে আগ্রহী করা। নিয়মিত ব্যবহারকারী অনেক হলেও সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার হার এখনো কম। এ কারণেই গত কয়েক বছরে অ্যাপে স্বয়ংক্রিয় প্রশিক্ষণ সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ব্যায়ামের তথ্য বিশ্লেষণ করে পরামর্শ দেওয়া হয়। গত বছর এমন প্রযুক্তি উন্নয়ন করা দুটি ছোট অ্যাপও কিনেছে স্ট্রাভা।

শেয়ারবাজারে যাওয়ার কারণ
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে বড় আকারের অধিগ্রহণের জন্য সহজে অর্থ জোগাড় করা যাবে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক বিনিয়োগে ঝোঁক থাকায় ফিটনেস খাতে বিনিয়োগ কমেছে। গত বছর এই খাতে বৈশ্বিক বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সেই প্রেক্ষাপটে শেয়ারবাজার স্ট্রাভার জন্য বিকল্প পথ হয়ে উঠতে পারে এবং প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে সহায়ক হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















