১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নির্মম মূল্য: ব্রিটেনের বেসামরিক জীবনের করুণ ইতিহাস ইরানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় নতুন প্রমাণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের ইঙ্গিত ইরান যুদ্ধ: শান্তি আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধি দল, অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি বিশ্বজুড়ে সম্পদের বৈষম্য বাড়ছে, প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবায়নে বড় ঘাটতি: জাতিসংঘের প্রতিবেদন ইরান যুদ্ধবিরতি টালমাটাল, শান্তি আলোচনায় নতুন অনিশ্চয়তা লন্ডনের শেষ রাত: বিধ্বংসী বোমাবর্ষণে শেষ হলো ব্লিটজ, তবু ভাঙেনি ব্রিটেনের মনোবল গোলাবারুদ নাকি বাটার? ব্রিটেনের শেল সংকটের ইতিহাস আর্কটিকে ঠান্ডা যুদ্ধ মুসলিম ভোটারদের নিয়ে কথিত বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তোলপাড় হাজার কোটি টাকার তেল পাইপলাইন ও মজুত সক্ষমতা ফেলে রেখেছে বাংলাদেশ

নিশীথার গরমের নিশি

  • Sarakhon Report
  • ০৪:২৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ মে ২০২৪
  • 212

নিজস্ব প্রতিবেদক

নদীর নাম কলাগাছি। যার জল মিশে গেছে বঙ্গোসাগরের সঙ্গে। সেই কলাগাছি নদী পার হয়ে যাচ্ছে ইঞ্জিনচালিত বোটে নিশিথা। সঙ্গে তার স্বামী শ্যামল সরকার।

নিশীথার বয়স চব্বিশ কি পঁচিশ। শ্যামলের হয়তো বছর দুয়েক বেশি হবে।

নিশীথার শরীরের রঙ ঘণ নিশির মতো হলেও শাদা সাজানো দাঁতে তাকে আলাদা একটা সৌন্দর্য দিয়েছে। শ্যামলের বাড়তি কোন বিশেষত্ব নেই। একেবারে শ্রমজীবি একটি ছেলের চেহারা যা হয় তেমনটিই। দুজনেই গরমের পুড়ে একাকার। সঙ্গে যারা ওই ইঞ্জিন চালিত বোটে আছেন সকলেরই একই অবস্থা। কারোমুখে কোন কথা নেই। যেন নীরবতা দিয়ে তীব্র তাপদাহ থেকে খানিকটা বাঁচতে চায় সকলে। অনেকের মাথার ওপর একটা ছাতা আছে তাতে যে রোদ থেকে তারা খুব বেশি বাঁচতে পারছে তা নয়।

 

এই তীব্র গরমেও মুখ থেমে নেই নিশীথার। সে তার গত রাতের বর্ণনা দিচ্ছে। গতরাতে সন্ধ্যার পরেই বিদ্যুত চলে যায়। তখন তারা সবেমাত্র তাদের খাওয়া দাওয়া শেষ করেছে।

বিদ্যুত আসবে আসবে বলে তারা বসে থাকে ঘন্টা দুয়েক। তারপরে একদিকে বিদ্যুত আসে না অন্যদিকে চারপাশে ইটের দেয়াল আর নীচু ছাঁদের ছোট খুপরি যেন ক্রমে আগুন হয়ে ওঠে। তার দুই বছরের ছোট বাচ্চাটি গরমে সিদ্ধ হয়ে যাবার মতো।

 এ সময়ে তার শাশুড়ি বলেন্ এভাবে খুপরির ভেতর বসে থাকলে তো বাচ্চাটা অসুস্থ হয়ে পড়বে। তার থেকে চলো সকলে বাড়ির সঙ্গের বাগানে যাই। সেখানে আর যাই হোক একটু গাছের হাওয়া আছে। গরমে অসহ্য শ্যমল ও নিশীথা মনে করে ওটাই ভালো, তা না হলে বাচ্চাটা অসুস্থ হয়ে যাবে। তাই তারা আর দেরি না করে ওই অন্ধকারে বাগানে চলে যায়।

শ্যামল আর নিশীথাকে পরদিন কাজে বের হতে হবে তাই তারা মাঝে মাঝে চেষ্টা করে বাগানের ভেতর কোন রকমে যদি একটু ঘুমানো যায়। তবে সেখানে রয়েছে আরো বড় বিপদ সমুদ্রবাহি নদীকূলের এসব জায়গাগুলোতে নানান ধরনের জলচর ও উভচর ও ডাঙ্গায় বাস করা সাপ প্রচুর পরিমানে। এর আবার অনেকগুলো বিষাক্ত। তাই ছোট বাচ্চাটিকে রেখে কেউই ঘুমিয়ে পড়তে সাহস পায়না। নিঘুর্ম কেটে যায় তাদের সারা রাত।

সকালেও বিদ্যুত ছিলো না। তা নিয়ে তাদের কোন অভিযোগ নেই কি আছে তা অবশ্য নিশীথা কিছু্ই বলে না। গড়িয়ে যাওয়া দুপুরের তীব্র রোদ ভেঙ্গে সে যখন বাড়িতে ফিরছে তখন বোটে সে শুধু সবার কাছে জানতে চাচ্ছে, তার কী মনে করে আজ রাতটা কি গতরাতের মতো হবে?

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নির্মম মূল্য: ব্রিটেনের বেসামরিক জীবনের করুণ ইতিহাস

নিশীথার গরমের নিশি

০৪:২৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ মে ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

নদীর নাম কলাগাছি। যার জল মিশে গেছে বঙ্গোসাগরের সঙ্গে। সেই কলাগাছি নদী পার হয়ে যাচ্ছে ইঞ্জিনচালিত বোটে নিশিথা। সঙ্গে তার স্বামী শ্যামল সরকার।

নিশীথার বয়স চব্বিশ কি পঁচিশ। শ্যামলের হয়তো বছর দুয়েক বেশি হবে।

নিশীথার শরীরের রঙ ঘণ নিশির মতো হলেও শাদা সাজানো দাঁতে তাকে আলাদা একটা সৌন্দর্য দিয়েছে। শ্যামলের বাড়তি কোন বিশেষত্ব নেই। একেবারে শ্রমজীবি একটি ছেলের চেহারা যা হয় তেমনটিই। দুজনেই গরমের পুড়ে একাকার। সঙ্গে যারা ওই ইঞ্জিন চালিত বোটে আছেন সকলেরই একই অবস্থা। কারোমুখে কোন কথা নেই। যেন নীরবতা দিয়ে তীব্র তাপদাহ থেকে খানিকটা বাঁচতে চায় সকলে। অনেকের মাথার ওপর একটা ছাতা আছে তাতে যে রোদ থেকে তারা খুব বেশি বাঁচতে পারছে তা নয়।

 

এই তীব্র গরমেও মুখ থেমে নেই নিশীথার। সে তার গত রাতের বর্ণনা দিচ্ছে। গতরাতে সন্ধ্যার পরেই বিদ্যুত চলে যায়। তখন তারা সবেমাত্র তাদের খাওয়া দাওয়া শেষ করেছে।

বিদ্যুত আসবে আসবে বলে তারা বসে থাকে ঘন্টা দুয়েক। তারপরে একদিকে বিদ্যুত আসে না অন্যদিকে চারপাশে ইটের দেয়াল আর নীচু ছাঁদের ছোট খুপরি যেন ক্রমে আগুন হয়ে ওঠে। তার দুই বছরের ছোট বাচ্চাটি গরমে সিদ্ধ হয়ে যাবার মতো।

 এ সময়ে তার শাশুড়ি বলেন্ এভাবে খুপরির ভেতর বসে থাকলে তো বাচ্চাটা অসুস্থ হয়ে পড়বে। তার থেকে চলো সকলে বাড়ির সঙ্গের বাগানে যাই। সেখানে আর যাই হোক একটু গাছের হাওয়া আছে। গরমে অসহ্য শ্যমল ও নিশীথা মনে করে ওটাই ভালো, তা না হলে বাচ্চাটা অসুস্থ হয়ে যাবে। তাই তারা আর দেরি না করে ওই অন্ধকারে বাগানে চলে যায়।

শ্যামল আর নিশীথাকে পরদিন কাজে বের হতে হবে তাই তারা মাঝে মাঝে চেষ্টা করে বাগানের ভেতর কোন রকমে যদি একটু ঘুমানো যায়। তবে সেখানে রয়েছে আরো বড় বিপদ সমুদ্রবাহি নদীকূলের এসব জায়গাগুলোতে নানান ধরনের জলচর ও উভচর ও ডাঙ্গায় বাস করা সাপ প্রচুর পরিমানে। এর আবার অনেকগুলো বিষাক্ত। তাই ছোট বাচ্চাটিকে রেখে কেউই ঘুমিয়ে পড়তে সাহস পায়না। নিঘুর্ম কেটে যায় তাদের সারা রাত।

সকালেও বিদ্যুত ছিলো না। তা নিয়ে তাদের কোন অভিযোগ নেই কি আছে তা অবশ্য নিশীথা কিছু্ই বলে না। গড়িয়ে যাওয়া দুপুরের তীব্র রোদ ভেঙ্গে সে যখন বাড়িতে ফিরছে তখন বোটে সে শুধু সবার কাছে জানতে চাচ্ছে, তার কী মনে করে আজ রাতটা কি গতরাতের মতো হবে?