১১:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

নিশীথার গরমের নিশি

  • Sarakhon Report
  • ০৪:২৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ মে ২০২৪
  • 263

নিজস্ব প্রতিবেদক

নদীর নাম কলাগাছি। যার জল মিশে গেছে বঙ্গোসাগরের সঙ্গে। সেই কলাগাছি নদী পার হয়ে যাচ্ছে ইঞ্জিনচালিত বোটে নিশিথা। সঙ্গে তার স্বামী শ্যামল সরকার।

নিশীথার বয়স চব্বিশ কি পঁচিশ। শ্যামলের হয়তো বছর দুয়েক বেশি হবে।

নিশীথার শরীরের রঙ ঘণ নিশির মতো হলেও শাদা সাজানো দাঁতে তাকে আলাদা একটা সৌন্দর্য দিয়েছে। শ্যামলের বাড়তি কোন বিশেষত্ব নেই। একেবারে শ্রমজীবি একটি ছেলের চেহারা যা হয় তেমনটিই। দুজনেই গরমের পুড়ে একাকার। সঙ্গে যারা ওই ইঞ্জিন চালিত বোটে আছেন সকলেরই একই অবস্থা। কারোমুখে কোন কথা নেই। যেন নীরবতা দিয়ে তীব্র তাপদাহ থেকে খানিকটা বাঁচতে চায় সকলে। অনেকের মাথার ওপর একটা ছাতা আছে তাতে যে রোদ থেকে তারা খুব বেশি বাঁচতে পারছে তা নয়।

 

এই তীব্র গরমেও মুখ থেমে নেই নিশীথার। সে তার গত রাতের বর্ণনা দিচ্ছে। গতরাতে সন্ধ্যার পরেই বিদ্যুত চলে যায়। তখন তারা সবেমাত্র তাদের খাওয়া দাওয়া শেষ করেছে।

বিদ্যুত আসবে আসবে বলে তারা বসে থাকে ঘন্টা দুয়েক। তারপরে একদিকে বিদ্যুত আসে না অন্যদিকে চারপাশে ইটের দেয়াল আর নীচু ছাঁদের ছোট খুপরি যেন ক্রমে আগুন হয়ে ওঠে। তার দুই বছরের ছোট বাচ্চাটি গরমে সিদ্ধ হয়ে যাবার মতো।

 এ সময়ে তার শাশুড়ি বলেন্ এভাবে খুপরির ভেতর বসে থাকলে তো বাচ্চাটা অসুস্থ হয়ে পড়বে। তার থেকে চলো সকলে বাড়ির সঙ্গের বাগানে যাই। সেখানে আর যাই হোক একটু গাছের হাওয়া আছে। গরমে অসহ্য শ্যমল ও নিশীথা মনে করে ওটাই ভালো, তা না হলে বাচ্চাটা অসুস্থ হয়ে যাবে। তাই তারা আর দেরি না করে ওই অন্ধকারে বাগানে চলে যায়।

শ্যামল আর নিশীথাকে পরদিন কাজে বের হতে হবে তাই তারা মাঝে মাঝে চেষ্টা করে বাগানের ভেতর কোন রকমে যদি একটু ঘুমানো যায়। তবে সেখানে রয়েছে আরো বড় বিপদ সমুদ্রবাহি নদীকূলের এসব জায়গাগুলোতে নানান ধরনের জলচর ও উভচর ও ডাঙ্গায় বাস করা সাপ প্রচুর পরিমানে। এর আবার অনেকগুলো বিষাক্ত। তাই ছোট বাচ্চাটিকে রেখে কেউই ঘুমিয়ে পড়তে সাহস পায়না। নিঘুর্ম কেটে যায় তাদের সারা রাত।

সকালেও বিদ্যুত ছিলো না। তা নিয়ে তাদের কোন অভিযোগ নেই কি আছে তা অবশ্য নিশীথা কিছু্ই বলে না। গড়িয়ে যাওয়া দুপুরের তীব্র রোদ ভেঙ্গে সে যখন বাড়িতে ফিরছে তখন বোটে সে শুধু সবার কাছে জানতে চাচ্ছে, তার কী মনে করে আজ রাতটা কি গতরাতের মতো হবে?

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

নিশীথার গরমের নিশি

০৪:২৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ মে ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

নদীর নাম কলাগাছি। যার জল মিশে গেছে বঙ্গোসাগরের সঙ্গে। সেই কলাগাছি নদী পার হয়ে যাচ্ছে ইঞ্জিনচালিত বোটে নিশিথা। সঙ্গে তার স্বামী শ্যামল সরকার।

নিশীথার বয়স চব্বিশ কি পঁচিশ। শ্যামলের হয়তো বছর দুয়েক বেশি হবে।

নিশীথার শরীরের রঙ ঘণ নিশির মতো হলেও শাদা সাজানো দাঁতে তাকে আলাদা একটা সৌন্দর্য দিয়েছে। শ্যামলের বাড়তি কোন বিশেষত্ব নেই। একেবারে শ্রমজীবি একটি ছেলের চেহারা যা হয় তেমনটিই। দুজনেই গরমের পুড়ে একাকার। সঙ্গে যারা ওই ইঞ্জিন চালিত বোটে আছেন সকলেরই একই অবস্থা। কারোমুখে কোন কথা নেই। যেন নীরবতা দিয়ে তীব্র তাপদাহ থেকে খানিকটা বাঁচতে চায় সকলে। অনেকের মাথার ওপর একটা ছাতা আছে তাতে যে রোদ থেকে তারা খুব বেশি বাঁচতে পারছে তা নয়।

 

এই তীব্র গরমেও মুখ থেমে নেই নিশীথার। সে তার গত রাতের বর্ণনা দিচ্ছে। গতরাতে সন্ধ্যার পরেই বিদ্যুত চলে যায়। তখন তারা সবেমাত্র তাদের খাওয়া দাওয়া শেষ করেছে।

বিদ্যুত আসবে আসবে বলে তারা বসে থাকে ঘন্টা দুয়েক। তারপরে একদিকে বিদ্যুত আসে না অন্যদিকে চারপাশে ইটের দেয়াল আর নীচু ছাঁদের ছোট খুপরি যেন ক্রমে আগুন হয়ে ওঠে। তার দুই বছরের ছোট বাচ্চাটি গরমে সিদ্ধ হয়ে যাবার মতো।

 এ সময়ে তার শাশুড়ি বলেন্ এভাবে খুপরির ভেতর বসে থাকলে তো বাচ্চাটা অসুস্থ হয়ে পড়বে। তার থেকে চলো সকলে বাড়ির সঙ্গের বাগানে যাই। সেখানে আর যাই হোক একটু গাছের হাওয়া আছে। গরমে অসহ্য শ্যমল ও নিশীথা মনে করে ওটাই ভালো, তা না হলে বাচ্চাটা অসুস্থ হয়ে যাবে। তাই তারা আর দেরি না করে ওই অন্ধকারে বাগানে চলে যায়।

শ্যামল আর নিশীথাকে পরদিন কাজে বের হতে হবে তাই তারা মাঝে মাঝে চেষ্টা করে বাগানের ভেতর কোন রকমে যদি একটু ঘুমানো যায়। তবে সেখানে রয়েছে আরো বড় বিপদ সমুদ্রবাহি নদীকূলের এসব জায়গাগুলোতে নানান ধরনের জলচর ও উভচর ও ডাঙ্গায় বাস করা সাপ প্রচুর পরিমানে। এর আবার অনেকগুলো বিষাক্ত। তাই ছোট বাচ্চাটিকে রেখে কেউই ঘুমিয়ে পড়তে সাহস পায়না। নিঘুর্ম কেটে যায় তাদের সারা রাত।

সকালেও বিদ্যুত ছিলো না। তা নিয়ে তাদের কোন অভিযোগ নেই কি আছে তা অবশ্য নিশীথা কিছু্ই বলে না। গড়িয়ে যাওয়া দুপুরের তীব্র রোদ ভেঙ্গে সে যখন বাড়িতে ফিরছে তখন বোটে সে শুধু সবার কাছে জানতে চাচ্ছে, তার কী মনে করে আজ রাতটা কি গতরাতের মতো হবে?