১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি? প্যাক্স সিলিকা: কর্মসংস্থান নাকি নতুন নির্ভরতা? ফিলিপাইনের সামনে সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার

লন্ডনের শেষ রাত: বিধ্বংসী বোমাবর্ষণে শেষ হলো ব্লিটজ, তবু ভাঙেনি ব্রিটেনের মনোবল

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লন্ডনের আকাশে যে আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছিল, তার চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় ১৯৪১ সালের ১০ থেকে ১১ মে রাতেই। এই রাতই ছিল জার্মান বাহিনীর দীর্ঘ বিমান হামলার শেষ বড় আঘাত, যা ইতিহাসে ‘ব্লিটজ’-এর শেষ অধ্যায় হিসেবে পরিচিত।

কীভাবে শুরু হয়েছিল এই ভয়াবহ অভিযান

ব্লিটজের সূচনা হয়েছিল এক ধরনের ভুল থেকেই। ১৯৪০ সালের আগস্টে জার্মান বোমারু বিমান ভুলবশত লন্ডনে বোমা ফেলে। এর প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটেন জার্মান রাজধানীতে হামলা চালায়। এরপরই প্রতিশোধ হিসেবে লন্ডনকে প্রধান লক্ষ্য বানায় জার্মান বাহিনী।

১৯৪০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় টানা বোমাবর্ষণ, যা প্রায় আট মাস ধরে চলে।

টানা আট মাসের ধ্বংসযজ্ঞ

এই সময়ে লন্ডনসহ ব্রিটেনের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। প্রায় ৩২ হাজার মানুষ নিহত হয় এবং লক্ষাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যায়।বোমাবর্ষণে শুধু বড় বিস্ফোরক নয়, ছোট আগুন লাগানো বোমাও ব্যাপক ক্ষতি করে। অনেক ক্ষেত্রে আগুন ছড়িয়ে পুরো এলাকা ধ্বংস হয়ে যায়।

In pictures: Commons marks 80 years since WW2 bombing

শুধু লন্ডন নয়, পুরো ব্রিটেন ছিল লক্ষ্য

অনেকে মনে করেন ব্লিটজ শুধু লন্ডনকেই কেন্দ্র করে ছিল, কিন্তু বাস্তবে দেশের বহু শহর ছিল হামলার শিকার। কোভেন্ট্রি, লিভারপুল, ব্রিস্টলসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলও ভয়াবহ ধ্বংসের মুখে পড়ে।

ছোট শহরগুলোতে ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি ছিল, কারণ সেগুলো কম সুরক্ষিত ছিল এবং দ্রুত পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

১০-১১ মে: সেই ভয়াল শেষ রাত

১৯৪১ সালের ১০ মে রাতে জার্মান বাহিনী এক বিশাল আক্রমণ চালায়। প্রায় ৫০০-র বেশি বিমান লন্ডনের ওপর বোমাবর্ষণ করে।

সেই রাতে ৭০ টনের বেশি উচ্চ ক্ষমতার বোমা এবং হাজার হাজার আগুন লাগানো বোমা ফেলা হয়।

ফলাফল ছিল ভয়াবহ—এক রাতে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত হয় এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়। শহরের বহু অংশ আগুনে পুড়ে যায়।

ধ্বংসের মধ্যেও প্রতিরোধ

London Blitz - World History Encyclopedia

বোমাবর্ষণের সময় দমকলকর্মীরা পানি সংকটের মধ্যেও আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। নদী, পুকুর, এমনকি বোমার গর্ত থেকেও পানি সংগ্রহ করা হয়। এই রাতের পর আর বড় আকারে হামলা চালানো হয়নি। হঠাৎ করেই থেমে যায় এই ভয়াবহ অভিযান।

কেন ব্যর্থ হলো এই কৌশল

জার্মান বাহিনী ভেবেছিল, বোমাবর্ষণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনোবল ভেঙে দেওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
বরং মানুষ আরও শক্তভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

যুদ্ধের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ সত্ত্বেও সামরিক দিক থেকে খুব বেশি সাফল্য অর্জন করতে পারেনি জার্মানি।

‘ব্লিটজ স্পিরিট’: এক অদম্য মানসিকতা

এই সময় থেকেই ‘ব্লিটজ স্পিরিট’ নামে পরিচিত এক মানসিকতা গড়ে ওঠে, যেখানে মানুষ ভয় ও ক্ষতির মধ্যেও দৃঢ়তা ধরে রাখে।

যদিও বাস্তবে সব জায়গায় একই রকম স্থিতিশীলতা ছিল না, তবুও লন্ডনের মানুষের দৃঢ়তা বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়।

How Did St Paul's Cathedral Survive The Blitz? | HistoryExtra

শেষ কথা

ব্লিটজ ছিল এক ভয়াবহ অধ্যায়, যা ব্রিটেনের শহর, মানুষ এবং অর্থনীতিকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিন্তু একই সঙ্গে এটি দেখিয়েছে, শুধু বোমা দিয়ে একটি জাতির মনোবল ভাঙা যায় না।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

লন্ডনের শেষ রাত: বিধ্বংসী বোমাবর্ষণে শেষ হলো ব্লিটজ, তবু ভাঙেনি ব্রিটেনের মনোবল

১১:২১:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লন্ডনের আকাশে যে আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছিল, তার চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় ১৯৪১ সালের ১০ থেকে ১১ মে রাতেই। এই রাতই ছিল জার্মান বাহিনীর দীর্ঘ বিমান হামলার শেষ বড় আঘাত, যা ইতিহাসে ‘ব্লিটজ’-এর শেষ অধ্যায় হিসেবে পরিচিত।

কীভাবে শুরু হয়েছিল এই ভয়াবহ অভিযান

ব্লিটজের সূচনা হয়েছিল এক ধরনের ভুল থেকেই। ১৯৪০ সালের আগস্টে জার্মান বোমারু বিমান ভুলবশত লন্ডনে বোমা ফেলে। এর প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটেন জার্মান রাজধানীতে হামলা চালায়। এরপরই প্রতিশোধ হিসেবে লন্ডনকে প্রধান লক্ষ্য বানায় জার্মান বাহিনী।

১৯৪০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় টানা বোমাবর্ষণ, যা প্রায় আট মাস ধরে চলে।

টানা আট মাসের ধ্বংসযজ্ঞ

এই সময়ে লন্ডনসহ ব্রিটেনের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। প্রায় ৩২ হাজার মানুষ নিহত হয় এবং লক্ষাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যায়।বোমাবর্ষণে শুধু বড় বিস্ফোরক নয়, ছোট আগুন লাগানো বোমাও ব্যাপক ক্ষতি করে। অনেক ক্ষেত্রে আগুন ছড়িয়ে পুরো এলাকা ধ্বংস হয়ে যায়।

In pictures: Commons marks 80 years since WW2 bombing

শুধু লন্ডন নয়, পুরো ব্রিটেন ছিল লক্ষ্য

অনেকে মনে করেন ব্লিটজ শুধু লন্ডনকেই কেন্দ্র করে ছিল, কিন্তু বাস্তবে দেশের বহু শহর ছিল হামলার শিকার। কোভেন্ট্রি, লিভারপুল, ব্রিস্টলসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলও ভয়াবহ ধ্বংসের মুখে পড়ে।

ছোট শহরগুলোতে ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি ছিল, কারণ সেগুলো কম সুরক্ষিত ছিল এবং দ্রুত পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

১০-১১ মে: সেই ভয়াল শেষ রাত

১৯৪১ সালের ১০ মে রাতে জার্মান বাহিনী এক বিশাল আক্রমণ চালায়। প্রায় ৫০০-র বেশি বিমান লন্ডনের ওপর বোমাবর্ষণ করে।

সেই রাতে ৭০ টনের বেশি উচ্চ ক্ষমতার বোমা এবং হাজার হাজার আগুন লাগানো বোমা ফেলা হয়।

ফলাফল ছিল ভয়াবহ—এক রাতে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত হয় এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়। শহরের বহু অংশ আগুনে পুড়ে যায়।

ধ্বংসের মধ্যেও প্রতিরোধ

London Blitz - World History Encyclopedia

বোমাবর্ষণের সময় দমকলকর্মীরা পানি সংকটের মধ্যেও আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। নদী, পুকুর, এমনকি বোমার গর্ত থেকেও পানি সংগ্রহ করা হয়। এই রাতের পর আর বড় আকারে হামলা চালানো হয়নি। হঠাৎ করেই থেমে যায় এই ভয়াবহ অভিযান।

কেন ব্যর্থ হলো এই কৌশল

জার্মান বাহিনী ভেবেছিল, বোমাবর্ষণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনোবল ভেঙে দেওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
বরং মানুষ আরও শক্তভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

যুদ্ধের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ সত্ত্বেও সামরিক দিক থেকে খুব বেশি সাফল্য অর্জন করতে পারেনি জার্মানি।

‘ব্লিটজ স্পিরিট’: এক অদম্য মানসিকতা

এই সময় থেকেই ‘ব্লিটজ স্পিরিট’ নামে পরিচিত এক মানসিকতা গড়ে ওঠে, যেখানে মানুষ ভয় ও ক্ষতির মধ্যেও দৃঢ়তা ধরে রাখে।

যদিও বাস্তবে সব জায়গায় একই রকম স্থিতিশীলতা ছিল না, তবুও লন্ডনের মানুষের দৃঢ়তা বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়।

How Did St Paul's Cathedral Survive The Blitz? | HistoryExtra

শেষ কথা

ব্লিটজ ছিল এক ভয়াবহ অধ্যায়, যা ব্রিটেনের শহর, মানুষ এবং অর্থনীতিকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিন্তু একই সঙ্গে এটি দেখিয়েছে, শুধু বোমা দিয়ে একটি জাতির মনোবল ভাঙা যায় না।