০১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বের ভূরাজনৈতিক ফল্ট লাইন: ইউক্রেন থেকে আর্কটিক পর্যন্ত আফ্রিকায় অস্ত্র দিয়ে প্রভাব বিস্তার: সোভিয়েত পতনের পর রাশিয়ার শক্তি পুনর্গঠনের কাহিনি ডিপোতে তেলের ঘাটতি, দীর্ঘ হচ্ছে লাইনের ভোগান্তি—বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের চিত্র শিশুদের মধ্যে যক্ষ্মা শনাক্ত কমছে, বাড়ছে অদৃশ্য ঝুঁকি—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবার্তা কঙ্গো যুদ্ধের অন্ধকার ইতিহাস: অস্ত্র, জোট ও বিশ্বাসঘাতকতার জটিল রাজনীতি জর্জিয়াকে কাঁপিয়ে দেওয়া জেনারেল: আমেরিকার গৃহযুদ্ধে উইলিয়াম টেকামসা শেরম্যানের উত্থান ও কৌশল শিশুদের জন্য বড় ঝুঁকি: হাম ছড়িয়ে পড়ায় টিকা না পাওয়া নবজাতকরা সবচেয়ে বিপদে মিঠাপুকুরে নিখোঁজের পাঁচ ঘণ্টা পর পুকুর থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার নারীদের কি সত্যিই বেশি ঘুমের প্রয়োজন? গবেষণায় কী বলছে হরমুজ প্রণালীতে টোল আরোপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

ইরানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় নতুন প্রমাণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের ইঙ্গিত

ইরানের লামের্দ শহরে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনায় নতুন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সেখানে ব্যবহৃত অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল হতে পারে। এই হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাও রয়েছে।

নতুন প্রমাণে কী জানা গেল

সাম্প্রতিক ভিজ্যুয়াল বিশ্লেষণ, ভিডিও ফুটেজ, ক্ষতির ছবি এবং অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতামত মিলিয়ে দেখা গেছে, হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটির বৈশিষ্ট্য ইরানের কোনো পরিচিত ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে মেলে না। বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের সঙ্গে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ।

ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণ মাটিতে আঘাতের সময় নয়, বরং আকাশে ঘটে। এই ধরনের ‘এয়ারবার্স্ট’ পদ্ধতিতে বিস্ফোরণ হলে চারদিকে অসংখ্য ধাতব কণিকা ছড়িয়ে পড়ে, যা দেয়াল, রাস্তা ও আশপাশের স্থাপনায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গর্ত তৈরি করে—এমন চিহ্ন ঘটনাস্থলেও পাওয়া গেছে।

Iran says new cruise missile successfully fired on revolution's 40th  anniversary | The Times of Israel

ক্ষেপণাস্ত্রের দিক ও উৎস

ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে লামের্দে প্রবেশ করে। এই দিকটি এমন একটি অঞ্চল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। ফলে এর উৎস নিয়ে সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র দাবি নিয়ে প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি ইরানের হোভেইযেহ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই দাবি নাকচ করেছেন।

কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ওই ক্ষেপণাস্ত্রে ডানা ও বাহ্যিক ইঞ্জিন থাকে, যা ভিডিওতে দেখা যায়নি। এছাড়া হোভেইযেহ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে বিস্ফোরণের সক্ষমতাও রাখে না, যা এই হামলায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।

ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

এই হামলায় একটি ক্রীড়া হল, একটি স্কুল এবং দুটি আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণের ধরন অনুযায়ী এসব স্থানে একই ধরনের ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গেছে।

Contributor: Americans deserve answers about civilian casualties in Iran -  Los Angeles Times

মোট ২১ জন নিহতের মধ্যে অন্তত পাঁচজন শিশু ছিল। নিহতদের মধ্যে ১০ ও ১১ বছর বয়সী দুই কিশোরীও ছিল, যারা ভলিবল অনুশীলনে অংশ নিয়েছিল। সবচেয়ে কম বয়সী ভুক্তভোগী ছিল মাত্র ২ বছরের একটি শিশু।

এছাড়া একাধিক সাধারণ মানুষ, এমনকি বিদেশে কর্মরত একজন প্রকৌশলীও এই হামলায় প্রাণ হারান।

হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা

এই হামলা ইচ্ছাকৃত ছিল নাকি ভুলবশত ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, পুরনো বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, তারা ওই দিনে লামের্দে কোনো হামলা চালায়নি। তবে নতুন প্রমাণ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন আরও বেড়েছে।

Israel and the occupied territories: Civilian suffering in Gaza on a  devastating scale after two years of conflict | International Committee of  the Red Cross

বেসামরিক হতাহতের বাস্তবতা

এই ঘটনায় শুধু প্রাণহানিই নয়, আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১১০ জন। নিহতদের পরিচয় যাচাই করে দেখা গেছে, তারা সবাই সাধারণ নাগরিক ছিলেন।

এই ঘটনা যুদ্ধক্ষেত্রে বেসামরিক মানুষের ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আবারও সামনে এনে দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বের ভূরাজনৈতিক ফল্ট লাইন: ইউক্রেন থেকে আর্কটিক পর্যন্ত

ইরানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় নতুন প্রমাণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের ইঙ্গিত

১১:৪১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের লামের্দ শহরে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনায় নতুন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সেখানে ব্যবহৃত অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল হতে পারে। এই হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাও রয়েছে।

নতুন প্রমাণে কী জানা গেল

সাম্প্রতিক ভিজ্যুয়াল বিশ্লেষণ, ভিডিও ফুটেজ, ক্ষতির ছবি এবং অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতামত মিলিয়ে দেখা গেছে, হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটির বৈশিষ্ট্য ইরানের কোনো পরিচিত ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে মেলে না। বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের সঙ্গে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ।

ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণ মাটিতে আঘাতের সময় নয়, বরং আকাশে ঘটে। এই ধরনের ‘এয়ারবার্স্ট’ পদ্ধতিতে বিস্ফোরণ হলে চারদিকে অসংখ্য ধাতব কণিকা ছড়িয়ে পড়ে, যা দেয়াল, রাস্তা ও আশপাশের স্থাপনায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গর্ত তৈরি করে—এমন চিহ্ন ঘটনাস্থলেও পাওয়া গেছে।

Iran says new cruise missile successfully fired on revolution's 40th  anniversary | The Times of Israel

ক্ষেপণাস্ত্রের দিক ও উৎস

ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে লামের্দে প্রবেশ করে। এই দিকটি এমন একটি অঞ্চল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। ফলে এর উৎস নিয়ে সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র দাবি নিয়ে প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি ইরানের হোভেইযেহ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই দাবি নাকচ করেছেন।

কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ওই ক্ষেপণাস্ত্রে ডানা ও বাহ্যিক ইঞ্জিন থাকে, যা ভিডিওতে দেখা যায়নি। এছাড়া হোভেইযেহ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে বিস্ফোরণের সক্ষমতাও রাখে না, যা এই হামলায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।

ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

এই হামলায় একটি ক্রীড়া হল, একটি স্কুল এবং দুটি আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণের ধরন অনুযায়ী এসব স্থানে একই ধরনের ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গেছে।

Contributor: Americans deserve answers about civilian casualties in Iran -  Los Angeles Times

মোট ২১ জন নিহতের মধ্যে অন্তত পাঁচজন শিশু ছিল। নিহতদের মধ্যে ১০ ও ১১ বছর বয়সী দুই কিশোরীও ছিল, যারা ভলিবল অনুশীলনে অংশ নিয়েছিল। সবচেয়ে কম বয়সী ভুক্তভোগী ছিল মাত্র ২ বছরের একটি শিশু।

এছাড়া একাধিক সাধারণ মানুষ, এমনকি বিদেশে কর্মরত একজন প্রকৌশলীও এই হামলায় প্রাণ হারান।

হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা

এই হামলা ইচ্ছাকৃত ছিল নাকি ভুলবশত ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, পুরনো বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, তারা ওই দিনে লামের্দে কোনো হামলা চালায়নি। তবে নতুন প্রমাণ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন আরও বেড়েছে।

Israel and the occupied territories: Civilian suffering in Gaza on a  devastating scale after two years of conflict | International Committee of  the Red Cross

বেসামরিক হতাহতের বাস্তবতা

এই ঘটনায় শুধু প্রাণহানিই নয়, আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১১০ জন। নিহতদের পরিচয় যাচাই করে দেখা গেছে, তারা সবাই সাধারণ নাগরিক ছিলেন।

এই ঘটনা যুদ্ধক্ষেত্রে বেসামরিক মানুষের ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আবারও সামনে এনে দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।