দুবাই থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়াল নতুন করে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। মঙ্গলবার ইরানি মুদ্রা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় পনেরো লাখে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রিয়ালের অব্যাহত অবমূল্যায়ন ঘিরে যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল, তার রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন দরপতন ইরানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলেছে।
চলতি মাসেই পাঁচ শতাংশ মূল্য হারাল রিয়াল
মুদ্রা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট বনবাস্ট ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসজুড়েই রিয়াল প্রায় পাঁচ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। এই অবমূল্যায়ন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বাজারে অনিশ্চয়তা আরও তীব্র করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান
ইরানের নবনিযুক্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি মঙ্গলবার বলেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ ও উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
বিক্ষোভ থেকে রাজনৈতিক সংকট
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা খুব দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই তা রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয়। এই আন্দোলন ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার জন্য ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় বৈধতা সংকটে পরিণত হয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন
সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী কঠোরভাবে এই আন্দোলন দমন করে। চলতি মাসের শুরুতেই বিক্ষোভ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে আসে। এই দমন অভিযানকে বিপ্লব-পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ভর্তুকি সংস্কার ও সরকারের ব্যাখ্যা
বিক্ষোভ চলাকালীন সরকার ভর্তুকি ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনে। আমদানিকারকদের জন্য বিশেষ কম দরের মুদ্রা বিনিময় সুবিধা বাতিল করে, সাধারণ নাগরিকদের সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের লক্ষ্য ছিল প্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো এবং বাজারে স্থিতিশীলতা আনা।
সোমবার ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদরেজা আরেফ এই নীতির পক্ষে কথা বলেন। তিনি জানান, দুর্নীতির কারণে আগের বিশেষ বিনিময় হার সাধারণ পণ্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ছিল না। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার হার স্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মূল্যস্ফীতি অব্যাহত
তবে সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২১ ডিসেম্বর থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ শতাংশে। মাসিক ভিত্তিতেও পারিবারিক ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে।

ইন্টারনেট অবরোধে অনলাইন অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত
এদিকে ৮ জানুয়ারি থেকে আরোপিত ইন্টারনেট অবরোধে ইরানের অনলাইন অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এখনও পর্যন্ত এই সীমাবদ্ধতা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি।
সরকারি মুখপাত্র মঙ্গলবার বলেন, সরকার মুক্ত ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে সমর্থন করে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে আপাতত এই বিধিনিষেধ বজায় রাখা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















