বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে পুনর্গঠনের ঢেউয়ের মধ্যে অ্যামাজন বড় সিদ্ধান্ত নিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এক ধাপে ১৬ হাজার করপোরেট চাকরি ছাঁটাই নিশ্চিত করেছে। এর ফলে গত অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত অ্যামাজনে মোট প্রায় ৩০ হাজার পদ বিলুপ্ত হলো। ভবিষ্যতে আরও ছাঁটাই হতে পারে—সেই সম্ভাবনাও খোলা রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
এই ছাঁটাই অ্যামাজনের মোট কর্মীসংখ্যার তুলনায় ছোট অংশ হলেও করপোরেট কর্মীদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ১০ শতাংশ। তিন দশকের ইতিহাসে এটিই কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় চাকরি কাটছাঁট। এর আগে ২০২২ সালের শেষ থেকে ২০২৩ সালের শুরুতে প্রায় ২৭ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছিল অ্যামাজন।
পুনর্গঠন, এআই আর ‘অতিরিক্ত স্তর’ কমানো
অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডি জ্যাসির নেতৃত্বে এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে। লক্ষ্য—অপ্রয়োজনীয় بيرোক্রেসি কমানো, কম কার্যকর ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে গতি আনা। মানবসম্পদ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা বেথ গ্যালেটি জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানের শক্তি বাড়াতেই এই পদক্ষেপ। তার ভাষায়, স্তর কমানো, দায়িত্ববোধ বাড়ানো এবং জটিলতা দূর করাই উদ্দেশ্য।
এরই অংশ হিসেবে অ্যামাজন সম্প্রতি তাদের অবশিষ্ট ফিজিক্যাল ‘ফ্রেশ’ গ্রোসারি স্টোর ও ‘গো’ মার্কেট বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকের হাতের তালু স্ক্যান করে পেমেন্ট নেওয়ার ‘অ্যামাজন ওয়ান’ বায়োমেট্রিক ব্যবস্থাও তুলে দেওয়া হচ্ছে। বহু বছরের বিনিয়োগ সত্ত্বেও এই উদ্যোগগুলো প্রত্যাশিত সাফল্য আনতে পারেনি।
চাকরি ছাঁটাইয়ের এই ধাপে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস, অ্যালেক্সা, প্রাইম ভিডিও, ডিভাইস বিভাগ, বিজ্ঞাপন ও লাস্ট-মাইল ডেলিভারি ইউনিটে। ভুলবশত ‘প্রজেক্ট ডন’ নামে ছাঁটাই পরিকল্পনার ই-মেইল আগে পাঠানোয় বিশেষ করে এডব্লিউএস কর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়।

এআইয়ের প্রভাব, প্রযুক্তি খাতের বাস্তবতা
অ্যামাজন আগেই স্বীকার করেছে, কোভিড মহামারির সময় অনলাইন কেনাকাটার চাহিদা বাড়ায় তারা অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করেছিল। এখন এআই টুলের দ্রুত উন্নয়নে অনেক করপোরেট কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে জটিল কোডিং—সবখানেই এআই ব্যবহারের ফলে মানবশ্রমের প্রয়োজন কমছে।
অ্যান্ডি জ্যাসি গত বছরই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এআই ব্যবহারের বিস্তারে কিছু করপোরেট পদ হারিয়ে যাবে। দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকেও প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন, কিছু চাকরি বিলুপ্ত হলেও নতুন ধরনের কাজ তৈরি হবে। তবে অনেকে মনে করছেন, এআইকে অনেক কোম্পানি ছাঁটাইয়ের যুক্তি হিসেবেও ব্যবহার করছে।

অ্যামাজনের পাশাপাশি মেটা, মাইক্রোসফট, ইউপিএস, পিন্টারেস্ট ও এএসএমএল—সবাই সাম্প্রতিক সময়ে কর্মীসংখ্যা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে অ্যামাজন গুদাম ও ডেলিভারি ব্যবস্থায় রোবোটিক্সে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, যাতে খরচ কমে এবং গতি বাড়ে।
বাজারে এই খবরের প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। আগামী সপ্তাহে ত্রৈমাসিক আর্থিক ফল প্রকাশের আগে প্রি-মার্কেট লেনদেনে অ্যামাজনের শেয়ার এক শতাংশেরও কম বেড়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















