কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সার্চ অভিজ্ঞতা নিয়ে গুগলের একচেটিয়া প্রভাব কমাতে নতুন পদক্ষেপের পথে হাঁটছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রতিযোগিতা ও বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা কম্পিটিশন অ্যান্ড মার্কেটস অথরিটি (সিএমএ) প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে ওয়েবসাইট ও সংবাদমাধ্যমগুলো চাইলে গুগলের ‘এআই ওভারভিউ’তে তাদের কনটেন্ট ব্যবহার বন্ধ রাখতে পারে। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র এআই মডেল প্রশিক্ষণেও কনটেন্ট ব্যবহারের বাইরে থাকার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে এলো, যখন গত অক্টোবরে গুগলকে ‘কৌশলগত বাজার মর্যাদা’ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ডিজিটাল বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে সিএমএ গুগলের ওপর বিশেষ শর্ত আরোপের ক্ষমতা পেয়েছে। নিয়ন্ত্রকদের মতে, লক্ষ্য একটাই—ব্যবসা ও ব্যবহারকারীদের জন্য বেশি পছন্দ ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।

প্রকাশক ও সার্চ স্বচ্ছতার প্রশ্ন
সিএমএর প্রস্তাবে শুধু এআই কনটেন্ট নয়, সার্চ ফলাফলের র্যাংকিং নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, সার্চ ফলাফলের অবস্থান যেন ন্যায্য ও স্বচ্ছ হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীরা যাতে সহজে বিকল্প সার্চ ইঞ্জিন বেছে নিতে পারেন, সেই পথও খুলে দিতে হবে।
সিএমএর প্রধান নির্বাহী সারা কার্ডেল একে ডিজিটাল বাজার প্রতিযোগিতা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, এই লক্ষ্যভিত্তিক ও পরিমিত পদক্ষেপ যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও ভোক্তাদের গুগলের সার্চ সেবার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও স্বাধীনতা দেবে। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমসহ কনটেন্ট প্রকাশকদের জন্য এটি হবে আরও ন্যায্য এক চুক্তি—বিশেষ করে এআই ওভারভিউতে কনটেন্ট ব্যবহারের প্রশ্নে।
এই প্রস্তাব নিয়ে জনপরামর্শ চলবে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গুগলের অবস্থান ও উদ্বেগ
গুগলের দাবি, মানুষ যেভাবে তথ্য খোঁজে, তা দ্রুত বদলাচ্ছে। তাদের মতে, এআই ওভারভিউ ব্যবহারকারীদের নতুন কনটেন্ট খুঁজে পেতে সাহায্য করছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, প্রকাশকদের জন্য তারা আগেই নানা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দিয়েছে এবং এখন আরও আপডেট আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে, যাতে ওয়েবসাইটগুলো চাইলে সার্চভিত্তিক জেনারেটিভ এআই ফিচার থেকে সরে দাঁড়াতে পারে।
তবে গুগল সতর্ক করে বলেছে, নতুন কোনো নিয়ন্ত্রণ এমন হওয়া উচিত নয়, যা সার্চ অভিজ্ঞতাকে ভেঙে ফেলে বা ব্যবহারকারীদের জন্য বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। গুগলের প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান রন ইডেনের ভাষায়, লক্ষ্য হলো এমন সমাধান খোঁজা, যাতে ওয়েবসাইট মালিক ও প্রকাশকেরা আরও বেশি পছন্দ পান, আবার ব্যবহারকারীরাও যেন কার্যকর ও উদ্ভাবনী সার্চ অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত না হন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই টানাপোড়েন মূলত একটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে—এআই যুগে সার্চ ইঞ্জিনের ক্ষমতা কতটা, আর সেই ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। যুক্তরাজ্যের এই উদ্যোগ ইউরোপসহ অন্যান্য দেশেও অনুরূপ নীতিগত আলোচনার গতি বাড়াতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















