কাশ্মীরে নতুন করে ভারী তুষারপাত শুরু হওয়ায় শ্রীনগরের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সোমবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া তুষারপাতের কারণে জম্মু–শ্রীনগর জাতীয় সড়ক বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে শ্রীনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্ধারিত সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে ভ্রমণকারী, পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, মঙ্গলবার শ্রীনগর থেকে আসা ও যাওয়া—মোট ৫৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর মধ্যে ২৯টি আগমন ও ২৯টি প্রস্থান ফ্লাইট ছিল। টানা তুষারপাতের ফলে রানওয়ে ব্যবহার অনিরাপদ হয়ে পড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সড়ক বন্ধ, রেলে সাময়িক স্বস্তি
কাশ্মীরজুড়ে সোমবার রাত থেকে তুষারপাত শুরু হয়। পুরো উপত্যকা ঢেকে যায় সাদা চাদরে। কাজিগুন্ডের নাভযুগ টানেল ও বানিহাল এলাকায় বরফ জমে যাওয়ায় জম্মু–শ্রীনগর জাতীয় সড়ক (এনএইচ–৪৪) বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে।
সড়ক ও আকাশপথ বন্ধ থাকায় আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তায় রেল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ট্রেন চালু করে। কাটরা ও শ্রীনগরের মধ্যে সংরক্ষিত বিশেষ ট্রেন চলাচল করে অনেক যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। তবে সকালে বানিহাল ও বুদগামের মধ্যে কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়।
হানিমুনে আসা আশিস ও হর্ষিতা জানান, মঙ্গলবার তাদের ফেরার ফ্লাইট ছিল। কিন্তু বাতিল হওয়ায় বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে। তাদের মতো আরও অনেক পর্যটক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
তুষারধসের সতর্কতা, হিমাচলেও বিপর্যয়
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী দিনেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রপাত ও দমকা হাওয়াও হতে পারে। বুধবারও হালকা বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ১১টি জেলায় তুষারধসের সতর্কতা জারি করেছে। গন্দরবাল জেলায় ২ হাজার মিটারের ওপরে উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। অনন্তনাগ, বান্দিপোরা, বারামুলা, কুলগাম ও কুপওয়ারা—এই জেলাগুলোতে মাঝারি ঝুঁকির সতর্কতা রয়েছে। কাশ্মীরের বাইরে ডোডা, কিশতওয়ার, পুঞ্চ, রাজৌরি ও রামবান জেলাও এর আওতায় রয়েছে।

হিমাচল প্রদেশেও পরিস্থিতি গুরুতর। শিমলায় ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতের ফলে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়েছে। সড়ক অবরুদ্ধ, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। রাজ্যের রাজস্বমন্ত্রী জগৎ সিং নেগি জানিয়েছেন, তিনটি জাতীয় সড়কসহ মোট ৭১১টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ৮৬১টি বিদ্যুৎ বিতরণ ট্রান্সফরমার ও প্রায় ১৬৩টি পানীয় জল প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হিমালয়জুড়ে এই বৈরী আবহাওয়া আপাতত থামার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। ফলে উত্তর ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলে আরও ভোগান্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















