১২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটে ব্যয় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা, বাজেট অনুমোদন নির্বাচন কমিশনের শেরপুরে সংঘর্ষে জামায়াত নেতার মৃত্যু, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি নওগাঁয় শিক্ষার্থীর উদ্যোগে চিংড়ি চাষে গ্রামীণ জলচাষে নতুন জাগরণ বৃষ্টিতে দিল্লির তাপমাত্রা হঠাৎ নামল, বাতাস আরও ‘অতিদূষিত’ তারেক রহমানকে নিয়ে প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশের হারানো পুত্রঃ ফাঁস হওয়া মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তায় ‘লুটেরা শাসন ও সহিংস রাজনীতির প্রতীক’ ভারতের বিশ্বস্ত জ্বালানি অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত: সুলতান আল জাবের ২০২০ ভোট বিতর্ক ঘিরে জর্জিয়ার নির্বাচনী দপ্তরে তল্লাশি, ট্রাম্প প্রশাসন নিয়ে নতুন বিতর্ক ডলারের চাপে ঐতিহাসিক নতুন তলানিতে রুপির শঙ্কা, নজরে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জামায়াত নেতার মৃত্যু ঘিরে উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ মিছিল এআই সার্চ থেকে সরে দাঁড়ানোর অধিকার দিতে গুগলের ওপর চাপ যুক্তরাজ্যের

তুষারপাতের দাপটে শ্রীনগরের আকাশপথ বন্ধ, বাতিল ৫৮টি ফ্লাইট

কাশ্মীরে নতুন করে ভারী তুষারপাত শুরু হওয়ায় শ্রীনগরের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সোমবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া তুষারপাতের কারণে জম্মু–শ্রীনগর জাতীয় সড়ক বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে শ্রীনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্ধারিত সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে ভ্রমণকারী, পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, মঙ্গলবার শ্রীনগর থেকে আসা ও যাওয়া—মোট ৫৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর মধ্যে ২৯টি আগমন ও ২৯টি প্রস্থান ফ্লাইট ছিল। টানা তুষারপাতের ফলে রানওয়ে ব্যবহার অনিরাপদ হয়ে পড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শ্রীনগরে তুষারঝড়ে আকাশপথ বন্ধ, বাতিল সব ফ্লাইট, অচল সড়ক ও রেল যোগাযোগ

সড়ক বন্ধ, রেলে সাময়িক স্বস্তি

কাশ্মীরজুড়ে সোমবার রাত থেকে তুষারপাত শুরু হয়। পুরো উপত্যকা ঢেকে যায় সাদা চাদরে। কাজিগুন্ডের নাভযুগ টানেল ও বানিহাল এলাকায় বরফ জমে যাওয়ায় জম্মু–শ্রীনগর জাতীয় সড়ক (এনএইচ–৪৪) বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে।

সড়ক ও আকাশপথ বন্ধ থাকায় আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তায় রেল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ট্রেন চালু করে। কাটরা ও শ্রীনগরের মধ্যে সংরক্ষিত বিশেষ ট্রেন চলাচল করে অনেক যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। তবে সকালে বানিহাল ও বুদগামের মধ্যে কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়।

হানিমুনে আসা আশিস ও হর্ষিতা জানান, মঙ্গলবার তাদের ফেরার ফ্লাইট ছিল। কিন্তু বাতিল হওয়ায় বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে। তাদের মতো আরও অনেক পর্যটক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

শ্রীনগরে তুষারঝড়ে আকাশপথ বন্ধ, বাতিল সব ফ্লাইট, অচল সড়ক ও রেল যোগাযোগ

তুষারধসের সতর্কতা, হিমাচলেও বিপর্যয়

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী দিনেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রপাত ও দমকা হাওয়াও হতে পারে। বুধবারও হালকা বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ১১টি জেলায় তুষারধসের সতর্কতা জারি করেছে। গন্দরবাল জেলায় ২ হাজার মিটারের ওপরে উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। অনন্তনাগ, বান্দিপোরা, বারামুলা, কুলগাম ও কুপওয়ারা—এই জেলাগুলোতে মাঝারি ঝুঁকির সতর্কতা রয়েছে। কাশ্মীরের বাইরে ডোডা, কিশতওয়ার, পুঞ্চ, রাজৌরি ও রামবান জেলাও এর আওতায় রয়েছে।

Bhorer Bani - তুষারপাতে বিপর্যস্ত হিমাচল : বন্ধ ৭০০ রাস্তা, রাতভর  গাড়িবন্দি পর্যটকরা

 

হিমাচল প্রদেশেও পরিস্থিতি গুরুতর। শিমলায় ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতের ফলে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়েছে। সড়ক অবরুদ্ধ, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। রাজ্যের রাজস্বমন্ত্রী জগৎ সিং নেগি জানিয়েছেন, তিনটি জাতীয় সড়কসহ মোট ৭১১টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ৮৬১টি বিদ্যুৎ বিতরণ ট্রান্সফরমার ও প্রায় ১৬৩টি পানীয় জল প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হিমালয়জুড়ে এই বৈরী আবহাওয়া আপাতত থামার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। ফলে উত্তর ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলে আরও ভোগান্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটে ব্যয় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা, বাজেট অনুমোদন নির্বাচন কমিশনের

তুষারপাতের দাপটে শ্রীনগরের আকাশপথ বন্ধ, বাতিল ৫৮টি ফ্লাইট

১০:৪৪:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

কাশ্মীরে নতুন করে ভারী তুষারপাত শুরু হওয়ায় শ্রীনগরের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সোমবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া তুষারপাতের কারণে জম্মু–শ্রীনগর জাতীয় সড়ক বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে শ্রীনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্ধারিত সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে ভ্রমণকারী, পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, মঙ্গলবার শ্রীনগর থেকে আসা ও যাওয়া—মোট ৫৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর মধ্যে ২৯টি আগমন ও ২৯টি প্রস্থান ফ্লাইট ছিল। টানা তুষারপাতের ফলে রানওয়ে ব্যবহার অনিরাপদ হয়ে পড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শ্রীনগরে তুষারঝড়ে আকাশপথ বন্ধ, বাতিল সব ফ্লাইট, অচল সড়ক ও রেল যোগাযোগ

সড়ক বন্ধ, রেলে সাময়িক স্বস্তি

কাশ্মীরজুড়ে সোমবার রাত থেকে তুষারপাত শুরু হয়। পুরো উপত্যকা ঢেকে যায় সাদা চাদরে। কাজিগুন্ডের নাভযুগ টানেল ও বানিহাল এলাকায় বরফ জমে যাওয়ায় জম্মু–শ্রীনগর জাতীয় সড়ক (এনএইচ–৪৪) বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে।

সড়ক ও আকাশপথ বন্ধ থাকায় আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তায় রেল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ট্রেন চালু করে। কাটরা ও শ্রীনগরের মধ্যে সংরক্ষিত বিশেষ ট্রেন চলাচল করে অনেক যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। তবে সকালে বানিহাল ও বুদগামের মধ্যে কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়।

হানিমুনে আসা আশিস ও হর্ষিতা জানান, মঙ্গলবার তাদের ফেরার ফ্লাইট ছিল। কিন্তু বাতিল হওয়ায় বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে। তাদের মতো আরও অনেক পর্যটক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

শ্রীনগরে তুষারঝড়ে আকাশপথ বন্ধ, বাতিল সব ফ্লাইট, অচল সড়ক ও রেল যোগাযোগ

তুষারধসের সতর্কতা, হিমাচলেও বিপর্যয়

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী দিনেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রপাত ও দমকা হাওয়াও হতে পারে। বুধবারও হালকা বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ১১টি জেলায় তুষারধসের সতর্কতা জারি করেছে। গন্দরবাল জেলায় ২ হাজার মিটারের ওপরে উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। অনন্তনাগ, বান্দিপোরা, বারামুলা, কুলগাম ও কুপওয়ারা—এই জেলাগুলোতে মাঝারি ঝুঁকির সতর্কতা রয়েছে। কাশ্মীরের বাইরে ডোডা, কিশতওয়ার, পুঞ্চ, রাজৌরি ও রামবান জেলাও এর আওতায় রয়েছে।

Bhorer Bani - তুষারপাতে বিপর্যস্ত হিমাচল : বন্ধ ৭০০ রাস্তা, রাতভর  গাড়িবন্দি পর্যটকরা

 

হিমাচল প্রদেশেও পরিস্থিতি গুরুতর। শিমলায় ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতের ফলে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়েছে। সড়ক অবরুদ্ধ, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। রাজ্যের রাজস্বমন্ত্রী জগৎ সিং নেগি জানিয়েছেন, তিনটি জাতীয় সড়কসহ মোট ৭১১টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ৮৬১টি বিদ্যুৎ বিতরণ ট্রান্সফরমার ও প্রায় ১৬৩টি পানীয় জল প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হিমালয়জুড়ে এই বৈরী আবহাওয়া আপাতত থামার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। ফলে উত্তর ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলে আরও ভোগান্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।