১১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
রাজনৈতিক বন্দিদের ফেরাতে যাঁরা ভূমিকা রেখেছেন, তাঁরাই আজ অবজ্ঞার শিকার: ডা. শফিকুর রহমান সভাপতিকে জড়িয়ে ‘ভিত্তিহীন’ ফিক্সিং গুজব: জিডি করল বিসিবি সংস্কার ছাড়া ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ অসম্ভব: জামায়াত আমিরের স্পষ্ট বার্তা ওয়ারীর রেস্তোরাঁয় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আহত আট উচ্চ শব্দে গান থামাতে বলায় প্রাণ গেল মা-মেয়ের, মুন্সীগঞ্জে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন সিলেট ওসমানী মেডিকেলের নারী ওয়ার্ডে আগুন, ধোঁয়ায় আতঙ্ক সিলেটে ট্রাকের নিচে প্রাণ গেল তরুণ মোটরসাইকেল আরোহীর তরুণ ভোট কোন বাক্সে, বিএনপি-জামায়াতের নানা কৌশল আর প্রতিশ্রুতি সংঘর্ষ-প্রাণহানির পর সতর্ক বিএনপি ও জামায়াত আর্থিক উদ্বেগ আয়ের পরিমাণের কারণে নয়, বরং অর্থ ব্যবস্থার নকশার কারণে

আর্থিক উদ্বেগ আয়ের পরিমাণের কারণে নয়, বরং অর্থ ব্যবস্থার নকশার কারণে

আর্থিক চাপ এখন সর্বব্যাপী। কম আয়কারী থেকে শুরু করে উচ্চ আয়কারীরাও এই চাপের বাইরে নন। এটি যেন জীবনের পেছনের স্থায়ী এক শব্দে পরিণত হয়েছে। সাধারণত আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই এই চাপের জন্ম হয়। কেনাকাটার পর অপরাধবোধ, সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা নিজের অর্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর অনুভূতি—এসবই এর বহিঃপ্রকাশ। তবে আশার কথা হলো, এর সমাধান আছে। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা বা কাঙ্ক্ষিত জীবনধারা ছেড়ে না দিয়েও অর্থসংক্রান্ত চাপ কমানো সম্ভব।

আর্থিক চাপ টিকে থাকে এই কারণে নয় যে মানুষ কম আয় করে, বরং এই কারণে যে তারা একটি দুর্বলভাবে নকশা করা ব্যবস্থার মধ্যে অসংখ্য আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। আমরা অনেককেই চিনি, যারা পুরো কর্মজীবনে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছেন, কিন্তু অবসরে গিয়ে তেমন কিছুই হাতে পাননি। আবার এমন শীর্ষস্থানীয় ব্যবস্থাপকও আছেন, যারা জটিল ব্যবসা সামলাতে পারলেও নিজের পরিবারের অর্থব্যবস্থাপনায় হিমশিম খান। এসব ঘটনা আয়ের স্বল্পতার কারণে নয়, বরং দুর্বল অর্থ ব্যবস্থাপনার ফল।

অর্থ ব্যবস্থাপনার বাস্তবতা
অধিকাংশ মানুষই অর্থ উপার্জনে দক্ষ, কিন্তু সেই অর্থ কীভাবে পরিচালনা করতে হয়, সে বিষয়ে খুব কম মানুষই প্রশিক্ষণ বা সহায়তা পান। অনেক সময় অর্থ ব্যবস্থাপনাকে বিনিয়োগের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়, অথচ এই দুটি বিষয় মৌলিকভাবে আলাদা। বিশ্বজুড়ে অর্থ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক অর্থনীতি পড়ানোর অভিজ্ঞতায়, এমনকি নির্বাহী এমবিএ কর্মসূচিতেও, আমি বারবার অবাক হয়েছি—কত কম মানুষ নিজেকে আর্থিকভাবে নিরাপদ মনে করেন।

অনেকের ব্যয় যুক্তিসংগত ও ব্যাখ্যাযোগ্য হলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি স্পষ্ট। আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যয় প্রায়ই আরও দ্রুত বাড়ে, ফলে অগ্রগতির বাস্তব অনুভূতিটুকু হারিয়ে যায়। অনেকেই সঞ্চয় ও বিনিয়োগে মনোযোগ দেন, কিন্তু তারা কী উদ্দেশ্যে সঞ্চয় করছেন বা সেটি কাঙ্ক্ষিত জীবনধারা বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট হবে কি না—এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা খুব কম জনেরই থাকে।

Rethinking Money: My Path to Financial Stability

আর্থিক চাপ কমানোর বাস্তব দিকনির্দেশনা
আর্থিক চাপ কমানোর অনেক পথ রয়েছে এবং সবার জন্য একই সমাধান কার্যকর হবে না। প্রত্যেকের আর্থিক অবস্থা, বয়স, পরিবার ও পেশাগত বাস্তবতা আলাদা। তবু কিছু সাধারণ দিকনির্দেশনা শুরু করার জন্য সহায়ক হতে পারে।

প্রথমত, কড়াকড়ির বদলে সচেতনতা জরুরি। গত বছরে আপনি যে অর্থ উপার্জন করেছেন, সেটি কোথায় কীভাবে খরচ হয়েছে—খুঁটিনাটি জানেন কি না, সেটি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাজেট তৈরির বিষয় নয়, বরং ব্যয়ের স্বচ্ছতা তৈরি করা। কোথায় আছেন এবং আগে কী হয়েছে, তা না জানলে উন্নতি সম্ভব নয়। নিয়মিতভাবে ব্যয় অনুসরণ করলে অপ্রয়োজনীয় খরচ অনেক সময় নিজেই ধরা পড়ে।

দ্বিতীয়ত, উদ্দেশ্যপূর্ণ ব্যয় করা প্রয়োজন। জীবনের মান নির্ভর করে আপনি কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন এবং সেগুলোর পেছনে সচেতনভাবে ব্যয় করেন কি না তার ওপর। দৈনন্দিন অভ্যাস, স্বাচ্ছন্দ্য বা বিলাস—সবই যদি আপনার পরিকল্পনার অংশ হয়, তবে সেটাই জীবনের আনন্দ। পরিবারকে সময় দেওয়া বা স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার মতো বিষয়ের আর্থিক মূল্য থাকলেও, সেগুলো রক্ষা করা জরুরি।

তৃতীয়ত, অদৃশ্য প্রক্রিয়াগুলো স্বয়ংক্রিয় করা দরকার। সবচেয়ে টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা হলো যেগুলো প্রতিদিনের মানসিক চাপ ছাড়াই কাজ করে। বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি তহবিল, অবসর সঞ্চয় বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক তহবিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা করলে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ অনেক কমে যায়।

চতুর্থত, আর্থিক কাঠামো সহজ করা জরুরি। অপ্রয়োজনীয় হিসাব কমানো, সীমিত সংখ্যক আর্থিক পণ্য ব্যবহার করা এবং স্পষ্ট নিয়মের মাধ্যমে অর্থ বণ্টন করলে জটিলতা কমে। কম সিদ্ধান্ত মানেই ভালো ফল। অর্থ ব্যবস্থাপনা জটিল কৌশলের চেয়ে কাঠামো ও স্পষ্টতার ওপর বেশি নির্ভরশীল।

সবশেষে, অর্থ ব্যবস্থাপনাকে পরে ভাবার বিষয় না বানিয়ে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। আর্থিক চাপ মূলত অনিশ্চয়তা থেকে সৃষ্ট মানসিক ক্লান্তি এবং অর্থ নিয়ে বিরোধের কারণে সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে আসে। লক্ষ্য প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নয়, বরং এমন একটি কাঠামো তৈরি করা, যাতে অর্থ আর প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তার কারণ না হয় এবং একই সঙ্গে জীবনের নমনীয়তা ও আনন্দ বজায় থাকে।

Rethinking Retirement Benefits: Cash Balance Plans for Small- to Mid-Sized  Businesses | Savant Wealth Management

নিয়ন্ত্রণ থেকে নকশার দিকে
আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে—নিয়ন্ত্রণ থেকে নকশার দিকে। অর্থ যেন জীবনকে নিয়ন্ত্রণ না করে, বরং জীবনকে সহায়তা করার মতো করে অর্থের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। প্রচলিত অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেয়—ব্যয় নজরদারি, হিসাব দেখা ও আত্মসংযম। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ ক্লান্তিকর এবং ভঙ্গুর। কম চাপের পথ হলো ভালো নকশা। সুচিন্তিত ব্যবস্থা মানসিক বোঝা কমায়, আর তার সঙ্গে সঙ্গেই চাপও কমে।

এই দিকনির্দেশনাগুলো অনুসরণ করে নিজের আর্থিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য একটি স্পষ্ট দিকনির্ণায়ক তৈরি করা সম্ভব। এরপর ভবিষ্যৎ নগদ প্রবাহ, সম্পদের পরিমাণ ও লক্ষ্য নিয়ে আরও গভীরে ভাবা যায়।

অর্থের জগতে আপস থাকবেই, কিন্তু ভালোভাবে বাঁচার মূল্য হিসেবে চাপ বহন করতেই হবে—এমন নয়। লক্ষ্য আপনাকে আর্থিক বিশেষজ্ঞ বানানো নয়, বরং অর্থ নিয়ে আরও শান্ত, আত্মবিশ্বাসী ও সচেতন করে তোলা, যাতে জীবনের মান অক্ষুণ্ন থাকে বা আরও উন্নত হয়। সুসংহত অর্থ ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ তৈরি করে, যা আজকের সিদ্ধান্তকে ভবিষ্যতের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে এবং সাময়িক স্বাচ্ছন্দ্যের বদলে দীর্ঘস্থায়ী আর্থিক স্থিতিশীলতায় রূপ দেয়।

*অরবিন্দ গর্গ দুবাইভিত্তিক একজন আর্থিক বিশেষজ্ঞ, সাবেক এমবিএ অধ্যাপক ও লেখক

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনৈতিক বন্দিদের ফেরাতে যাঁরা ভূমিকা রেখেছেন, তাঁরাই আজ অবজ্ঞার শিকার: ডা. শফিকুর রহমান

আর্থিক উদ্বেগ আয়ের পরিমাণের কারণে নয়, বরং অর্থ ব্যবস্থার নকশার কারণে

০৮:০০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

আর্থিক চাপ এখন সর্বব্যাপী। কম আয়কারী থেকে শুরু করে উচ্চ আয়কারীরাও এই চাপের বাইরে নন। এটি যেন জীবনের পেছনের স্থায়ী এক শব্দে পরিণত হয়েছে। সাধারণত আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই এই চাপের জন্ম হয়। কেনাকাটার পর অপরাধবোধ, সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা নিজের অর্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর অনুভূতি—এসবই এর বহিঃপ্রকাশ। তবে আশার কথা হলো, এর সমাধান আছে। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা বা কাঙ্ক্ষিত জীবনধারা ছেড়ে না দিয়েও অর্থসংক্রান্ত চাপ কমানো সম্ভব।

আর্থিক চাপ টিকে থাকে এই কারণে নয় যে মানুষ কম আয় করে, বরং এই কারণে যে তারা একটি দুর্বলভাবে নকশা করা ব্যবস্থার মধ্যে অসংখ্য আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। আমরা অনেককেই চিনি, যারা পুরো কর্মজীবনে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছেন, কিন্তু অবসরে গিয়ে তেমন কিছুই হাতে পাননি। আবার এমন শীর্ষস্থানীয় ব্যবস্থাপকও আছেন, যারা জটিল ব্যবসা সামলাতে পারলেও নিজের পরিবারের অর্থব্যবস্থাপনায় হিমশিম খান। এসব ঘটনা আয়ের স্বল্পতার কারণে নয়, বরং দুর্বল অর্থ ব্যবস্থাপনার ফল।

অর্থ ব্যবস্থাপনার বাস্তবতা
অধিকাংশ মানুষই অর্থ উপার্জনে দক্ষ, কিন্তু সেই অর্থ কীভাবে পরিচালনা করতে হয়, সে বিষয়ে খুব কম মানুষই প্রশিক্ষণ বা সহায়তা পান। অনেক সময় অর্থ ব্যবস্থাপনাকে বিনিয়োগের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়, অথচ এই দুটি বিষয় মৌলিকভাবে আলাদা। বিশ্বজুড়ে অর্থ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক অর্থনীতি পড়ানোর অভিজ্ঞতায়, এমনকি নির্বাহী এমবিএ কর্মসূচিতেও, আমি বারবার অবাক হয়েছি—কত কম মানুষ নিজেকে আর্থিকভাবে নিরাপদ মনে করেন।

অনেকের ব্যয় যুক্তিসংগত ও ব্যাখ্যাযোগ্য হলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি স্পষ্ট। আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যয় প্রায়ই আরও দ্রুত বাড়ে, ফলে অগ্রগতির বাস্তব অনুভূতিটুকু হারিয়ে যায়। অনেকেই সঞ্চয় ও বিনিয়োগে মনোযোগ দেন, কিন্তু তারা কী উদ্দেশ্যে সঞ্চয় করছেন বা সেটি কাঙ্ক্ষিত জীবনধারা বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট হবে কি না—এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা খুব কম জনেরই থাকে।

Rethinking Money: My Path to Financial Stability

আর্থিক চাপ কমানোর বাস্তব দিকনির্দেশনা
আর্থিক চাপ কমানোর অনেক পথ রয়েছে এবং সবার জন্য একই সমাধান কার্যকর হবে না। প্রত্যেকের আর্থিক অবস্থা, বয়স, পরিবার ও পেশাগত বাস্তবতা আলাদা। তবু কিছু সাধারণ দিকনির্দেশনা শুরু করার জন্য সহায়ক হতে পারে।

প্রথমত, কড়াকড়ির বদলে সচেতনতা জরুরি। গত বছরে আপনি যে অর্থ উপার্জন করেছেন, সেটি কোথায় কীভাবে খরচ হয়েছে—খুঁটিনাটি জানেন কি না, সেটি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাজেট তৈরির বিষয় নয়, বরং ব্যয়ের স্বচ্ছতা তৈরি করা। কোথায় আছেন এবং আগে কী হয়েছে, তা না জানলে উন্নতি সম্ভব নয়। নিয়মিতভাবে ব্যয় অনুসরণ করলে অপ্রয়োজনীয় খরচ অনেক সময় নিজেই ধরা পড়ে।

দ্বিতীয়ত, উদ্দেশ্যপূর্ণ ব্যয় করা প্রয়োজন। জীবনের মান নির্ভর করে আপনি কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন এবং সেগুলোর পেছনে সচেতনভাবে ব্যয় করেন কি না তার ওপর। দৈনন্দিন অভ্যাস, স্বাচ্ছন্দ্য বা বিলাস—সবই যদি আপনার পরিকল্পনার অংশ হয়, তবে সেটাই জীবনের আনন্দ। পরিবারকে সময় দেওয়া বা স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার মতো বিষয়ের আর্থিক মূল্য থাকলেও, সেগুলো রক্ষা করা জরুরি।

তৃতীয়ত, অদৃশ্য প্রক্রিয়াগুলো স্বয়ংক্রিয় করা দরকার। সবচেয়ে টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা হলো যেগুলো প্রতিদিনের মানসিক চাপ ছাড়াই কাজ করে। বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি তহবিল, অবসর সঞ্চয় বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক তহবিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা করলে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ অনেক কমে যায়।

চতুর্থত, আর্থিক কাঠামো সহজ করা জরুরি। অপ্রয়োজনীয় হিসাব কমানো, সীমিত সংখ্যক আর্থিক পণ্য ব্যবহার করা এবং স্পষ্ট নিয়মের মাধ্যমে অর্থ বণ্টন করলে জটিলতা কমে। কম সিদ্ধান্ত মানেই ভালো ফল। অর্থ ব্যবস্থাপনা জটিল কৌশলের চেয়ে কাঠামো ও স্পষ্টতার ওপর বেশি নির্ভরশীল।

সবশেষে, অর্থ ব্যবস্থাপনাকে পরে ভাবার বিষয় না বানিয়ে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। আর্থিক চাপ মূলত অনিশ্চয়তা থেকে সৃষ্ট মানসিক ক্লান্তি এবং অর্থ নিয়ে বিরোধের কারণে সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে আসে। লক্ষ্য প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নয়, বরং এমন একটি কাঠামো তৈরি করা, যাতে অর্থ আর প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তার কারণ না হয় এবং একই সঙ্গে জীবনের নমনীয়তা ও আনন্দ বজায় থাকে।

Rethinking Retirement Benefits: Cash Balance Plans for Small- to Mid-Sized  Businesses | Savant Wealth Management

নিয়ন্ত্রণ থেকে নকশার দিকে
আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে—নিয়ন্ত্রণ থেকে নকশার দিকে। অর্থ যেন জীবনকে নিয়ন্ত্রণ না করে, বরং জীবনকে সহায়তা করার মতো করে অর্থের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। প্রচলিত অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেয়—ব্যয় নজরদারি, হিসাব দেখা ও আত্মসংযম। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ ক্লান্তিকর এবং ভঙ্গুর। কম চাপের পথ হলো ভালো নকশা। সুচিন্তিত ব্যবস্থা মানসিক বোঝা কমায়, আর তার সঙ্গে সঙ্গেই চাপও কমে।

এই দিকনির্দেশনাগুলো অনুসরণ করে নিজের আর্থিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য একটি স্পষ্ট দিকনির্ণায়ক তৈরি করা সম্ভব। এরপর ভবিষ্যৎ নগদ প্রবাহ, সম্পদের পরিমাণ ও লক্ষ্য নিয়ে আরও গভীরে ভাবা যায়।

অর্থের জগতে আপস থাকবেই, কিন্তু ভালোভাবে বাঁচার মূল্য হিসেবে চাপ বহন করতেই হবে—এমন নয়। লক্ষ্য আপনাকে আর্থিক বিশেষজ্ঞ বানানো নয়, বরং অর্থ নিয়ে আরও শান্ত, আত্মবিশ্বাসী ও সচেতন করে তোলা, যাতে জীবনের মান অক্ষুণ্ন থাকে বা আরও উন্নত হয়। সুসংহত অর্থ ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ তৈরি করে, যা আজকের সিদ্ধান্তকে ভবিষ্যতের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে এবং সাময়িক স্বাচ্ছন্দ্যের বদলে দীর্ঘস্থায়ী আর্থিক স্থিতিশীলতায় রূপ দেয়।

*অরবিন্দ গর্গ দুবাইভিত্তিক একজন আর্থিক বিশেষজ্ঞ, সাবেক এমবিএ অধ্যাপক ও লেখক