মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় উচ্চ শব্দে গান বাজানো নিয়ে তর্কের জেরে এক মা ও তার আট বছরের কন্যাকে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। প্রতিবেশীর হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান আমেনা বেগম ও তার মেয়ে মরিয়ম। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ব্যবহৃত কাঠের লাঠি উদ্ধার হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পেছনের ঘটনা
গত জানুয়ারি উনিশের সকালে দক্ষিণ রাজানগর এলাকার একটি ভাড়া ঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় আমেনা বেগম ও তার শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর আমেনা বেগমের মা মনোয়ারা বেগম অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে জানা যায়, মোবাইল ফোনে উচ্চ শব্দে গান বাজানো বন্ধ করতে বলায় প্রতিবেশীর সঙ্গে তর্ক বাঁধে, সেখান থেকেই নৃশংস হামলা।

গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি
দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ অভিযুক্ত আলী হোসেনকে শনাক্ত করে। ঘটনার পর থেকে তিনি বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। বুধবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া অংশে দাউদকান্দি সেতুর কাছে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, শব্দ কমাতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি আমেনা বেগমকে আঘাত করেন। এ সময় শিশু মরিয়ম মাকে বাঁচাতে গেলে তাকেও আক্রমণ করা হয়।
পুলিশ সুপার মিনহাজুল আলম জানান, অভিযুক্ত নিয়মিত মাদকাসক্ত ছিলেন এবং ভবঘুরে জীবনযাপন করতেন। প্রাথমিক তদন্তে তার সহিংস আচরণের ইতিহাসের তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের লাঠিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
একটি সামান্য শব্দ-বিবাদ যে কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনা তার নির্মম উদাহরণ। স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, একই সঙ্গে মাদক ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক উদ্যোগের দাবি উঠেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















