কেউ জীবনের গ্লাসটাকে অর্ধেক ভরা দেখে, কেউ অর্ধেক খালি। কিন্তু হলিউড ও ব্রডওয়ের খ্যাতনামা সুরকার ও গীতিকার মার্ক শাইমানের কাছে গ্লাসটাই পছন্দ নয়। হাসতে হাসতেই নিজেকে তিনি বলেন চিরন্তন হতাশাবাদী, এমন একজন মানুষ যিনি ভালো কিছু ঘটলেই খারাপ কিছুর অপেক্ষায় থাকেন। জীবনের সেই দৃষ্টিভঙ্গিই উঠে এসেছে তাঁর নতুন আত্মজীবনীতে।
আত্মজীবনীতে সাফল্যের আড়ালের অস্বস্তি
নেভার মাইন্ড দ্য হ্যাপি শিরোনামের এই আত্মজীবনীতে শাইমান তুলে ধরেছেন তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন, সাফল্য আর ভেতরের অস্থিরতা। নিউ জার্সিতে জন্ম নেওয়া এই সঙ্গীত প্রতিভা কৈশোরেই বেট মিডলারের সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে পৌঁছে যান হলিউড ও ব্রডওয়ের শীর্ষে। স্লিপলেস ইন সিয়াটল কিংবা মেরি পপিন্স রিটার্নস এর মতো ছবির সুর থেকে শুরু করে হেয়ার স্প্রে, ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যানের মতো মঞ্চনাটক—সবখানেই রয়েছে তাঁর ছাপ।

খ্যাতিমানদের মানবিক মুখ
এই বইয়ে শাইমান শুধু নিজের গল্প বলেননি। তুলে ধরেছেন মেরিল স্ট্রিপ এর অনুশীলনের নিষ্ঠা, বিলি ক্রিস্টাল ও মার্টিন শর্ট এর সঙ্গে বন্ধুত্ব, এমনকি নোরা ইফ্রনের সঙ্গে তিক্ত স্মৃতিও। তাঁর লেখায় উঠে এসেছে কিংবদন্তি সুরকার স্টিফেন সন্ডহাইমের সঙ্গে এক রাতের হাস্যকর অথচ মানবিক অভিজ্ঞতা। শাইমানের ভাষায়, নামের জৌলুসের আড়ালে ও সবাই মানুষ, ভয় আর দুর্বলতা নিয়ে বাঁচে।
নিজেকে নিয়ে নির্মম রসিকতা
শাইমান নিজেকেও ছাড় দেননি। মাদকাসক্তির কথা অকপটে লিখেছেন, নিজের ওজন বাড়ার বিষয়টি নিয়েও করেছেন ব্যঙ্গ। বারবারা স্ট্রাইস্যান্ড কিংবা হ্যারি কনিক জুনিয়রের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনাগুলো উঠে এসেছে তাঁর স্মৃতিচারণে। এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে যেমন কাঁপিয়ে দিয়েছে, তেমনি শিখিয়েছে সম্পর্কের ভাঙাগড়ার বাস্তবতা।

তরুণ শিল্পীদের জন্য শিক্ষা
এই আত্মজীবনীর মাধ্যমে নতুন শিল্পীদের উদ্দেশ্যে শাইমানের বার্তা স্পষ্ট। সুযোগ এলে উপস্থিত থাকতে হবে, না বলতে নেই। বেট মিডলারের সঙ্গে কাজ পাওয়ার জন্য নিউইয়র্ক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে হঠাৎ উড়ে যাওয়ার গল্প সেই মনোভাবেরই উদাহরণ। তাঁর মতে, একটি দরজা বন্ধ হলেও অন্য কোনো দরজা খোলার স্মৃতি মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।
ব্রডওয়ে নিয়ে হতাশা, অবসর ভাবনা
টনি পুরস্কার জয়ী হয়েও ব্রডওয়ে নিয়ে শাইমানের অস্বস্তি কাটেনি। সাম্প্রতিক দুটি প্রশংসিত কাজ দ্রুত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি হতাশ। তবু তিনি মনে করেন, প্রমাণ করার আর কিছু নেই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চামড়া শক্ত না হয়ে বরং আরও সংবেদনশীল হয়েছে। অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন, যদিও নিজেকে চেনা হতাশাবাদীদের পক্ষে সেটি কতটা সম্ভব, তা নিয়েই সংশয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















