ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন যেন না পড়ে— এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো সমঝোতায় না এলে ইরানকে আরও ভয়াবহ হামলার মুখোমুখি হতে হবে।
বুধবার দেওয়া এক হুঁশিয়ারিতে ট্রাম্প বলেন, গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যে হামলা চালানো হয়েছিল, তার চেয়েও কঠিন আঘাত আসতে পারে। তাঁর ভাষায়, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং এখনই তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক চাপ বৃদ্ধি
যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের নৌবহর মোতায়েন করেছে। ট্রাম্পের দাবি, বিশাল এক নৌবহর দ্রুতগতিতে ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যার নেতৃত্বে রয়েছে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ। এই সামরিক প্রস্তুতিকে তিনি শক্তি, উদ্দীপনা ও দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এটি আগের যেকোনো মোতায়েনের চেয়েও বড় বহর।

আলোচনায় ফেরার আহ্বান
নিজের বক্তব্যে ট্রাম্প ইরানকে আবারও পারমাণবিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এমন একটি ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি দরকার, যেখানে ইরানের হাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না এবং যা সব পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সময়ের গুরুত্ব এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত।
অতীতের হামলার প্রসঙ্গ
ট্রাম্প অতীতের সামরিক অভিযানের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, আগে আলোচনায় বসতে ব্যর্থ হওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালায়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ভবিষ্যতে আবার হামলা হলে সেটি আগের তুলনায় অনেক বেশি বিধ্বংসী হবে।

কৌশলগত অবস্থান বদল
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের বিষয়টি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এখন সরাসরি পারমাণবিক ইস্যুতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। সামরিক শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্য মূলত তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করা।
ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির জবাবে ইরান কড়া অবস্থান নিয়েছে। জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে তারা আলোচনায় আগ্রহী, তবে চাপের মুখে পড়লে নিজেদের রক্ষা করতে তারা নজিরবিহীন জবাব দেবে। ইরানি কর্মকর্তারা সামরিক হুমকির মাধ্যমে আলোচনা চালানোর পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করেছেন।
উত্তেজনা ও আশঙ্কা

মার্কিন নৌবহর পৌঁছানোর খবরে পুরো অঞ্চলে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে ইরানও নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে। তেহরানের শীর্ষ কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলেছেন, সামরিক চাপ কখনোই গঠনমূলক কূটনীতির বিকল্প হতে পারে না।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি কূটনৈতিক পথ বন্ধ হয়ে যায়, তবে পরিস্থিতি দ্রুত খোলা সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এত বড় সামরিক উপস্থিতি উত্তেজনাকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে এবং এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
অস্থির ভবিষ্যৎ
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কথার লড়াই ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও দমন অভিযানকে কেন্দ্র করেই এই উত্তেজনার সূচনা। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু মোটামুটি স্পষ্ট হলেও ঘটনাপ্রবাহ কোন দিকে যাবে, তা অনিশ্চিত। তাঁদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন ধরে এই সংঘাত চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও অস্থির ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















