সৌদি আরবের উপকূলঘেঁষা লোহিত সাগরের জলরাশি এখন এক প্রাণবন্ত প্রাকৃতিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে। উপকূলরেখা ও নৌপথের আশপাশে দলবদ্ধ ডলফিনের উপস্থিতি চোখে পড়ছে, যা লোহিত সাগরের সামুদ্রিক প্রতিবেশব্যবস্থার সুস্বাস্থ্যের একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
লোহিত সাগরে ডলফিনের প্রজাতিগত বৈচিত্র্য উল্লেখযোগ্য হলেও কিছু প্রজাতি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। উপকূলসংলগ্ন ও প্রবালপ্রাচীরঘেঁষা পানিতে ইন্দো-প্যাসিফিক বোতলনাক ডলফিন এবং স্পিনার ডলফিনের আনাগোনা বেশি। সাধারণ বোতলনাক ডলফিনও রয়েছে, তবে তারা সাধারণত উপকূল থেকে দূরের গভীর পানিকে বেশি পছন্দ করে।

কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকেরা লোহিত সাগরের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে ধারাবাহিক সংরক্ষণ কার্যক্রমের গুরুত্বের কথা জোর দিয়ে বলেছেন। কেএইউএসটির গবেষণা বিজ্ঞানী জেসি ককরান আরব নিউজকে বলেন, সৌদি জলসীমায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দীর্ঘমেয়াদি ও মানসম্মত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অভাব। ডলফিনের সংখ্যা বা প্রবণতা সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পেতে যে ধরনের নিয়মিত তথ্য প্রয়োজন, তা এখনো পর্যাপ্ত নয়। কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও লক্ষ্যভিত্তিক জরিপ থাকলেও প্রাথমিক ভিত্তি এখনো গড়ে ওঠার পর্যায়ে রয়েছে।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক গবেষণা বিজ্ঞানী রয়্যাল হার্ডেনস্টাইন বলেন, এ ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত সমন্বয় প্রয়োজন। তার মতে, বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর হবে।

ডলফিনকে প্রায়ই প্রবালঘেরা লেগুন ও সুরক্ষিত উপকূলীয় পানিতে দেখা যায়, যেখানে তারা বিশ্রাম নেয় এবং সামাজিক আচরণ প্রদর্শন করে। এসব স্থান সাধারণত পূর্বানুমানযোগ্য, কারণ প্রবাল কাঠামো ঢেউ ও স্রোতের তীব্রতা কমিয়ে শান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে, যা ডলফিনের জন্য অনুকূল।
কেএইউএসটির পিএইচডি শিক্ষার্থী ক্রিস্টি জাড বলেন, কিছু প্রবালবেষ্টিত লেগুন বারবার বিশ্রামস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে মনে হয়। এসব জায়গার গুরুত্ব এই কারণে নয় যে সেগুলোতেই সর্বাধিক জীববৈচিত্র্য রয়েছে, বরং কারণ এগুলো ডলফিনের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও শান্ত পরিবেশ প্রদান করে।


![]()
নাদিয়া হামিদ 



















