০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি? প্যাক্স সিলিকা: কর্মসংস্থান নাকি নতুন নির্ভরতা? ফিলিপাইনের সামনে সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার

মোদির মিত্রের প্রস্তাব: ভারতের কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের দাবি, বৈশ্বিক বিতর্ক তীব্র

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এক ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাজার হিসেবে পরিচিত ভারত এভাবে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বৈশ্বিক বিতর্কে যুক্ত হলো।

ভারতের প্রস্তাবের পেছনের যুক্তি

ভারতীয় আইনপ্রণেতা এল. এস. কে. দেবরায়ালু বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের শিশুরা ক্রমেই আসক্ত হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে ভারত বিদেশি প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য বিপুল পরিমাণ তথ্য সরবরাহ করছে, যা তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত প্রযুক্তি তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাঁর মতে, এর ফলে ভারতীয় ব্যবহারকারীরা কার্যত বিনা পারিশ্রমিকে তথ্য সরবরাহকারী হয়ে উঠছেন, আর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা ভোগ করছে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো।

বিশ্বজুড়ে কিশোরদের জন্য নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রথম দেশ হিসেবে নজির গড়েছে। এ সিদ্ধান্তকে অনেক অভিভাবক ও শিশু অধিকারকর্মী স্বাগত জানালেও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো সমালোচনা করেছে। একই পথে হাঁটার উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স, যেখানে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ব্রিটেন, ডেনমার্ক ও গ্রিসও বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

Indian Prime Minister Narendra Modi in Guwahati

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতিক্রিয়া

ভারতের প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে একটি বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংস্থা জানিয়েছিল, তারা অভিভাবকদের তদারকির পক্ষে আইন সমর্থন করে, তবে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দিলে কিশোররা আরও অনিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণহীন প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করে।

ভারতের বর্তমান বাস্তবতা

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন বাজার হিসেবে ভারতে প্রায় ৭৫ কোটি স্মার্টফোন ব্যবহার হচ্ছে এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১০০ কোটি। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশে কোনো ন্যূনতম বয়সসীমা নির্ধারিত নেই। ফলে কিশোর ও শিশুরা অবাধে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে।

Children below 18 will need parents' consent to create social media account: Draft rules | India News

প্রস্তাবিত আইনের মূল দিক

দেবরায়ালুর ১৫ পৃষ্ঠার খসড়া বিলে বলা হয়েছে, ১৬ বছরের কম বয়সী কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে, রাখতে বা ব্যবহার করতে পারবে না। যদি কারও এমন অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়, তাহলে তা বন্ধ করে দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের পুরো দায়িত্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর ওপরই থাকতে হবে।

সরকারি পর্যায়ে আলোচনা

সম্প্রতি ভারতের সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ডিজিটাল আসক্তি মোকাবিলায় বয়সভিত্তিক প্রবেশাধিকার নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে সরকারি পর্যায়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

আইন পাসের সম্ভাবনা

এই বিলটি ব্যক্তিগত সদস্যদের উদ্যোগে উত্থাপিত হওয়ায় এটি সরাসরি সরকারের প্রস্তাব নয়। তবে ভারতের সংসদীয় প্রক্রিয়ায় এ ধরনের বিল প্রায়ই আলোচনার সূত্রপাত করে এবং ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়নে প্রভাব ফেলতে পারে। দেবরায়ালু দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের ক্ষমতাসীন তেলুগু দেশম পার্টির সদস্য, যা মোদির জোট সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি।

Children below the age of 18 will require parental consent to open social media accounts

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

মোদির মিত্রের প্রস্তাব: ভারতের কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের দাবি, বৈশ্বিক বিতর্ক তীব্র

০১:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এক ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাজার হিসেবে পরিচিত ভারত এভাবে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বৈশ্বিক বিতর্কে যুক্ত হলো।

ভারতের প্রস্তাবের পেছনের যুক্তি

ভারতীয় আইনপ্রণেতা এল. এস. কে. দেবরায়ালু বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের শিশুরা ক্রমেই আসক্ত হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে ভারত বিদেশি প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য বিপুল পরিমাণ তথ্য সরবরাহ করছে, যা তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত প্রযুক্তি তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাঁর মতে, এর ফলে ভারতীয় ব্যবহারকারীরা কার্যত বিনা পারিশ্রমিকে তথ্য সরবরাহকারী হয়ে উঠছেন, আর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা ভোগ করছে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো।

বিশ্বজুড়ে কিশোরদের জন্য নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রথম দেশ হিসেবে নজির গড়েছে। এ সিদ্ধান্তকে অনেক অভিভাবক ও শিশু অধিকারকর্মী স্বাগত জানালেও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো সমালোচনা করেছে। একই পথে হাঁটার উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স, যেখানে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ব্রিটেন, ডেনমার্ক ও গ্রিসও বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

Indian Prime Minister Narendra Modi in Guwahati

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতিক্রিয়া

ভারতের প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে একটি বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংস্থা জানিয়েছিল, তারা অভিভাবকদের তদারকির পক্ষে আইন সমর্থন করে, তবে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দিলে কিশোররা আরও অনিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণহীন প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করে।

ভারতের বর্তমান বাস্তবতা

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন বাজার হিসেবে ভারতে প্রায় ৭৫ কোটি স্মার্টফোন ব্যবহার হচ্ছে এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১০০ কোটি। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশে কোনো ন্যূনতম বয়সসীমা নির্ধারিত নেই। ফলে কিশোর ও শিশুরা অবাধে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে।

Children below 18 will need parents' consent to create social media account: Draft rules | India News

প্রস্তাবিত আইনের মূল দিক

দেবরায়ালুর ১৫ পৃষ্ঠার খসড়া বিলে বলা হয়েছে, ১৬ বছরের কম বয়সী কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে, রাখতে বা ব্যবহার করতে পারবে না। যদি কারও এমন অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়, তাহলে তা বন্ধ করে দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের পুরো দায়িত্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর ওপরই থাকতে হবে।

সরকারি পর্যায়ে আলোচনা

সম্প্রতি ভারতের সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ডিজিটাল আসক্তি মোকাবিলায় বয়সভিত্তিক প্রবেশাধিকার নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে সরকারি পর্যায়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

আইন পাসের সম্ভাবনা

এই বিলটি ব্যক্তিগত সদস্যদের উদ্যোগে উত্থাপিত হওয়ায় এটি সরাসরি সরকারের প্রস্তাব নয়। তবে ভারতের সংসদীয় প্রক্রিয়ায় এ ধরনের বিল প্রায়ই আলোচনার সূত্রপাত করে এবং ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়নে প্রভাব ফেলতে পারে। দেবরায়ালু দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের ক্ষমতাসীন তেলুগু দেশম পার্টির সদস্য, যা মোদির জোট সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি।

Children below the age of 18 will require parental consent to open social media accounts