কঠিন অঙ্কের সমাধান, জটিল রোগ নির্ণয় কিংবা মুহূর্তে সফটওয়্যার তৈরি—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা প্রতিদিনই নতুন মাত্রা পাচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে উদ্বেগও। চাকরি হারানোর আশঙ্কা, সামাজিক অস্থিরতা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা শোনা যাচ্ছে নানা প্রভাবশালী মহল থেকে। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, এখনো আতঙ্কিত হওয়ার সময় আসেনি। বরং এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে প্রস্তুতির পথটাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত।
এআইয়ের গতি আর বাস্তবের ব্যবধান
নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার আর দৈনন্দিন কাজে তার বিস্তার এক জিনিস নয়। ইতিহাস বলছে, এই ব্যবধান অনেক সময়ই দীর্ঘ হয়। বিদ্যুৎ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করলেও কারখানায় প্রকৃত উৎপাদনশীলতা বাড়তে কয়েক দশক লেগেছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে। প্রযুক্তিটি কিছু কাজে অসাধারণ হলেও অনেক জায়গায় বিভ্রান্তিকর ভুল করে। ফলে প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের বুঝে নিতে সময় লাগছে, কোথায় আর কীভাবে এটি ব্যবহার সবচেয়ে কার্যকর হবে।

শ্রমবাজারে এখনো বড় ধাক্কা নেই
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে সেবা খাতের কাজগুলো—এমন ধারণা থাকলেও বাস্তব পরিসংখ্যান ভিন্ন কথা বলছে। সাম্প্রতিক সময়ে শ্বেতপেশাজীবী চাকরি বরং বেড়েছে। কোডিংসহ যেসব খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত গ্রহণ করা হয়েছে, সেখানেও কর্মসংস্থান টিকে আছে। এর একটি বড় কারণ হলো ব্যবসায়িক কাঠামো রাতারাতি বদলায় না। কাজের ধারা, দায়িত্ব বণ্টন আর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে সময় লাগে।
কোন কাজগুলো ঝুঁকিতে
তবু সব কাজ সমান নিরাপদ নয়। নিয়মভিত্তিক, স্ক্রিপ্ট অনুসরণ করা পেছনের দপ্তরের অনেক কাজ সহজেই স্বয়ংক্রিয় হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষানবিশ ও প্রবেশপর্যায়ের তরুণদের যেসব কাজ দেওয়া হয়—তথ্য বিশ্লেষণ, প্রতিবেদন সংক্ষেপ—সেগুলোতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সবচেয়ে দক্ষ। এই গোষ্ঠীর জন্য বিকল্প পথ তৈরি করা না গেলে সামাজিক ক্ষোভ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি আছে, যা শেষ পর্যন্ত পুরো অর্থনীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

সরকার ও প্রতিষ্ঠানের করণীয়
এই পরিবর্তন সামাল দিতে শ্রমবাজারকে নমনীয় রাখতে হবে। চাকরি ছাঁটাই একেবারে নিষিদ্ধ করার চিন্তা দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসবে না। বরং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মানানসই দক্ষতা শেখানো হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তরুণ নিয়োগ বন্ধ না করে কাজের ধরন বদলাতে হবে। কম যান্ত্রিক খাটুনি, বেশি বিচারবোধ আর বিশ্লেষণধর্মী দায়িত্ব দিতে হবে। দ্রুত ঘূর্ণায়মান দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে এমন অভিজ্ঞতা গড়ে তুলতে হবে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নকল করতে পারে না।

সময় এখনো আছে, নষ্ট করা যাবে না
প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে কিছু ব্যাঘাত আর চাকরি হারানো অনিবার্য। তবে এখনো ক্ষতি কমানোর সুযোগ আছে। এই সময়টুকু কাজে লাগানো গেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হতে পারে উৎপাদনশীলতা ও নতুন কর্মসংস্থানের সহায়ক, ভয়াবহ সামাজিক সংকটের উৎস নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















