সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও উত্তেজনার মধ্যেও দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বন্ধন অটুট রয়েছে বলে আবারও স্পষ্ট বার্তা দিলেন সৌদি যুবরাজ তুর্কি আল-ফয়সাল। তিনি বলেন, এই সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক সমঝোতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা গড়ে উঠেছে পারিবারিক বন্ধন, পারস্পরিক স্নেহ ও দীর্ঘ অভিন্ন ইতিহাসের ভিত্তিতে।
সৌদি-আমিরাত সম্পর্কের ভিত্তি
রিয়াদে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যুবরাজ তুর্কি বলেন, সৌদি আরব ও আমিরাতের সম্পর্ক সংঘাতের নয়, বরং সমন্বয় ও সহযোগিতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের কাঠামোর মধ্যেও এই নীতি কার্যকর রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, মতের অমিল যে কোনো জোটেই স্বাভাবিক, কিন্তু তা কখনোই সম্পর্ক ভাঙনের কারণ হতে পারে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব নিয়ে সতর্কতা
ইয়েমেন পরিস্থিতি ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে মতভেদের কথা তুলে ধরে সামাজিক মাধ্যমে যে ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, তা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান তিনি। যুবরাজ তুর্কি বলেন, এমন বিষয়ে কেবল সৌদি আরবের সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের ওপরই আস্থা রাখা উচিত। তাঁর মতে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও মিথ্যা তথ্য বাস্তব চিত্রকে আড়াল করছে।
ইয়েমেন ইস্যুতে অবস্থান
ইয়েমেন নিয়ে সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে কিছু কৌশলগত পার্থক্য থাকলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্ব অপরিসীম বলে সৌদি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আবারও জানানো হয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য আমিরাতের সঙ্গে সৌদি আরবের শক্তিশালী ও ইতিবাচক সম্পর্ক অপরিহার্য। একই সঙ্গে সৌদি তথ্য মন্ত্রণালয়ও স্পষ্ট করেছে যে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগ ও যাতায়াতে কোনো বাধা নেই।

ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল প্রসঙ্গে সৌদি অবস্থান
আন্তর্জাতিক রাজনীতি প্রসঙ্গে যুবরাজ তুর্কি ফিলিস্তিন প্রশ্নে সৌদি আরবের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার ছাড়া শান্তি সম্ভব নয় এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো স্বাভাবিক সম্পর্কের প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে ইসরায়েল দ্বিমুখী মানদণ্ড অনুসরণ করছে এবং নিজেদের কর্মকাণ্ড আড়াল করতে অন্যদের অভিযুক্ত করছে।
দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ
ইসরায়েলি নেতৃত্বের বক্তব্যের সমালোচনা করে যুবরাজ তুর্কি বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার শুধু এক পক্ষের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে না। ফিলিস্তিনিরা যখন আক্রমণের শিকার, তখন তাদের সেই অধিকার অস্বীকার করা ন্যায়ের পরিপন্থী। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে চালানো প্রচারণার মাধ্যমে ইসরায়েল নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরছে, অথচ বাস্তবতায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















