০৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিহত হজ ভিসার আবেদন শুরু ৮ ফেব্রুয়ারি একদিনেই স্বর্ণের দামে বড় ধস, ভরিতে কমল ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা রানা প্লাজা ক্ষতিপূরণ নিয়ে নতুন অভিযোগ: বিদেশি অনুদানের টাকা পাচ্ছেন না প্রকৃত ভুক্তভোগীরা চ্যাটবট এর উত্তরে ব্যবসার অদৃশ্য হাত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুপারিশ কতটা বিশ্বাসযোগ্য কেন সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চে উঠেছিল, আর কী কারণে হঠাৎ বড় পতন বিষাদ বিশ্ব অস্থিরতায় সোনার দামে রেকর্ড, তারপর হঠাৎ পতন কেন ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রের পথে নতুন বাঁক, অর্থনীতি খুললেও রাজনীতিতে অনাস্থা ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ তিন ঘণ্টা পর স্বাভাবিক

দক্ষিণ–পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে বিরল তুষারঝড়ের শঙ্কা, শক্তিশালী বোমা ঘূর্ণিঝড়ে তীব্র বাতাস ও উপকূলীয় বন্যার আশঙ্কা

দক্ষিণ–পূর্ব ও মধ্য আটলান্টিক অঞ্চলে বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় তুষারপাতের মুখে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করা এক বোমা ঘূর্ণিঝড় শুক্রবার রাত থেকে শনিবারের মধ্যে অস্বাভাবিক তুষার, ধ্বংসাত্মক বাতাস এবং বিপজ্জনক উপকূলীয় প্লাবন নিয়ে আঘাত হানতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ঝড়টি উপকূল ঘেঁষে অগ্রসর হলে প্রভাব আরও বিস্তৃত ও তীব্র হতে পারে।

ঝড়ের গঠন ও অস্বাভাবিক শক্তিবৃদ্ধি

শুক্রবার রাতে ঝড়টি নর্থ ক্যারোলাইনা উপকূলের কাছে সৃষ্টি হয়ে শনিবার উত্তরমুখী অগ্রযাত্রার সঙ্গে দ্রুত শক্তিশালী হবে। এই প্রক্রিয়াকে বোমা ঘূর্ণিঝড়ের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ দ্রুত গভীরতা বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হয়। শক্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরের হিমেল বায়ু দক্ষিণে টেনে আনবে ঝড়টি, ফলে যে এলাকাগুলোতে সচরাচর শীতের তীব্রতা দেখা যায় না, সেখানেও ভারী তুষারপাতের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে উপকূলজুড়ে বাতাসের বেগ বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছাতে পারে।

কোথায় কতটা তুষারপাতের আশঙ্কা

শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণ অ্যাপালাচিয়ান অঞ্চল, জর্জিয়া, ক্যারোলাইনা এবং দক্ষিণ ভার্জিনিয়ায় তুষার জমতে শুরু করবে। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে মধ্য ও পূর্ব নর্থ ক্যারোলাইনা, মধ্য ও উত্তর–পূর্ব সাউথ ক্যারোলাইনা এবং দক্ষিণ ভার্জিনিয়ায়, যেখানে পাঁচ থেকে দশ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। কোথাও কোথাও সরু ভারী তুষারবলয় তৈরি হলে পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

সাউথ ক্যারোলাইনার কলম্বিয়া শহরে দুই হাজার দশ সালের ফেব্রুয়ারির পর সবচেয়ে ভারী তুষারপাত হতে পারে। নর্থ ক্যারোলাইনার রালিতে সামান্য কয়েক ইঞ্চিই সাম্প্রতিক বছরের রেকর্ড ভাঙার জন্য যথেষ্ট, আর সম্ভাব্য পরিমাণ তার দ্বিগুণের কাছাকাছি। উইলমিংটনে আট বছরের মধ্যে প্রথমবার উল্লেখযোগ্য তুষার জমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে বিরল ঘটনা হতে পারে।

জরুরি অবস্থা ও প্রস্তুতি

ঝড়ের আগাম প্রভাব বিবেচনায় জর্জিয়া রাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে দ্রুত সহায়তা ও সম্পদ মোতায়েন সহজ হয়। জর্জিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ভার্জিনিয়ার পরিবহন বিভাগ আগেভাগেই সড়ক প্রস্তুত ও রাসায়নিক ছিটানোর কাজ শুরু করেছে। গত সপ্তাহের ঝড়ে ভোগান্তির অভিজ্ঞতার পর বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরগুলো ও সম্ভাব্য ভ্রমণ বিঘ্নের সতর্কতা জারি করেছে।

তীব্র বাতাস ও শ্বেত ঝড়ের আশঙ্কা

উপকূলবর্তী এলাকায় ঝড়ের সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের বেগ ঘণ্টায় পঁচাত্তর মাইলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। ভারী তুষারপাতের সঙ্গে এই বাতাস মিলিত হলে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে, যা শ্বেত ঝড় পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। নর্থ ক্যারোলাইনার আউটার ব্যাংকস ও দক্ষিণ–পূর্ব ভার্জিনিয়া সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত।

ভিতরের এলাকাগুলোতেও ঘণ্টায় পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশ মাইল বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। শুকনো গুঁড়ো তুষার উড়ে গিয়ে রাস্তা ও মহাসড়কে চলাচলকে বিপজ্জনক করে তুলতে পারে, এমনকি তুষারপাত কমে গেলেও ঝুঁকি থেকে যাবে।

উপকূলীয় প্লাবন ও ক্ষয়ের শঙ্কা

শক্তিশালী অনশোর বাতাস মাসের উচ্চ জোয়ারের সঙ্গে মিলিত হয়ে শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত মাঝারি থেকে স্থানভেদে উল্লেখযোগ্য উপকূলীয় প্লাবনের ঝুঁকি বাড়াবে। আউটার ব্যাংকস ও ভার্জিনিয়ার টাইডওয়াটার অঞ্চলে উচ্চ ঢেউ, তীরভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসে নিচু উপকূলীয় বসতিতে পানির ঢল নামতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঝড় ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে এ অঞ্চলে বহু সৈকতঘেঁষা ঘরবাড়ি হারিয়ে গেছে।

ভ্রমণ ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি

অত্যন্ত ঠান্ডা বায়ু আগে থেকেই সক্রিয় থাকায় তুষার দ্রুত রাস্তা, সেতু ও অপরিষ্কার পৃষ্ঠে জমে থাকবে। তুষারপাত শুরু হলেই ভ্রমণ পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে পারে এবং সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থা বজায় থাকতে পারে। শক্তিশালী বাতাসে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ঝড়ের উপস্থিতি নিয়ে আস্থা থাকলেও এর পথের সামান্য পরিবর্তন প্রভাবের মাত্রা বদলে দিতে পারে, বিশেষ করে নিউ ইংল্যান্ড উপকূলে। তাই সর্বশেষ স্থানীয় পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিহত

দক্ষিণ–পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে বিরল তুষারঝড়ের শঙ্কা, শক্তিশালী বোমা ঘূর্ণিঝড়ে তীব্র বাতাস ও উপকূলীয় বন্যার আশঙ্কা

০৫:১২:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

দক্ষিণ–পূর্ব ও মধ্য আটলান্টিক অঞ্চলে বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় তুষারপাতের মুখে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করা এক বোমা ঘূর্ণিঝড় শুক্রবার রাত থেকে শনিবারের মধ্যে অস্বাভাবিক তুষার, ধ্বংসাত্মক বাতাস এবং বিপজ্জনক উপকূলীয় প্লাবন নিয়ে আঘাত হানতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ঝড়টি উপকূল ঘেঁষে অগ্রসর হলে প্রভাব আরও বিস্তৃত ও তীব্র হতে পারে।

ঝড়ের গঠন ও অস্বাভাবিক শক্তিবৃদ্ধি

শুক্রবার রাতে ঝড়টি নর্থ ক্যারোলাইনা উপকূলের কাছে সৃষ্টি হয়ে শনিবার উত্তরমুখী অগ্রযাত্রার সঙ্গে দ্রুত শক্তিশালী হবে। এই প্রক্রিয়াকে বোমা ঘূর্ণিঝড়ের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ দ্রুত গভীরতা বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হয়। শক্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরের হিমেল বায়ু দক্ষিণে টেনে আনবে ঝড়টি, ফলে যে এলাকাগুলোতে সচরাচর শীতের তীব্রতা দেখা যায় না, সেখানেও ভারী তুষারপাতের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে উপকূলজুড়ে বাতাসের বেগ বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছাতে পারে।

কোথায় কতটা তুষারপাতের আশঙ্কা

শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণ অ্যাপালাচিয়ান অঞ্চল, জর্জিয়া, ক্যারোলাইনা এবং দক্ষিণ ভার্জিনিয়ায় তুষার জমতে শুরু করবে। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে মধ্য ও পূর্ব নর্থ ক্যারোলাইনা, মধ্য ও উত্তর–পূর্ব সাউথ ক্যারোলাইনা এবং দক্ষিণ ভার্জিনিয়ায়, যেখানে পাঁচ থেকে দশ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। কোথাও কোথাও সরু ভারী তুষারবলয় তৈরি হলে পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

সাউথ ক্যারোলাইনার কলম্বিয়া শহরে দুই হাজার দশ সালের ফেব্রুয়ারির পর সবচেয়ে ভারী তুষারপাত হতে পারে। নর্থ ক্যারোলাইনার রালিতে সামান্য কয়েক ইঞ্চিই সাম্প্রতিক বছরের রেকর্ড ভাঙার জন্য যথেষ্ট, আর সম্ভাব্য পরিমাণ তার দ্বিগুণের কাছাকাছি। উইলমিংটনে আট বছরের মধ্যে প্রথমবার উল্লেখযোগ্য তুষার জমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে বিরল ঘটনা হতে পারে।

জরুরি অবস্থা ও প্রস্তুতি

ঝড়ের আগাম প্রভাব বিবেচনায় জর্জিয়া রাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে দ্রুত সহায়তা ও সম্পদ মোতায়েন সহজ হয়। জর্জিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ভার্জিনিয়ার পরিবহন বিভাগ আগেভাগেই সড়ক প্রস্তুত ও রাসায়নিক ছিটানোর কাজ শুরু করেছে। গত সপ্তাহের ঝড়ে ভোগান্তির অভিজ্ঞতার পর বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরগুলো ও সম্ভাব্য ভ্রমণ বিঘ্নের সতর্কতা জারি করেছে।

তীব্র বাতাস ও শ্বেত ঝড়ের আশঙ্কা

উপকূলবর্তী এলাকায় ঝড়ের সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের বেগ ঘণ্টায় পঁচাত্তর মাইলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। ভারী তুষারপাতের সঙ্গে এই বাতাস মিলিত হলে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে, যা শ্বেত ঝড় পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। নর্থ ক্যারোলাইনার আউটার ব্যাংকস ও দক্ষিণ–পূর্ব ভার্জিনিয়া সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত।

ভিতরের এলাকাগুলোতেও ঘণ্টায় পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশ মাইল বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। শুকনো গুঁড়ো তুষার উড়ে গিয়ে রাস্তা ও মহাসড়কে চলাচলকে বিপজ্জনক করে তুলতে পারে, এমনকি তুষারপাত কমে গেলেও ঝুঁকি থেকে যাবে।

উপকূলীয় প্লাবন ও ক্ষয়ের শঙ্কা

শক্তিশালী অনশোর বাতাস মাসের উচ্চ জোয়ারের সঙ্গে মিলিত হয়ে শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত মাঝারি থেকে স্থানভেদে উল্লেখযোগ্য উপকূলীয় প্লাবনের ঝুঁকি বাড়াবে। আউটার ব্যাংকস ও ভার্জিনিয়ার টাইডওয়াটার অঞ্চলে উচ্চ ঢেউ, তীরভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসে নিচু উপকূলীয় বসতিতে পানির ঢল নামতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঝড় ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে এ অঞ্চলে বহু সৈকতঘেঁষা ঘরবাড়ি হারিয়ে গেছে।

ভ্রমণ ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি

অত্যন্ত ঠান্ডা বায়ু আগে থেকেই সক্রিয় থাকায় তুষার দ্রুত রাস্তা, সেতু ও অপরিষ্কার পৃষ্ঠে জমে থাকবে। তুষারপাত শুরু হলেই ভ্রমণ পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে পারে এবং সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থা বজায় থাকতে পারে। শক্তিশালী বাতাসে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ঝড়ের উপস্থিতি নিয়ে আস্থা থাকলেও এর পথের সামান্য পরিবর্তন প্রভাবের মাত্রা বদলে দিতে পারে, বিশেষ করে নিউ ইংল্যান্ড উপকূলে। তাই সর্বশেষ স্থানীয় পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।