অনলাইনে পণ্য বা সেবার খোঁজে এখন অনেকেই মানুষের বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শরণ নিচ্ছেন। চ্যাট জিপিটি বা অনুরূপ চ্যাটবটকে প্রশ্ন করলেই মুহূর্তে ভেসে আসে সুপারিশ। কিন্তু সেই উত্তর কতটা নিরপেক্ষ, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বহু প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে চ্যাটবট এর উত্তর নিজেদের পক্ষে ঘুরিয়ে নিচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুপারিশের পেছনের বাস্তবতা
মানুষের পরামর্শ যাচাই করা যায় অভিজ্ঞতা আর বিশ্বাসের ভিত্তিতে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দেওয়া সুপারিশ সেই অর্থে যাচাই করা হয় না। প্রশ্ন করলে যে প্রথম নামটি আসে, সেটি অনেক সময়ই এমন ভাবে সাজানো, যেখানে মানুষের ই ভূমিকা আছে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মিথ্যা বলছে এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রেই উত্তরটি কার্যকর। তবে ছোট ও মাঝারি অনেক প্রতিষ্ঠান এখন মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করছে, যেন চ্যাটবট তাদের নামটি সবার আগে বলে।

এসইও থেকে নতুন দুনিয়া
এক সময় গুগলে শীর্ষে ওঠার কৌশল ছিল সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। এখন সেই ধারণা বদলে গিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন কৌশল, যার নাম জেনারেটিভ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। উদ্দেশ্য একটাই, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্তরে নিজের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া। এই পদ্ধতিতে ভাষার মডেল যেভাবে তথ্য জোড়া লাগায়, সেটিকে কাজে লাগানো হয়।
সতর্ক থাকার আহ্বান
চ্যাটবট তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান গুলো জানাচ্ছে, তারা নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য নিতে চেষ্টা করে এবং কম বিশ্বাসযোগ্য উৎস ঠেকাতে নিয়মিত ব্যবস্থা নেয়। তবু বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইন্টারনেটের গভীর পাঠক নয়। ফলে এর উত্তর সহজে প্রভাবিত হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে তাই মানুষের তৈরি বিশ্বাসযোগ্য সংবাদমাধ্যম, রিভিউ বা বাস্তব বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া ই বুদ্ধিমানের।

রেফারেল ট্রাফিকের বদলে যাওয়া হিসাব
অনলাইনে ব্যবসার জন্য সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো রেফারাল ট্রাফিক। আগে এর প্রায় পুরোটা আসত সার্চ ইঞ্জিন থেকে। এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকেই আসছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভিজিটর। এই ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইটে বেশি সময় থাকেন, বেশি পৃষ্ঠা দেখেন এবং কেনাকাটার সম্ভাবনা ও বেশি।
কীভাবে প্রভাব ফেলা হচ্ছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব বিষয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগে থেকেই গভীর ধারণা আছে, সেখানে প্রভাব ফেলা কঠিন। কিন্তু যেসব বিষয়ে তথ্য কম, সেখানে ভাষা ও পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে সহজেই প্রভাব বিস্তার করা যায়। কিছু প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট বাক্য বা প্রশংসামূলক বর্ণনা ছড়িয়ে দেয়, যাতে চ্যাটবট সেটিকেই সত্য ধরে নেয়।
শেষ কথা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের তথ্য পাওয়ার পথ সহজ করেছে, কিন্তু অন্ধ বিশ্বাসের ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। সুপারিশ যত আকর্ষণীয়ই হোক, তার পেছনের উদ্দেশ্য ও উৎস যাচাই করা এখন সময়ের দাবি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















