০৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিহত হজ ভিসার আবেদন শুরু ৮ ফেব্রুয়ারি একদিনেই স্বর্ণের দামে বড় ধস, ভরিতে কমল ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা রানা প্লাজা ক্ষতিপূরণ নিয়ে নতুন অভিযোগ: বিদেশি অনুদানের টাকা পাচ্ছেন না প্রকৃত ভুক্তভোগীরা চ্যাটবট এর উত্তরে ব্যবসার অদৃশ্য হাত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুপারিশ কতটা বিশ্বাসযোগ্য কেন সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চে উঠেছিল, আর কী কারণে হঠাৎ বড় পতন বিষাদ বিশ্ব অস্থিরতায় সোনার দামে রেকর্ড, তারপর হঠাৎ পতন কেন ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রের পথে নতুন বাঁক, অর্থনীতি খুললেও রাজনীতিতে অনাস্থা ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ তিন ঘণ্টা পর স্বাভাবিক

বিশ্ব অস্থিরতায় সোনার দামে রেকর্ড, তারপর হঠাৎ পতন কেন

বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকে পড়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিলতেই হঠাৎ করে দাম কমে যায়, যদিও আগের বছরের তুলনায় এখনো সোনার দাম অনেক বেশি।

সোনার দামে রেকর্ড উত্থানের পেছনের কারণ
সাম্প্রতিক সময়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রথমবারের মতো পাঁচ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং কিছু সময়ের জন্য পাঁচ হাজার পাঁচশ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে। একই সময়ে রুপা ও প্লাটিনামের দামেও বড় ধরনের উত্থান দেখা যায়। বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বাণিজ্য উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের দিকে ঠেলে দেয়।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে রেকর্ড, কেন হঠাৎ উড়ছে সোনার দাম?

ট্রাম্পের নীতিতে বিনিয়োগের দিক বদল
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ ও কড়া বাণিজ্য নীতির কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। তার এই অবস্থান বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে সোনার চাহিদা বাড়িয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কৌশলগত বক্তব্যও বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে।

যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব
ইউক্রেন ও গাজায় চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ সোনার দামে চাপ সৃষ্টি করে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী অবস্থান ডলারের ওপর আস্থা কমিয়ে দেয়, ফলে বিনিয়োগকারীরা মূল্যবান ধাতুর দিকে ঝুঁকে পড়েন।

রেকর্ড উচ্চতা থেকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে হঠাৎ পতন কেন?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বড় ভূমিকা
বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিপুল পরিমাণে সোনা কিনছে, যা দাম বাড়ানোর অন্যতম কারণ। অনেক দেশ মনে করছে, সোনা তাদের যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ভরতা থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেয়। রাশিয়ার ডলারভিত্তিক সম্পদ জব্দের ঘটনাও অনেক দেশের কাছে সোনাকে নিরপেক্ষ রিজার্ভ হিসেবে আকর্ষণীয় করেছে। যদিও দুই হাজার পঁচিশ সালে এই ক্রয়ের গতি কিছুটা কমেছে।

চীন এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় সোনা ক্রেতা। গয়না ও বিনিয়োগ দুই ক্ষেত্রেই তাদের চাহিদা বেশি। পশ্চিমা দেশগুলোর বিনিয়োগকারীরাও সোনা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অর্থ ঢালছেন। নতুন ধরনের বিনিয়োগকারী, যেমন ডিজিটাল মুদ্রা প্রতিষ্ঠানগুলোও সোনার বাজারে প্রভাব ফেলছে।

হঠাৎ দাম কমার কারণ
সাম্প্রতিক উত্থানের পেছনে একটি বড় আশঙ্কা ছিল, ট্রাম্প যদি এমন কাউকে ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন যিনি দ্রুত সুদের হার কমাতে পারেন। এতে ডলার দুর্বল হয়ে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, যা সোনার চাহিদা বাড়ায়। তবে কেভিন ওয়ারশের নাম সামনে আসায় বাজার কিছুটা স্বস্তি পায়। ফলে সোনা, রুপা ও প্লাটিনামের দাম একসঙ্গে কমে যায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড ছোঁয়ার পর হঠাৎ বড় ধাক্কা

দীর্ঘমেয়াদে সোনার আকর্ষণ
দাম কিছুটা কমলেও বৈশ্বিক সংঘাত, বিদ্যমান ও সম্ভাব্য নতুন শুল্ক এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সোনার প্রতি আগ্রহ এখনো শক্ত। সোনার সরবরাহ সীমিত হওয়ায় এটি অনিশ্চিত সময়ে কার্যকর বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে অন্যান্য পণ্যের মতো সোনার দামও দ্রুত বাড়ার পাশাপাশি হঠাৎ কমে যেতে পারে।

বাংলাদেশে সোনার দামে বড় পতন
দেশীয় বাজারে শনিবার আবারও সোনার দামে বড় ধস নামে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, একদিনে বাইশ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে পনেরো হাজার সাতশ ছেচল্লিশ টাকা কমে যায়। নতুন দরে বাইশ ক্যারেট সোনা ভরিতে দুই লাখ পঞ্চান্ন হাজার ছয়শ সতেরো টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

একুশ ক্যারেট সোনার দাম এখন দুই লাখ চুয়াল্লিশ হাজার এগারো টাকা, আঠারো ক্যারেটের দাম দুই লাখ নয় হাজার একশ ছত্রিশ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম এক লাখ একাত্তর হাজার আটশ ঊনসত্তর টাকা। ক্রেতাদের পাঁচ শতাংশ ভ্যাটের পাশাপাশি ন্যূনতম ছয় শতাংশ মজুরি দিতে হবে।

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫: সোনা ও রুপার আজকের বাজার দাম

এর আগে জানুয়ারির শেষে টানা দুই দফা কমানোর ফলে মাত্র দুই দিনে স্থানীয় বাজারে সোনার দাম মোট ত্রিশ হাজার তিনশ চুরাশি টাকা কমে যায়। এর আগে জানুয়ারির উনত্রিশ তারিখে দাম বেড়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। দুই হাজার ছাব্বিশ সালে এখন পর্যন্ত সংগঠনটি আঠারোবার সোনার দাম সমন্বয় করেছে, যার মধ্যে তেরোবার বাড়ানো ও পাঁচবার কমানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিহত

বিশ্ব অস্থিরতায় সোনার দামে রেকর্ড, তারপর হঠাৎ পতন কেন

০৬:১৪:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকে পড়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিলতেই হঠাৎ করে দাম কমে যায়, যদিও আগের বছরের তুলনায় এখনো সোনার দাম অনেক বেশি।

সোনার দামে রেকর্ড উত্থানের পেছনের কারণ
সাম্প্রতিক সময়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রথমবারের মতো পাঁচ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং কিছু সময়ের জন্য পাঁচ হাজার পাঁচশ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে। একই সময়ে রুপা ও প্লাটিনামের দামেও বড় ধরনের উত্থান দেখা যায়। বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বাণিজ্য উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের দিকে ঠেলে দেয়।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে রেকর্ড, কেন হঠাৎ উড়ছে সোনার দাম?

ট্রাম্পের নীতিতে বিনিয়োগের দিক বদল
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ ও কড়া বাণিজ্য নীতির কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। তার এই অবস্থান বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে সোনার চাহিদা বাড়িয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কৌশলগত বক্তব্যও বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে।

যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব
ইউক্রেন ও গাজায় চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ সোনার দামে চাপ সৃষ্টি করে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী অবস্থান ডলারের ওপর আস্থা কমিয়ে দেয়, ফলে বিনিয়োগকারীরা মূল্যবান ধাতুর দিকে ঝুঁকে পড়েন।

রেকর্ড উচ্চতা থেকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে হঠাৎ পতন কেন?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বড় ভূমিকা
বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিপুল পরিমাণে সোনা কিনছে, যা দাম বাড়ানোর অন্যতম কারণ। অনেক দেশ মনে করছে, সোনা তাদের যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ভরতা থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেয়। রাশিয়ার ডলারভিত্তিক সম্পদ জব্দের ঘটনাও অনেক দেশের কাছে সোনাকে নিরপেক্ষ রিজার্ভ হিসেবে আকর্ষণীয় করেছে। যদিও দুই হাজার পঁচিশ সালে এই ক্রয়ের গতি কিছুটা কমেছে।

চীন এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় সোনা ক্রেতা। গয়না ও বিনিয়োগ দুই ক্ষেত্রেই তাদের চাহিদা বেশি। পশ্চিমা দেশগুলোর বিনিয়োগকারীরাও সোনা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অর্থ ঢালছেন। নতুন ধরনের বিনিয়োগকারী, যেমন ডিজিটাল মুদ্রা প্রতিষ্ঠানগুলোও সোনার বাজারে প্রভাব ফেলছে।

হঠাৎ দাম কমার কারণ
সাম্প্রতিক উত্থানের পেছনে একটি বড় আশঙ্কা ছিল, ট্রাম্প যদি এমন কাউকে ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন যিনি দ্রুত সুদের হার কমাতে পারেন। এতে ডলার দুর্বল হয়ে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, যা সোনার চাহিদা বাড়ায়। তবে কেভিন ওয়ারশের নাম সামনে আসায় বাজার কিছুটা স্বস্তি পায়। ফলে সোনা, রুপা ও প্লাটিনামের দাম একসঙ্গে কমে যায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড ছোঁয়ার পর হঠাৎ বড় ধাক্কা

দীর্ঘমেয়াদে সোনার আকর্ষণ
দাম কিছুটা কমলেও বৈশ্বিক সংঘাত, বিদ্যমান ও সম্ভাব্য নতুন শুল্ক এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সোনার প্রতি আগ্রহ এখনো শক্ত। সোনার সরবরাহ সীমিত হওয়ায় এটি অনিশ্চিত সময়ে কার্যকর বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে অন্যান্য পণ্যের মতো সোনার দামও দ্রুত বাড়ার পাশাপাশি হঠাৎ কমে যেতে পারে।

বাংলাদেশে সোনার দামে বড় পতন
দেশীয় বাজারে শনিবার আবারও সোনার দামে বড় ধস নামে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, একদিনে বাইশ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে পনেরো হাজার সাতশ ছেচল্লিশ টাকা কমে যায়। নতুন দরে বাইশ ক্যারেট সোনা ভরিতে দুই লাখ পঞ্চান্ন হাজার ছয়শ সতেরো টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

একুশ ক্যারেট সোনার দাম এখন দুই লাখ চুয়াল্লিশ হাজার এগারো টাকা, আঠারো ক্যারেটের দাম দুই লাখ নয় হাজার একশ ছত্রিশ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম এক লাখ একাত্তর হাজার আটশ ঊনসত্তর টাকা। ক্রেতাদের পাঁচ শতাংশ ভ্যাটের পাশাপাশি ন্যূনতম ছয় শতাংশ মজুরি দিতে হবে।

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫: সোনা ও রুপার আজকের বাজার দাম

এর আগে জানুয়ারির শেষে টানা দুই দফা কমানোর ফলে মাত্র দুই দিনে স্থানীয় বাজারে সোনার দাম মোট ত্রিশ হাজার তিনশ চুরাশি টাকা কমে যায়। এর আগে জানুয়ারির উনত্রিশ তারিখে দাম বেড়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। দুই হাজার ছাব্বিশ সালে এখন পর্যন্ত সংগঠনটি আঠারোবার সোনার দাম সমন্বয় করেছে, যার মধ্যে তেরোবার বাড়ানো ও পাঁচবার কমানো হয়েছে।