১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ ঘিরে বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভে চাপে কিংবদন্তি ব্র্যান্ড ইলন মাস্কের রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক, প্রযুক্তির নায়ক নাকি বিভাজনের মুখ? ট্রাম্পের শরণার্থী নীতিতে অগ্রাধিকার আফ্রিকানারদের, বাদ পড়ছেন অন্যরা ম্যানাম্বেরি সেতু: মাদাগাস্কারের ভ্যানিলা অর্থনীতির নীরব জীবনরেখা কানাডার নতুন নাগরিকত্ব আইনে আগ্রহ বাড়ছে মার্কিনদের, আবেদন অনুমোদনে বড় উল্লম্ফন শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন, এশিয়ার নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন বিতর্ক চীনের ‘নতুন সামরিকীকরণ’ অভিযোগ উড়িয়ে দিল জাপান, পাল্টা দ্রুত অস্ত্র সম্প্রসারণের অভিযোগ বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্যাটুশিল্পীদের দীর্ঘ লড়াইয়ের জয়, তিন দশকের নিষেধাজ্ঞার অবসান অকাস জোটের নতুন পদক্ষেপ: সমুদ্রতলের ড্রোন প্রযুক্তি আনছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া ডিজিটাল যুগে ভারতের জনশুমারি: ডাকটিকিট থেকে স্মার্টফোনে দীর্ঘ যাত্রা

রানা প্লাজা ক্ষতিপূরণ নিয়ে নতুন অভিযোগ: বিদেশি অনুদানের টাকা পাচ্ছেন না প্রকৃত ভুক্তভোগীরা

রাজধানীতে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, বিদেশে তাঁদের নাম ব্যবহার করে যে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে, তার বড় অংশই প্রকৃত ভুক্তভোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনার ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক আহত শ্রমিক ও নিহতদের পরিবার আজও চরম দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন।

রানা প্লাজা সারভাইভার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন এবং বিদেশি অনুদান ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতার দাবি জানান।

স্থায়ী যন্ত্রণা ও বেকারত্বের বাস্তবতা
সংগঠনের সভাপতি মাহমুদুল হাসান হৃদয় বলেন, হাজারো আহত শ্রমিক আজও স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা, মানসিক আঘাত ও কর্মহীনতার সঙ্গে লড়াই করছেন। একই সঙ্গে বহু নিহত শ্রমিকের পরিবার এখনো ন্যায্য ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, রানা প্লাজার ভুক্তভোগীরা দয়া চাইছেন না, তাঁরা তাঁদের ন্যায্য, সাংবিধানিক ও মানবিক অধিকার দাবি করছেন।

বিদেশি অনুদান নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, রানা প্লাজার নাম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও সেই প্রক্রিয়ায় কোনো স্বচ্ছ বা ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক ব্যবস্থা নেই। এর ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা অর্থের সুফল পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিকে শ্রমিকদের প্রতি চরম অবিচার বলে উল্লেখ করে সংগঠনটি দাবি জানায়, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের বিদেশি তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হবে।

শ্রমিক আন্দোলন দমন করার অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা শ্রমিকনেত্রী ইয়াসমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে করা মামলাকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে উল্লেখ করেন। তাঁদের দাবি, এই মামলা শ্রমিক আন্দোলনকে চুপ করানোর চেষ্টা। অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।

ভুক্তভোগীর কণ্ঠে ক্ষোভ ও হতাশা
নিজেও রানা প্লাজার একজন বেঁচে যাওয়া শ্রমিক মাহমুদুল হাসান হৃদয় বলেন, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও বিচার দাবিতে কথা বলায় তাঁকে একাধিকবার হামলার শিকার হতে হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি কি অপরাধ?

ধসের দিনের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি জানান, ফাটল দেখা দেওয়ার পরও শ্রমিকদের জোর করে ভবনে ঢুকতে বাধ্য করা হয়েছিল। সেই দিনের ভয়াবহ স্মৃতি এখনো বহু শ্রমিকের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলছে।

সহায়তার অভাবে দুর্বিষহ জীবন
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, যিনি দুর্ঘটনায় একটি হাত হারিয়েছেন, বলেন দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা না থাকায় অনেক আহত শ্রমিক আজ বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নেমেছেন। তাঁর অভিযোগ, কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়াচ্ছেন, অথচ টেকসই পুনর্বাসনের কোনো উদ্যোগ নেই।

আরেক ভুক্তভোগী ওয়াহিদুর রহমান জানান, ধসের মানসিক আঘাত আজও তাঁকে তাড়া করে ফেরে। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি মাত্র ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন, অথচ রানা প্লাজার জন্য সংগৃহীত প্রায় ১২৭ কোটি টাকার তহবিলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।

ছয় দফা দাবি ও সরকারের প্রতি আহ্বান
রানা প্লাজা সারভাইভার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে বিদেশি তহবিলে পূর্ণ স্বচ্ছতা, সব ভুক্তভোগী ও নিহতদের পরিবারের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন, সংগৃহীত অর্থের প্রকাশ্য তদন্ত, ইয়াসমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার এবং তহবিল ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচিতে সরাসরি ভুক্তভোগীদের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে।

সংগঠনটি সরকার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায় এবং গণমাধ্যমকে রানা প্লাজা ভুক্তভোগীদের চলমান সংগ্রাম তুলে ধরার অনুরোধ করে।

বক্তারা বলেন, তেরো বছর পেরিয়ে গেলেও রানা প্লাজার ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের লড়াই এখনো শেষ হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ ঘিরে বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভে চাপে কিংবদন্তি ব্র্যান্ড

রানা প্লাজা ক্ষতিপূরণ নিয়ে নতুন অভিযোগ: বিদেশি অনুদানের টাকা পাচ্ছেন না প্রকৃত ভুক্তভোগীরা

০৬:৩৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীতে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, বিদেশে তাঁদের নাম ব্যবহার করে যে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে, তার বড় অংশই প্রকৃত ভুক্তভোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনার ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক আহত শ্রমিক ও নিহতদের পরিবার আজও চরম দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন।

রানা প্লাজা সারভাইভার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন এবং বিদেশি অনুদান ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতার দাবি জানান।

স্থায়ী যন্ত্রণা ও বেকারত্বের বাস্তবতা
সংগঠনের সভাপতি মাহমুদুল হাসান হৃদয় বলেন, হাজারো আহত শ্রমিক আজও স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা, মানসিক আঘাত ও কর্মহীনতার সঙ্গে লড়াই করছেন। একই সঙ্গে বহু নিহত শ্রমিকের পরিবার এখনো ন্যায্য ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, রানা প্লাজার ভুক্তভোগীরা দয়া চাইছেন না, তাঁরা তাঁদের ন্যায্য, সাংবিধানিক ও মানবিক অধিকার দাবি করছেন।

বিদেশি অনুদান নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, রানা প্লাজার নাম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও সেই প্রক্রিয়ায় কোনো স্বচ্ছ বা ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক ব্যবস্থা নেই। এর ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা অর্থের সুফল পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিকে শ্রমিকদের প্রতি চরম অবিচার বলে উল্লেখ করে সংগঠনটি দাবি জানায়, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের বিদেশি তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হবে।

শ্রমিক আন্দোলন দমন করার অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা শ্রমিকনেত্রী ইয়াসমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে করা মামলাকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে উল্লেখ করেন। তাঁদের দাবি, এই মামলা শ্রমিক আন্দোলনকে চুপ করানোর চেষ্টা। অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।

ভুক্তভোগীর কণ্ঠে ক্ষোভ ও হতাশা
নিজেও রানা প্লাজার একজন বেঁচে যাওয়া শ্রমিক মাহমুদুল হাসান হৃদয় বলেন, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও বিচার দাবিতে কথা বলায় তাঁকে একাধিকবার হামলার শিকার হতে হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি কি অপরাধ?

ধসের দিনের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি জানান, ফাটল দেখা দেওয়ার পরও শ্রমিকদের জোর করে ভবনে ঢুকতে বাধ্য করা হয়েছিল। সেই দিনের ভয়াবহ স্মৃতি এখনো বহু শ্রমিকের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলছে।

সহায়তার অভাবে দুর্বিষহ জীবন
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, যিনি দুর্ঘটনায় একটি হাত হারিয়েছেন, বলেন দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা না থাকায় অনেক আহত শ্রমিক আজ বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নেমেছেন। তাঁর অভিযোগ, কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়াচ্ছেন, অথচ টেকসই পুনর্বাসনের কোনো উদ্যোগ নেই।

আরেক ভুক্তভোগী ওয়াহিদুর রহমান জানান, ধসের মানসিক আঘাত আজও তাঁকে তাড়া করে ফেরে। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি মাত্র ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন, অথচ রানা প্লাজার জন্য সংগৃহীত প্রায় ১২৭ কোটি টাকার তহবিলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।

ছয় দফা দাবি ও সরকারের প্রতি আহ্বান
রানা প্লাজা সারভাইভার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে বিদেশি তহবিলে পূর্ণ স্বচ্ছতা, সব ভুক্তভোগী ও নিহতদের পরিবারের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন, সংগৃহীত অর্থের প্রকাশ্য তদন্ত, ইয়াসমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার এবং তহবিল ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচিতে সরাসরি ভুক্তভোগীদের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে।

সংগঠনটি সরকার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায় এবং গণমাধ্যমকে রানা প্লাজা ভুক্তভোগীদের চলমান সংগ্রাম তুলে ধরার অনুরোধ করে।

বক্তারা বলেন, তেরো বছর পেরিয়ে গেলেও রানা প্লাজার ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের লড়াই এখনো শেষ হয়নি।