থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে তরুণ উদারপন্থীদের উত্থান একসময় যে প্রত্যাশা তৈরি করেছিল, সাম্প্রতিক নির্বাচনী বাস্তবতায় তা স্পষ্টভাবেই ধাক্কা খেয়েছে। জানুয়ারির পঁচিশ তারিখ রাজধানী ব্যাংককে এক অভিজাত বিপণিকেন্দ্রের সামনে সমাবেশে হাজির হন তাঁদের সাবেক নেতা পিটা লিমজারোএনরাত। হাজারো সমর্থকের উচ্ছ্বাসে সেই উপস্থিতি যেন রকতারকার অভ্যর্থনা। কে কোন দিক দিয়ে আসবেন, সেই জল্পনায় মুখর ছিল জনতা। শেষ পর্যন্ত পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী এই নেতার আগমনে করতালি আর স্লোগানে ভরে ওঠে পুরো এলাকা।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, আগামী আট ফেব্রুয়ারি থাইল্যান্ডে নতুন নিম্নকক্ষ নির্বাচনে পিটার নাম ব্যালটে নেই। দুই হাজার তেইশ সালের নির্বাচনে তাঁর মুভ ফরোয়ার্ড দল সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সেনাবাহিনী মনোনীত সিনেট তখন সরকার গঠনের পথ আটকে দেয়। পরের বছর সাংবিধানিক আদালত দলটি ভেঙে দেয় এবং রাজতন্ত্র সমালোচনা নিষিদ্ধকারী কঠোর আইনে সংস্কারের অঙ্গীকারকে সংবিধান লঙ্ঘন বলে ঘোষণা করে পিটাকে দশ বছরের জন্য রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করে।

নতুন দল, পুরোনো প্রত্যাশার বোঝা
মুভ ফরোয়ার্ডের অধিকাংশ নেতা-কর্মী পরে পিপলস পার্টি নামে নতুন রাজনৈতিক ছাতার নিচে জড়ো হন। ব্যাংককের সমাবেশে কমলা রং ও ত্রিভুজ চিহ্নে তাঁদের উপস্থিতি ছিল আগের দলের স্মৃতি জাগানো। তবে আদালতের রায়ের পর রাজতন্ত্র সংশ্লিষ্ট আইন সংস্কারের অবস্থান থেকে সরে আসতে হয়েছে। একই সঙ্গে পিটা কিংবা তাঁর পূর্বসূরি থানাথর্ন জুয়াংরুংরুয়াংকিতের মতো তারকা নেতৃত্বও নেই। নিষেধাজ্ঞার আগে যেখানে প্রায় অর্ধেক ভোটার পিটাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পছন্দ করতেন, সেখানে নতুন নেতার পক্ষে সেই সমর্থন নেমে এসেছে এক চতুর্থাংশে।
নির্বাচনে দাঁড়াতে না পারলেও পিটা ও থানাথর্নকে শেষ দুই সপ্তাহ জোরালো প্রচারণায় নামতে বলেছে পিপলস পার্টি। আশা করা হচ্ছে, তাঁদের উপস্থিতি নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিতে পারে। বিশেষ করে দুই হাজার তেরোর পর এই প্রথম সিনেট প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ভূমিকা রাখবে না—এই সুযোগকেই ভরসা করছে দলটি।

ভোটের অঙ্ক আর জরিপের চাপ
তবু জনমত জরিপে পিপলস পার্টির অবস্থান দুর্বল। নির্বাচনী কাঠামোই তাদের জন্য বড় বাধা। চারশ আসন সরাসরি ভোটে আর একশ আসন আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্ধারিত হবে। দুই হাজার তেইশ সালে মুভ ফরোয়ার্ড আনুপাতিক ভোটের বড় অংশ পেলেও সরাসরি আসনে পিছিয়ে ছিল। এবার নির্ভরযোগ্য জরিপে দেখা যাচ্ছে, পিপলস পার্টির আনুপাতিক সমর্থন কমে প্রায় ত্রিশ শতাংশে। সরাসরি আসনে পরিস্থিতি আরও কঠিন, কারণ তারা পুরোনো ধারার ভোট কেনাবেচায় যেতে রাজি নয়।
এর বিপরীতে গতি পাচ্ছেন নির্মাণ ব্যবসায়ী অনুতিন চার্নভিরাকুল ও তাঁর থাই প্রাইড পার্টি। দুই হাজার পঁচিশ সালের সেপ্টেম্বরে সংখ্যালঘু সরকারপ্রধান হওয়ার পর তিনি জনতুষ্টিমূলক অর্থনৈতিক নীতি, রাজতন্ত্র ও সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থন একসঙ্গে জুড়ে দেন। দুই হাজার তেইশ সালে যেখানে দলটি সামান্য ভোট পেয়েছিল, সাম্প্রতিক জরিপে তাদের সমর্থন বেড়ে প্রায় এক চতুর্থাংশে পৌঁছেছে। ডিসেম্বরে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতও সেনাবাহিনীর পক্ষে জনসমর্থন বাড়িয়েছে।

প্রতিষ্ঠানপন্থী মুখ হিসেবে অনুতিনের স্বচ্ছন্দ ভঙ্গি আগের কড়া সামরিক নেতাদের চেয়ে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে। তবু পিপলস পার্টিকে এখনই শেষ করে দেওয়া যাচ্ছে না। দুই হাজার তেইশ সালেও শেষ মুহূর্তে জোয়ার এসেছিল। পিটা আবার মাঠে নামায় তারা চাইছে, বিদ্যুৎ যেন দ্বিতীয়বার আঘাত হানে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















