০৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
আফ্রিকাজুড়ে বিক্ষোভের ঢেউ: ক্ষোভ, স্বপ্ন আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নির্মম সরকার সরাতে হবে, পরিবর্তনের ঝড় বইছে বাংলায় হোয়াইট হাউসে বিলাসী বলরুম ঘিরে বিতর্ক: ক্ষমতা, রাজনীতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি চট্টগ্রামে শপিং কমপ্লেক্সে আগুন, এক ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি টরন্টোর তরুণদের নতুন ভাষা: বহুসংস্কৃতির মিশেলে তৈরি ‘ম্যান্স’ স্ল্যাংয়ের উত্থান মালাউইয়ে হাতির তাণ্ডব: সংরক্ষণ উদ্যোগেই বাড়ছে প্রাণঘাতী সংঘাতের প্রশ্ন তেলের জোয়ারে বদলে যাচ্ছে গায়ানা, দ্রুততম অর্থনৈতিক উত্থানের আড়ালে নতুন শঙ্কা ডেমোক্র্যাটদের ভেতরে চার শিবিরের দ্বন্দ্ব: বিভাজনের রাজনীতিতে নেতৃত্বের খোঁজে নতুন সমীকরণ লাস ভেগাসে জুয়ার নতুন যুগ: অনলাইন বেটিংয়ের বিস্তারে বদলে যাচ্ছে ‘সিন সিটি’র ভবিষ্যৎ সিলেটে মসজিদের নাম নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, প্রাণ গেল এক ব্যক্তির

জাপানের চিড়িয়াখানায় নীরবতা, হারিয়ে গেল পঞ্চাশ বছরের প্রতীক

টোকিওর উএনো চিড়িয়াখানায় জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছে জাপান। বিদায় জানানো হয়েছে যমজ পান্ডা শাও শাও ও লেই লেইকে। চোখের জল নিয়ে শেষবারের মতো প্রিয় পান্ডাদের দেখার সুযোগ পেতে আবেদন করেছিলেন এক লাখেরও বেশি মানুষ। জায়গা পেয়েছিলেন হাতে গোনা কয়েক হাজার। তবু অনেকে বাইরে দাঁড়িয়ে পতাকা নেড়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, ধন্যবাদ শাও শাও, ধন্যবাদ লেই লেই লেখা বার্তায় ভরে উঠেছিল চিড়িয়াখানার প্রবেশপথ।

পঞ্চান্ন বছরে প্রথমবার পান্ডাহীন জাপান

এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে জাপান এক ঐতিহাসিক শূন্যতার মুখে পড়েছে। পঞ্চান্ন বছরের মধ্যে এই প্রথম দেশটিতে আর কোনো পান্ডা রইল না। যে দেশে পান্ডা কেবল একটি প্রাণী নয়, বরং জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ, সেখানে এই অনুপস্থিতি সহজে এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। উএনো চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা বলছেন, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে পান্ডাই ছিল এই চিড়িয়াখানার মুখ।

কূটনীতির প্রতীক থেকে সম্পর্কের শীতলতা

জাপানে পান্ডা আসার ইতিহাস কূটনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উনিশ শতকের সত্তরের দশকের শুরুতে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর প্রথম পান্ডা জাপানে আসে। তখন থেকেই শুরু হয় পান্ডা উন্মাদনা। বছরের পর বছর ধরে জাপানের নানা চিড়িয়াখানায় থেকেছে এই কালো সাদা অতিথিরা। তবে শাও শাও ও লেই লেইয়ের বিদায় শুধু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার গল্প নয়, এর পেছনে রয়েছে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্পর্ক ভালো থাকলে বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই নতুন পান্ডা পাঠানো যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ান ইস্যু ঘিরে জাপানের কড়া অবস্থান চীনের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছে। এর জেরে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক উত্তেজনাও দেখা গেছে। সেই বাস্তবতায় পান্ডা কূটনীতি কার্যত থমকে আছে।

জনপ্রিয়তা থাকলেও চীনের প্রতি আস্থা কম

জাপানের সাধারণ মানুষের আবেগও এখানে দ্বিধাবিভক্ত। পান্ডার প্রতি ভালোবাসা অটুট থাকলেও চীনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বেশ কঠোর। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বিপুল সংখ্যক জাপানি নাগরিক চীন সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। উএনো চিড়িয়াখানায় আসা এক দর্শনার্থী বলছেন, পান্ডাকে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন, কিন্তু চীন তাকে ভয় পাইয়ে দেয়।

ফাঁকা ঘরেও স্মৃতির যত্ন

এই মুহূর্তে উএনো চিড়িয়াখানার পান্ডা ঘরটি ফাঁকা। তবু রক্ষীরা স্মৃতি ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। শাও শাও ও লেই লেইয়ের পায়ের ছাপ, তাদের ব্যবহৃত কিছু চিহ্ন রেখে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে অতীতের সেই অধ্যায়। কবে আবার পান্ডা ফিরবে, আদৌ ফিরবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, জাপানের মানুষের হৃদয়ে পান্ডাদের জন্য যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

আফ্রিকাজুড়ে বিক্ষোভের ঢেউ: ক্ষোভ, স্বপ্ন আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

জাপানের চিড়িয়াখানায় নীরবতা, হারিয়ে গেল পঞ্চাশ বছরের প্রতীক

০৩:০২:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

টোকিওর উএনো চিড়িয়াখানায় জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছে জাপান। বিদায় জানানো হয়েছে যমজ পান্ডা শাও শাও ও লেই লেইকে। চোখের জল নিয়ে শেষবারের মতো প্রিয় পান্ডাদের দেখার সুযোগ পেতে আবেদন করেছিলেন এক লাখেরও বেশি মানুষ। জায়গা পেয়েছিলেন হাতে গোনা কয়েক হাজার। তবু অনেকে বাইরে দাঁড়িয়ে পতাকা নেড়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, ধন্যবাদ শাও শাও, ধন্যবাদ লেই লেই লেখা বার্তায় ভরে উঠেছিল চিড়িয়াখানার প্রবেশপথ।

পঞ্চান্ন বছরে প্রথমবার পান্ডাহীন জাপান

এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে জাপান এক ঐতিহাসিক শূন্যতার মুখে পড়েছে। পঞ্চান্ন বছরের মধ্যে এই প্রথম দেশটিতে আর কোনো পান্ডা রইল না। যে দেশে পান্ডা কেবল একটি প্রাণী নয়, বরং জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ, সেখানে এই অনুপস্থিতি সহজে এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। উএনো চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা বলছেন, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে পান্ডাই ছিল এই চিড়িয়াখানার মুখ।

কূটনীতির প্রতীক থেকে সম্পর্কের শীতলতা

জাপানে পান্ডা আসার ইতিহাস কূটনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উনিশ শতকের সত্তরের দশকের শুরুতে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর প্রথম পান্ডা জাপানে আসে। তখন থেকেই শুরু হয় পান্ডা উন্মাদনা। বছরের পর বছর ধরে জাপানের নানা চিড়িয়াখানায় থেকেছে এই কালো সাদা অতিথিরা। তবে শাও শাও ও লেই লেইয়ের বিদায় শুধু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার গল্প নয়, এর পেছনে রয়েছে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্পর্ক ভালো থাকলে বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই নতুন পান্ডা পাঠানো যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ান ইস্যু ঘিরে জাপানের কড়া অবস্থান চীনের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছে। এর জেরে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক উত্তেজনাও দেখা গেছে। সেই বাস্তবতায় পান্ডা কূটনীতি কার্যত থমকে আছে।

জনপ্রিয়তা থাকলেও চীনের প্রতি আস্থা কম

জাপানের সাধারণ মানুষের আবেগও এখানে দ্বিধাবিভক্ত। পান্ডার প্রতি ভালোবাসা অটুট থাকলেও চীনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বেশ কঠোর। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বিপুল সংখ্যক জাপানি নাগরিক চীন সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। উএনো চিড়িয়াখানায় আসা এক দর্শনার্থী বলছেন, পান্ডাকে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন, কিন্তু চীন তাকে ভয় পাইয়ে দেয়।

ফাঁকা ঘরেও স্মৃতির যত্ন

এই মুহূর্তে উএনো চিড়িয়াখানার পান্ডা ঘরটি ফাঁকা। তবু রক্ষীরা স্মৃতি ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। শাও শাও ও লেই লেইয়ের পায়ের ছাপ, তাদের ব্যবহৃত কিছু চিহ্ন রেখে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে অতীতের সেই অধ্যায়। কবে আবার পান্ডা ফিরবে, আদৌ ফিরবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, জাপানের মানুষের হৃদয়ে পান্ডাদের জন্য যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।