০৫:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
আফ্রিকাজুড়ে বিক্ষোভের ঢেউ: ক্ষোভ, স্বপ্ন আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নির্মম সরকার সরাতে হবে, পরিবর্তনের ঝড় বইছে বাংলায় হোয়াইট হাউসে বিলাসী বলরুম ঘিরে বিতর্ক: ক্ষমতা, রাজনীতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি চট্টগ্রামে শপিং কমপ্লেক্সে আগুন, এক ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি টরন্টোর তরুণদের নতুন ভাষা: বহুসংস্কৃতির মিশেলে তৈরি ‘ম্যান্স’ স্ল্যাংয়ের উত্থান মালাউইয়ে হাতির তাণ্ডব: সংরক্ষণ উদ্যোগেই বাড়ছে প্রাণঘাতী সংঘাতের প্রশ্ন তেলের জোয়ারে বদলে যাচ্ছে গায়ানা, দ্রুততম অর্থনৈতিক উত্থানের আড়ালে নতুন শঙ্কা ডেমোক্র্যাটদের ভেতরে চার শিবিরের দ্বন্দ্ব: বিভাজনের রাজনীতিতে নেতৃত্বের খোঁজে নতুন সমীকরণ লাস ভেগাসে জুয়ার নতুন যুগ: অনলাইন বেটিংয়ের বিস্তারে বদলে যাচ্ছে ‘সিন সিটি’র ভবিষ্যৎ সিলেটে মসজিদের নাম নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, প্রাণ গেল এক ব্যক্তির

ঘুম ভাঙছে আফ্রিকার দুই দৈত্য, ২০২৬ সালে এশিয়াকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত

আফ্রিকার অর্থনীতির দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতার ভেতর আশার আলো জ্বলতে শুরু করেছে। সাব সাহারান আফ্রিকার দুই বৃহত্তম অর্থনীতি নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত এক দশকে দুই দেশেই মানুষের গড় আয় বাস্তবে কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে গোটা মহাদেশে। সেই প্রেক্ষাপটে এই জাগরণ আফ্রিকার ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার নীতিগত মোড়

দক্ষিণ আফ্রিকায় সতর্ক আর্থিক নীতির ফলে মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে দীর্ঘ দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বহু বছর পর দেশটির সার্বভৌম ঋণমান উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতা খুলে দেওয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগ বেড়েছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি কমায় শিল্পকারখানায় উৎপাদনের গতি ফিরছে, যা ব্যবসায়ীদের আস্থা জোরদার করছে।

নাইজেরিয়ার কাঠামোগত বদল

নাইজেরিয়ায় বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করা একাধিক সরকারি বিনিময় হার তুলে দিয়ে বাজারভিত্তিক মুদ্রা ব্যবস্থায় অগ্রগতি হয়েছে। জ্বালানি ভর্তুকি বন্ধ হওয়ায় বাজেটের চাপ কমেছে এবং পরিবেশগত ক্ষতিও হ্রাস পাচ্ছে। নাইজার বদ্বীপে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনায় তেল উৎপাদন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

মহাদেশজুড়ে আশাবাদ, তবে সতর্কতা জরুরি

আফ্রিকার ছোট অর্থনীতিগুলো আগেই দ্রুত বেড়েছে। এবার যদি বড় অর্থনীতিগুলিও গতি পায় এবং খনিজের চাহিদা শক্ত থাকে, তবে কঙ্গো, গিনি ও জাম্বিয়ার মতো দেশেও উৎপাদন বাড়বে। আন্তর্জাতিক আর্থিক পূর্বাভাস বলছে, ২০২৬ সালে আফ্রিকার মোট দেশজ উৎপাদনের বৃদ্ধি এশিয়াকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। তবু বাস্তবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়।

সংস্কারের গভীরতা বাড়ানোর চাপ

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদ্যুৎ খাতে সাফল্যের পর পরিবহন ও পানির মতো খাতে সংস্কার বাড়াতে হবে। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার উদ্যোগে নেওয়া অপারেশন ভুলিনদেলার সাফল্য অন্য খাতেও ছড়ানো জরুরি। সংগঠিত অপরাধ দমন, বিনিয়োগবান্ধব আইন এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির দাবিও জোরালো।

নাইজেরিয়ার সামনে চ্যালেঞ্জ আরও বড়। অপচয় কমিয়ে শিক্ষা ও অবকাঠামোতে ব্যয় বাড়াতে হবে। নতুন করব্যবস্থা বাস্তবায়নে সমতা ও ধারাবাহিকতা দরকার। তেলনির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখীকরণ না হলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতি আসবে না।

সামাজিক চাপ ও রাজনৈতিক ঝুঁকি

দক্ষিণ আফ্রিকায় বেকারত্ব বিশ্বের সর্বোচ্চের কাতারে। নাইজেরিয়ায় দৈনিক ন্যূনতম আয়ে জীবনযাপনকারীর সংখ্যা বিপুল। দ্রুত প্রবৃদ্ধি এ সমস্যাগুলো সমাধান সহজ করতে পারে। তবে আসন্ন নির্বাচন ও জোট রাজনীতির টানাপোড়েন সংস্কারের গতি থামিয়ে দিতে পারে।

আফ্রিকার ঘুমন্ত দুই দৈত্য জাগতে শুরু করেছে। এখনই ঢিলেমির সময় নয়। ধারাবাহিক সংস্কার আর রাজনৈতিক দৃঢ়তাই নির্ধারণ করবে এই জাগরণ স্থায়ী হবে কি না।

জনপ্রিয় সংবাদ

আফ্রিকাজুড়ে বিক্ষোভের ঢেউ: ক্ষোভ, স্বপ্ন আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

ঘুম ভাঙছে আফ্রিকার দুই দৈত্য, ২০২৬ সালে এশিয়াকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত

০২:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

আফ্রিকার অর্থনীতির দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতার ভেতর আশার আলো জ্বলতে শুরু করেছে। সাব সাহারান আফ্রিকার দুই বৃহত্তম অর্থনীতি নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত এক দশকে দুই দেশেই মানুষের গড় আয় বাস্তবে কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে গোটা মহাদেশে। সেই প্রেক্ষাপটে এই জাগরণ আফ্রিকার ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার নীতিগত মোড়

দক্ষিণ আফ্রিকায় সতর্ক আর্থিক নীতির ফলে মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে দীর্ঘ দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বহু বছর পর দেশটির সার্বভৌম ঋণমান উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতা খুলে দেওয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগ বেড়েছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি কমায় শিল্পকারখানায় উৎপাদনের গতি ফিরছে, যা ব্যবসায়ীদের আস্থা জোরদার করছে।

নাইজেরিয়ার কাঠামোগত বদল

নাইজেরিয়ায় বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করা একাধিক সরকারি বিনিময় হার তুলে দিয়ে বাজারভিত্তিক মুদ্রা ব্যবস্থায় অগ্রগতি হয়েছে। জ্বালানি ভর্তুকি বন্ধ হওয়ায় বাজেটের চাপ কমেছে এবং পরিবেশগত ক্ষতিও হ্রাস পাচ্ছে। নাইজার বদ্বীপে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনায় তেল উৎপাদন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

মহাদেশজুড়ে আশাবাদ, তবে সতর্কতা জরুরি

আফ্রিকার ছোট অর্থনীতিগুলো আগেই দ্রুত বেড়েছে। এবার যদি বড় অর্থনীতিগুলিও গতি পায় এবং খনিজের চাহিদা শক্ত থাকে, তবে কঙ্গো, গিনি ও জাম্বিয়ার মতো দেশেও উৎপাদন বাড়বে। আন্তর্জাতিক আর্থিক পূর্বাভাস বলছে, ২০২৬ সালে আফ্রিকার মোট দেশজ উৎপাদনের বৃদ্ধি এশিয়াকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। তবু বাস্তবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়।

সংস্কারের গভীরতা বাড়ানোর চাপ

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদ্যুৎ খাতে সাফল্যের পর পরিবহন ও পানির মতো খাতে সংস্কার বাড়াতে হবে। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার উদ্যোগে নেওয়া অপারেশন ভুলিনদেলার সাফল্য অন্য খাতেও ছড়ানো জরুরি। সংগঠিত অপরাধ দমন, বিনিয়োগবান্ধব আইন এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির দাবিও জোরালো।

নাইজেরিয়ার সামনে চ্যালেঞ্জ আরও বড়। অপচয় কমিয়ে শিক্ষা ও অবকাঠামোতে ব্যয় বাড়াতে হবে। নতুন করব্যবস্থা বাস্তবায়নে সমতা ও ধারাবাহিকতা দরকার। তেলনির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখীকরণ না হলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতি আসবে না।

সামাজিক চাপ ও রাজনৈতিক ঝুঁকি

দক্ষিণ আফ্রিকায় বেকারত্ব বিশ্বের সর্বোচ্চের কাতারে। নাইজেরিয়ায় দৈনিক ন্যূনতম আয়ে জীবনযাপনকারীর সংখ্যা বিপুল। দ্রুত প্রবৃদ্ধি এ সমস্যাগুলো সমাধান সহজ করতে পারে। তবে আসন্ন নির্বাচন ও জোট রাজনীতির টানাপোড়েন সংস্কারের গতি থামিয়ে দিতে পারে।

আফ্রিকার ঘুমন্ত দুই দৈত্য জাগতে শুরু করেছে। এখনই ঢিলেমির সময় নয়। ধারাবাহিক সংস্কার আর রাজনৈতিক দৃঢ়তাই নির্ধারণ করবে এই জাগরণ স্থায়ী হবে কি না।