নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। লাঠি মিছিল, গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে এসেছে।
লাঠি মিছিল ও গাড়িতে হামলার অভিযোগ
শুক্রবার রাতের দিকে হাতিয়ার ওছখালী শহরে জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক এবং নোয়াখালী-৬ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের নেতৃত্বে একটি লাঠি মিছিল বের করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই মিছিল চলাকালে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও একই আসনের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীমের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর

একই দিনে তমরুদ্দি ইউনিয়নের তালতলা এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। দলটির দাবি, এ ঘটনায় তাদের এক কর্মী আহত হয়েছেন।
এনসিপির প্রার্থীর বক্তব্য
আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক এক চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির প্রার্থী তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছেন। তার দাবি, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বিএনপির পাল্টা অভিযোগ
বিএনপির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা বিএনপির সদস্য মো. আলাউদ্দিন রনি বলেন, হাতিয়ায় আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। তার অভিযোগ, ফেরিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের নিয়ে লাঠি মিছিল বের করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ওই মিছিল থেকেই তাদের প্রার্থীর গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়।

পুলিশের অবস্থান
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলম জানান, প্রার্থীর গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনার খবর তারা পেয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
আগের সংঘর্ষের প্রেক্ষাপট
এর আগে শুক্রবার দুপুরে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে ফেরি উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে আবদুল হান্নান মাসউদের সমর্থক ও মাহবুবুর রহমান শামীমের নেতাকর্মীদের মধ্যে একাধিক দফায় সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত দশজন আহত হন। পরে এই উত্তেজনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















