০৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
কৃষিতে সংস্কারের দ্বারপ্রান্তে ভারত, তৃতীয়বার কি সফল হবেন মোদি থাইল্যান্ডের ভোটের ময়দানে থমকে যাওয়া তরুণ উদারপন্থা প্রস্তাবিত গণভোট বাংলাদেশকে ইসলামিক রাষ্ট্রের পথে ঠেলে দিতে পারে: ব্রিটিশ এমপি বব ব্ল্যাকম্যান লোহার নারী হতে চান তাকাইচি: আকস্মিক নির্বাচনে বাজি জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর ঘুম ভাঙছে আফ্রিকার দুই দৈত্য, ২০২৬ সালে এশিয়াকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত পে স্কেলের দাবিতে আন্দোলনকারীদের নতুন সংগঠন এআই বিপ্লবে আতঙ্ক নয়, প্রস্তুতির সময় এখন বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস, দুই দিনে কমেছে ৮০ হাজার টাকার বেশি কুর্দিদের রাষ্ট্রে একীভূত করার ঐতিহাসিক চুক্তি, সিরিয়ায় নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় সানা থেকে ত্রাণপথ সংকটে, জাতিসংঘের সরঞ্জাম জব্দ হুথিদের, ইয়েমেনে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

খুলনায় ২৩টি পাটকল রোববার থেকে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত

খুলনা অঞ্চলের ২৩টি বেসরকারি পাটকল রোববার থেকে উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কাঁচা পাটের তীব্র সংকটের কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মিলমালিকেরা।

কাঁচা পাট সংকটের পেছনের কারণ

মিলমালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জে অতিবৃষ্টির কারণে চলতি মৌসুমে পাটের ফলন আশানুরূপ হয়নি। মে ও জুন মাসে টানা বৃষ্টিতে পাট চাষ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে উৎপাদনে।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও সরবরাহ পরিস্থিতি

দেশীয় পাটকলগুলোকে সুরক্ষা দিতে সরকার গত ৮ সেপ্টেম্বর পাট রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে পাটকল মালিকদের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা কাঁচা পাটের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং বাজারে পাটের সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

সাইরেনের অপেক্ষায় খুলনার পাটকল শ্রমিকরা

পাটকল মালিক সমিতির বক্তব্য

পাটকল মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, কাঁচা পাটের অপ্রতুলতা ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্বাভাবিক উৎপাদন চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে রোববার থেকে খুলনা অঞ্চলের ২৩টি পাটকলের উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মৌসুম শুরু হলেও বাজারে পাট আসেনি

১ জুলাই থেকে পাট মৌসুম শুরু হলেও দৌলতপুর, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জের মতো বড় বাজারগুলোতে প্রত্যাশিত পরিমাণ কাঁচা পাট আসেনি। এর মধ্যেই ভারত নিজেদের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় পাট রপ্তানি বন্ধ করায় খুলনাভিত্তিক রপ্তানিকারকেরা আরও চাপে পড়েছেন।

মজুতদারি ও মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ

সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী স্থানীয় বাজারে অবৈধভাবে পাট মজুত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রপ্তানির পথ বন্ধ থাকায় চুকনগর, কাপিলমুনি, তেরখাদা, ঝাউডাঙ্গা, তালা, কলারোয়া ও পারুলিয়া বাজারে পাটের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যায়। এতে মিলগুলোর পক্ষে কাঁচা পাট সংগ্রহ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

যেসব পাটকল উৎপাদন বন্ধ করবে

উৎপাদন বন্ধের তালিকায় রয়েছে দৌলতপুর জুট মিল, খালিশপুর জুট মিল, স্টার জুট মিল, সাগর জুট, জুট টেক্সটাইল, জয় জুট, হাবিব অ্যাগ্রো জুট, আয়ান জুট, যশোর জুট, নোমানী জুট, ওহাব জুট, ফারুক জুট, ওয়েব জুট, সুপার জুট, এফআর জুট, কোয়ালিটি জুট ও ইয়াসিন জুটসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

সরকারকে চিঠি ও বাজার পরিস্থিতি

সরকারকে পাঠানো এক চিঠিতে পাটকল মালিক সমিতি জানিয়েছে, কাঁচামালের অভাব মিলগুলোর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের প্ররোচিত অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

Quality jute seed secured; spinners warn of crisis from hoarding and export  pressures

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক বলেন, মজুতদাররাই এখন বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। রপ্তানিকারকদের কারসাজিতে পাটের দাম আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

দামের হালনাগাদ তথ্য

খুলনার পাট অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার জানান, দক্ষিণাঞ্চলের বাজারে বর্তমানে কাঁচা পাটের দাম মণপ্রতি ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে। বুধবার প্রতি মণে প্রায় ২০০ টাকা কমলেও দাম এখনও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরেনি। তিনি আরও জানান, বছরের এই সময়ে সাধারণত কৃষকদের ঘরে পাটের মজুত থাকে না।

রপ্তানির স্থবিরতা

এদিকে মংলা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার লোপা সাহা ২০ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো এক চিঠিতে জানান, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মংলা বন্দর দিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পাট রপ্তানি হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষিতে সংস্কারের দ্বারপ্রান্তে ভারত, তৃতীয়বার কি সফল হবেন মোদি

খুলনায় ২৩টি পাটকল রোববার থেকে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত

০১:১৯:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

খুলনা অঞ্চলের ২৩টি বেসরকারি পাটকল রোববার থেকে উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কাঁচা পাটের তীব্র সংকটের কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মিলমালিকেরা।

কাঁচা পাট সংকটের পেছনের কারণ

মিলমালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জে অতিবৃষ্টির কারণে চলতি মৌসুমে পাটের ফলন আশানুরূপ হয়নি। মে ও জুন মাসে টানা বৃষ্টিতে পাট চাষ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে উৎপাদনে।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও সরবরাহ পরিস্থিতি

দেশীয় পাটকলগুলোকে সুরক্ষা দিতে সরকার গত ৮ সেপ্টেম্বর পাট রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে পাটকল মালিকদের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা কাঁচা পাটের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং বাজারে পাটের সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

সাইরেনের অপেক্ষায় খুলনার পাটকল শ্রমিকরা

পাটকল মালিক সমিতির বক্তব্য

পাটকল মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, কাঁচা পাটের অপ্রতুলতা ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্বাভাবিক উৎপাদন চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে রোববার থেকে খুলনা অঞ্চলের ২৩টি পাটকলের উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মৌসুম শুরু হলেও বাজারে পাট আসেনি

১ জুলাই থেকে পাট মৌসুম শুরু হলেও দৌলতপুর, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জের মতো বড় বাজারগুলোতে প্রত্যাশিত পরিমাণ কাঁচা পাট আসেনি। এর মধ্যেই ভারত নিজেদের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় পাট রপ্তানি বন্ধ করায় খুলনাভিত্তিক রপ্তানিকারকেরা আরও চাপে পড়েছেন।

মজুতদারি ও মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ

সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী স্থানীয় বাজারে অবৈধভাবে পাট মজুত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রপ্তানির পথ বন্ধ থাকায় চুকনগর, কাপিলমুনি, তেরখাদা, ঝাউডাঙ্গা, তালা, কলারোয়া ও পারুলিয়া বাজারে পাটের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যায়। এতে মিলগুলোর পক্ষে কাঁচা পাট সংগ্রহ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

যেসব পাটকল উৎপাদন বন্ধ করবে

উৎপাদন বন্ধের তালিকায় রয়েছে দৌলতপুর জুট মিল, খালিশপুর জুট মিল, স্টার জুট মিল, সাগর জুট, জুট টেক্সটাইল, জয় জুট, হাবিব অ্যাগ্রো জুট, আয়ান জুট, যশোর জুট, নোমানী জুট, ওহাব জুট, ফারুক জুট, ওয়েব জুট, সুপার জুট, এফআর জুট, কোয়ালিটি জুট ও ইয়াসিন জুটসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

সরকারকে চিঠি ও বাজার পরিস্থিতি

সরকারকে পাঠানো এক চিঠিতে পাটকল মালিক সমিতি জানিয়েছে, কাঁচামালের অভাব মিলগুলোর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের প্ররোচিত অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

Quality jute seed secured; spinners warn of crisis from hoarding and export  pressures

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক বলেন, মজুতদাররাই এখন বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। রপ্তানিকারকদের কারসাজিতে পাটের দাম আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

দামের হালনাগাদ তথ্য

খুলনার পাট অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার জানান, দক্ষিণাঞ্চলের বাজারে বর্তমানে কাঁচা পাটের দাম মণপ্রতি ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে। বুধবার প্রতি মণে প্রায় ২০০ টাকা কমলেও দাম এখনও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরেনি। তিনি আরও জানান, বছরের এই সময়ে সাধারণত কৃষকদের ঘরে পাটের মজুত থাকে না।

রপ্তানির স্থবিরতা

এদিকে মংলা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার লোপা সাহা ২০ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো এক চিঠিতে জানান, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মংলা বন্দর দিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পাট রপ্তানি হয়নি।