০৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
দক্ষিণ আফ্রিকার কূটনৈতিক কড়া বার্তা: ইসরায়েলের শীর্ষ কূটনীতিক বহিষ্কার রাফাহ সীমান্ত আংশিক খুলছে, গাজার মানবিক সংকট ঘোচাতে আন্তর্জাতিক তৎপরতার আহ্বান সৌদি-আমিরাত ভ্রাতৃত্ব অটুট, সামাজিক মাধ্যমে গুজব এড়িয়ে চলার আহ্বান তাইওয়ান প্রশ্নে ঝুঁকির রাজনীতি, সি চিনপিংয়ের সঙ্গে সংলাপে যেতে চান কেএমটির নতুন নেত্রী জাপানের চিড়িয়াখানায় নীরবতা, হারিয়ে গেল পঞ্চাশ বছরের প্রতীক কৃষিতে সংস্কারের দ্বারপ্রান্তে ভারত, তৃতীয়বার কি সফল হবেন মোদি থাইল্যান্ডের ভোটের ময়দানে থমকে যাওয়া তরুণ উদারপন্থা প্রস্তাবিত গণভোট বাংলাদেশকে ইসলামিক রাষ্ট্রের পথে ঠেলে দিতে পারে: ব্রিটিশ এমপি বব ব্ল্যাকম্যান লোহার নারী হতে চান তাকাইচি: আকস্মিক নির্বাচনে বাজি জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর ঘুম ভাঙছে আফ্রিকার দুই দৈত্য, ২০২৬ সালে এশিয়াকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত

কুর্দিদের রাষ্ট্রে একীভূত করার ঐতিহাসিক চুক্তি, সিরিয়ায় নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়

শুক্রবার দামেস্কে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ ও উত্তরাঞ্চলের কুর্দি যোদ্ধাদের মধ্যে একটি যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে কুর্দিদের সামরিক ও বেসামরিক কাঠামোকে ধাপে ধাপে সিরীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত, নিয়ন্ত্রণ ও অনিশ্চয়তার পর এই সমঝোতাকে সিরিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি বড় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চুক্তির পটভূমি ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি

গত কয়েক সপ্তাহে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা সরকারি বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে। এই অঞ্চলগুলো তারা বছরের পর বছর ধরে দখলে রেখেছিল, বিশেষ করে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে। সে সময় আন্তর্জাতিক শক্তির কাছে তারা গুরুত্বপূর্ণ মিত্রে পরিণত হলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দামেস্কের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে ওঠে এবং মধ্যস্থতার পথ প্রশস্ত হয়।

কী আছে চুক্তির ভেতরে

চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো দেশের ভৌগোলিক ঐক্য নিশ্চিত করা এবং কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলকে সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা। এর আওতায় সামরিক বাহিনীকে সম্মুখসারির অবস্থান থেকে সরে যেতে হবে এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি শহরে শুধু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। কুর্দি বাহিনীর কয়েকটি ব্রিগেডকে জাতীয় সেনাবাহিনীতে যুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে, পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত হলেও বিদ্যমান বেসামরিক কর্মীরা তাদের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।

রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক রূপান্তর

সরকারি ভাষ্যে জানানো হয়েছে, দেশের সব বেসামরিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সীমান্তপথের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে আসবে। এর মাধ্যমে কোনো অঞ্চলই আর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবে না। এই ঘোষণা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে যুদ্ধপরবর্তী সিরিয়ায় কর্তৃত্বের কাঠামো নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এই সমঝোতাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, এটি অন্তর্ভুক্তি, পারস্পরিক সম্মান ও সব সম্প্রদায়ের মর্যাদার প্রতি সম্মিলিত অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ আফ্রিকার কূটনৈতিক কড়া বার্তা: ইসরায়েলের শীর্ষ কূটনীতিক বহিষ্কার

কুর্দিদের রাষ্ট্রে একীভূত করার ঐতিহাসিক চুক্তি, সিরিয়ায় নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়

০২:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

শুক্রবার দামেস্কে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ ও উত্তরাঞ্চলের কুর্দি যোদ্ধাদের মধ্যে একটি যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে কুর্দিদের সামরিক ও বেসামরিক কাঠামোকে ধাপে ধাপে সিরীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত, নিয়ন্ত্রণ ও অনিশ্চয়তার পর এই সমঝোতাকে সিরিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি বড় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চুক্তির পটভূমি ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি

গত কয়েক সপ্তাহে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা সরকারি বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে। এই অঞ্চলগুলো তারা বছরের পর বছর ধরে দখলে রেখেছিল, বিশেষ করে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে। সে সময় আন্তর্জাতিক শক্তির কাছে তারা গুরুত্বপূর্ণ মিত্রে পরিণত হলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দামেস্কের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে ওঠে এবং মধ্যস্থতার পথ প্রশস্ত হয়।

কী আছে চুক্তির ভেতরে

চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো দেশের ভৌগোলিক ঐক্য নিশ্চিত করা এবং কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলকে সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা। এর আওতায় সামরিক বাহিনীকে সম্মুখসারির অবস্থান থেকে সরে যেতে হবে এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি শহরে শুধু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। কুর্দি বাহিনীর কয়েকটি ব্রিগেডকে জাতীয় সেনাবাহিনীতে যুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে, পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত হলেও বিদ্যমান বেসামরিক কর্মীরা তাদের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।

রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক রূপান্তর

সরকারি ভাষ্যে জানানো হয়েছে, দেশের সব বেসামরিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সীমান্তপথের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে আসবে। এর মাধ্যমে কোনো অঞ্চলই আর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবে না। এই ঘোষণা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে যুদ্ধপরবর্তী সিরিয়ায় কর্তৃত্বের কাঠামো নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এই সমঝোতাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, এটি অন্তর্ভুক্তি, পারস্পরিক সম্মান ও সব সম্প্রদায়ের মর্যাদার প্রতি সম্মিলিত অঙ্গীকারের প্রতিফলন।