সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট হিজ হাইনেস শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মস্কোতে বৈঠক করে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রাশিয়ায় শেখ মোহাম্মদের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে ক্রেমলিনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে শেখ মোহাম্মদ আশা প্রকাশ করেন, ২০২৬ সাল রাশিয়ার জন্য অগ্রগতি ও উন্নয়নের বছর হবে এবং একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে। আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, মহাকাশ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়, যা উভয় দেশের অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত।

কৌশলগত অংশীদারত্ব ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি
দুই নেতা বিভিন্ন খাতে কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার বিষয়ে অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা জানান। একই সঙ্গে তারা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। এই প্রসঙ্গে শেখ মোহাম্মদ বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মধ্যপ্রাচ্য প্রসঙ্গে আলোচনা
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হয়। দুই নেতা ন্যায়সঙ্গত ও সার্বিক শান্তির পথে স্পষ্ট অগ্রগতি নিশ্চিত করার জরুরি প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন। তারা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে সকলের জন্য স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
দীর্ঘস্থায়ী আস্থা ও অর্থনৈতিক চুক্তি
শেখ মোহাম্মদ বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও রাশিয়ার সম্পর্ক পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। তিনি টেকসই উন্নয়ন ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমিরাতের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন।

তিনি সাম্প্রতিক সময়ে স্বাক্ষরিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চুক্তির কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে একটি হলো গত আগস্টে স্বাক্ষরিত পরিষেবা ও বিনিয়োগ বাণিজ্য চুক্তি এবং অন্যটি হলো গত জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি। শেখ মোহাম্মদের মতে, এসব চুক্তি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।
মানবিক উদ্যোগ ও ইউক্রেন সংকট
শেখ মোহাম্মদ রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে বন্দি বিনিময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতামূলক উদ্যোগে সমর্থন দেওয়ার জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতা করতে পারাকে গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতেও গঠনমূলক সব প্রচেষ্টায় সহায়তার প্রস্তুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে পুতিন শেখ মোহাম্মদকে রাশিয়ায় স্বাগত জানান এবং ইউক্রেন সংকট সমাধানে কূটনৈতিক পথ অনুসন্ধানের লক্ষ্যে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় আলোচনার আয়োজন করার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বন্দি বিনিময়ে আমিরাতের ধারাবাহিক মধ্যস্থতার ভূমিকাকেও প্রশংসা করেন।

আনুষ্ঠানিকতা ও সফরের সমাপ্তি
বৈঠকের পর পুতিন শেখ মোহাম্মদ ও তাঁর সফরসঙ্গীদের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। আলোচনায় উভয় দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ক্রেমলিনে পৌঁছানোর সময় শেখ মোহাম্মদের জন্য আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়, যেখানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং গার্ড অব অনার ও অশ্বারোহী বাহিনী উপস্থিত ছিল।
সরকারি সফর শেষে শেখ মোহাম্মদ মস্কো ত্যাগ করেন। রুশ আকাশসীমা ছাড়ার সময় তাঁর বিমানকে সামরিক জেট বিমানের একটি দল সম্মানসূচক বিদায় জানায়।
এর আগে কয়েক দিন আগে শেখ মোহাম্মদ রাশিয়ার বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাবিষয়ক বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে দিমিত্রিয়েভ প্রেসিডেন্ট পুতিনের শুভেচ্ছা ও ইউক্রেন সংকট নিরসনে সংলাপ এগিয়ে নিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















