প্যারিসে ভ্যালেন্তিনোর স্প্রিং ২০২৬ হট কুতুর শো শুরু হয়েছিল এক ধরনের নীরব শোকের আবহে। রোমে ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেন্তিনো গারাভানির শেষকৃত্য সেরে আসা অনেক অতিথির চোখেমুখে তখনো আবেগের ছাপ। সেই গাম্ভীর্যের ভেতরেই আচমকা নাটকীয়তার ঝলক এনে দেন সৃজনশীল পরিচালক আলেসান্দ্রো মিকেলে। সীমাবদ্ধতাকেই হাতিয়ার বানিয়ে তিনি তৈরি করেন এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা, যেখানে আলো, শব্দ আর দৃষ্টির নিয়ন্ত্রিত খেলায় বদলে যায় ফ্যাশন শোর চেনা ভাষা।
অন্ধকারে বসানো অতিথিরা
শোতে আসা বিশেষ অতিথিদের প্রায় অন্ধকারের ভেতর দিয়ে নিজেদের আসনে নিয়ে যাওয়া হয়। কোনো রাজকীয় চেয়ার নয়, ছোট সাধারণ টুল, তার সামনে গোলাকার কাঠামো। প্রতিটি কাঠামোয় ছিল ছোট জানালার মতো ফাঁক, যেন উঁকি দেওয়ার অনুভূতি। আলো জ্বলার সঙ্গে সঙ্গে শাস্ত্রীয় সুর ভেঙে ঢুকে পড়ে কুকুরের ঘেউ ঘেউয়ের শব্দ। সেই অস্বস্তিকর শব্দের ভেতর কাচের পেছনে মডেলরা হাজির হন, যেন প্রদর্শনীর পুতুল। দর্শক পুরো পোশাক নয়, কখনো শুধু মুখ, কখনো কাঁধ, কখনো কাপড়ের ঝিলিক দেখেন। দৃষ্টি এখানে ছিল নিয়ন্ত্রিত, বাছাই করা।
মঞ্চ ও পরিবেশের ভাবনা
সাদা, পরিষ্কার, প্রায় হাসপাতালের মতো পরিবেশ শোটিকে আরও শীতল করে তোলে। মার্জিত সুরের পর হঠাৎ হিংস্র পশুর শব্দ দর্শকদের মানসিকভাবে নড়বড়ে করে দেয়। অতিরঞ্জনের জন্য পরিচিত আলেসান্দ্রো মিকেলে এবার উল্টো পথে হেঁটে কম দেখিয়ে বেশি বলার চেষ্টা করেন। পুরো কক্ষে জাঁকজমক ছড়িয়ে না দিয়ে তিনি তা মেপে ব্যবহার করেন, আর সেটাই হয়ে ওঠে শোর মূল আকর্ষণ।
পোশাকের ঝলক ও সীমাবদ্ধতা
পোশাকে ছিল ঝলমলে আলো, রত্নখচিত অলংকার, সোনালি কলার আর কিছুটা সার্কাসের আবহ। বড় হাতা, ফুলে ওঠা স্কার্ট, আলো ধরলে ঝিকমিক করা কাপড় ভ্যালেন্তিনোর চেনা ছাপ মনে করিয়ে দেয়। কিছু পোশাক মানবদেহকে ছাপিয়ে বিশাল হয়ে উঠেছিল, যা চোখে লেগে থাকার মতো। তবে যিনি অতিরিক্ততার জন্য পরিচিত, তাঁর কাছ থেকে অনেকের প্রত্যাশা ছিল আরও সাহসী কিছু। এই সংগ্রহে অনেক জায়গায় ছিল সতর্কতা, যেন সীমা পরীক্ষা চলছে, পুরো ভাঙন নয়।
তারকাখচিত সামনের সারি
ডাকোটা জনসন, কির্স্টেন ডানস্ট, এলটন জনসহ অসংখ্য পরিচিত মুখে ভরে ওঠে সামনের সারি। বিশ্বজুড়ে পরিচিত ব্র্যান্ড দূত আর ফ্যাশনের প্রভাবশালীরা মিলিয়ে পুরো ঘরের আবহ বলছিল, এটি শুধু শো নয়, বড় ঘটনা। উপস্থিতির ভারেই বোঝা যাচ্ছিল ভ্যালেন্তিনোর জন্য এই মুহূর্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
এক যুগের সমাপ্তি, নতুন সুরের খোঁজ
রোম থেকে প্যারিসে এসে এই শোকে ফ্যাশন জগতের অনেকেই আবেগাপ্লুত। সমালোচকদের মতে, এটি শুধু একটি সংগ্রহ নয়, একটি যুগের শেষের অনুভূতি। ভ্যালেন্তিনো এমন এক নকশাকার ছিলেন, যাঁকে সাধারণ মানুষও বুঝতে পারতেন, যাঁর সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন অগণিত পরিচিত মুখ। সেই অধ্যায়ের পর আলেসান্দ্রো মিকেলের এই কাজ যেন নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যেখানে তিনি ভ্যালেন্তিনোর ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে নিজের কণ্ঠ খুঁজে দেখছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















